Bnanews24.com
Home » বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২০
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২০

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় উগ্রবাদী সেনা সদস্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে।হত্যাকারিরা ক্ষমতাসীন হয়ে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ ইনডেমনিটি ‘ অডিন্যান্স জারি করে। যা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সেটিকে আইনে পরিণত করেন। হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে  ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ।

বাতিল করে ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’। এরপর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালত ১৮ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আসামিরা আপিল করেন। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় প্রকাশ হয়। পরে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা মামলার বিচার হয়েছিল তা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা! বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি(বিএনএ) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে।

আজ প্রকাশিত হল পর্ব-২০

শেখ নাসের ঐ বাথরুমে আসার আগে তাহার হাতে গুলি লাগে। তাহার হাত হইতে তখন রক্ত ঝরিতেছিল। বেগম মুজিব শাড়ীর আচল ছিড়িয়া তাহার রক্ত মোছে। ইহার পর আর্মিরা আবার দোতলায় আসে এবং দরজা পিটাইতে থাকিলে বেগম মুজিব দরজা খুলিতে যাইবার সময় বলেন, “মরিলে সবাই একই সাথে মরিব”- এই বলিয়া বেগম মুজিব দরজা খুলিলে আর্মিরা রুমের ভিতর ঢুকিয়া শেখ নাসের, শেখ রাসেল, বেগম মুজিব এবং তাহাকে নীচের দিকে নিতেছিল। সিড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখিয়া বেগম মুজিব বলেন, আমি নামব না, আমাকে এখানেই মেরে ফেল”।

এই কথার পর আর্মিরা তাহাকে দোতলায় তাহার রুমের দিকে নিয়া যায়। একটু পরেই রুমে গুলির শব্দসহ মেয়েদের আর্তচিৎকার শুনিতে পান। আর্মিরা শেখ নাসের, শেখ রাসেল ও তাহাদের নীচের তলায় আনিয়া লাইনে দাঁড় করায়। সেখানে সাদা পোষাকের একজন পুলিশের লাশ দেখে। নীচে শেখ নাসেরকে লক্ষ্য করিয়া জিজ্ঞাসা করে “তুমি কে?” তিনি শেখ নাসের বলিয়া পরিচয় দিলে তাহাকে নীচ তলায় বাথরুমে নিয়া যায়। একটু পরেই ঐ বাথরুমে গুলির শব্দ এবং ‘মাগো’ বলিয়া আর্তচিৎকার শুনিতে পান। শেখ রাসেল মার কাছে যাবে বলিয়া তখন কান্নাকাটি করিতেছিল এবং মহিতুল ইসলামকে ধরিয়া বলিতেছিল, ভাই আমাকে মারবে নাতো? তখন একজন আর্মি তাহাকে বলিল, “চল, তোমাকে মায়ের কাছে নিয়া যাই”।

এই বলিয়া তাহাকে দোতলায় নিয়া যায়। একটু পরেই দোতলায় কয়েকটি গুলির শব্দ ও আর্তচিৎকার শুনিতে পান। লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় সেলিমের(আবদুল) হাতে এবং পেটে দুইটি গুলির জখম এবং ডি.এস.পি. নুরুল ইসলাম ও পি.এ. মহিতুল ইসলামকে আহত দেখে। ইহার পর বাসার সামনে একটি ট্যাঙ্ক আসে। ট্যাঙ্ক হইতে আর্মিরা নামিয়া ভিতরে আর্মিদের জিজ্ঞাসা করে “ভিতরে কে আছে?” ভিতরের আর্মিরা বলে, ‘All are finished’ অনুমান ১২টার দিকে তাহাকে ছাড়িয়া দিলে তিনি প্রাণভয়ে তাহার গ্রামের বাড়ী টুংগীপাড়া চলিয়া যান।

তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী।(চলবে)

আরও পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৯

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৮

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৭

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৬

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৫
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১০

গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা, সম্পাদনায়: এইচ চৌধুরী