Bnanews24.com
Home » বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৬
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৬

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় উগ্রবাদী সেনা সদস্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে।হত্যাকারিরা ক্ষমতাসীন হয়ে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ ইনডেমনিটি ‘ অডিন্যান্স জারি করে। যা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সেটিকে আইনে পরিণত করেন। হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে  ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ।

বাতিল করে ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’। এরপর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালত ১৮ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আসামিরা আপিল করেন। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় প্রকাশ হয়। পরে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা মামলার বিচার হয়েছিল তা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা! বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি(বিএনএ) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে।

আজ প্রকাশিত হল পর্ব-১৬

১নং সাক্ষী মুহিতুল ইসলাম বলেন, ১৯৭২ সনের ১৩ই ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে সহকারী হিসাবে চাকুরীতে যোগদান করেন। ১৯৭৪ সনের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেসিডেন্ট, পি.এ.- কাম রিসিপশনিস্ট ছিলেন। ১৯৭৫ সনের ১৪ই আগস্ট দিবাগত রাত্র ৮টা হইতে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত তাহার ডিউটি ছিল। যথাসময়ে ডিউটিতে আসিয়া পুলিশের ডি.এস.পি. নুরুল ইসলাম খান, ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলম, স্পেশাল ব্রাঞ্চের একজন পুলিশ অফিসার, পুলিশের অন্যান্য পদের লোক ও সেনাবাহিনীর কয়েকজন গার্ডকে ডিউটিতে দেখে। রাত ১টার সময় টেলিফোন মিস্ত্রী আবদুল মতিন তাহাকে ধাক্কা দিয়া ঘুম হইতে উঠাইয়া বলে “রাষ্ট্রপতি আপনাকে টেলিফোনে ডাকিতেছে”। তখন ভোর ৪টা/৫টা হইবে। চারিদিকে ফর্সা হইয়া গিয়াছে। বাড়ীর চারিদিকে বৈদ্যুতিক আলোও জ্বলিতেছিল। তাড়াতাড়ি গিয়া টেলিফোন ধরিলে রাষ্ট্রপতি দোতলা হইতে বলিলেন “সেরনিয়াবতের বাসায় দুষ্কৃতিকারীরা আক্রমণ করিয়াছে”। জলদি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে টেলিফোন লাগা। নির্দেশমত টেলিফোন লাগাইয়াও লাইন পাইতেছিল না। ঠিক তখন রাষ্ট্রপতি দোতলা হইতে আসিয়া বলিলেন “পুলিশ কন্ট্রোলরুমে লাগাতে বললাম লাগালি না? জবাবে বলিলেন “চেষ্টা করিতেছি, লাইন পাইতেছি না”। এই সময় গণভবন এক্সচেঞ্জের লাইন পাওয়া গেলেও কেহ উত্তর দেয় না। রাষ্ট্রপতি তাহার হাত হইতে টেলিফোন নিয়া বলিলেন “আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি।” ঠিক ঐ সময় একঝাক গুলি দক্ষিণ দিকের জানালার কাঁচ ভাঙ্গিয়া অফিস কক্ষে ও দেওয়ালে লাগে। অন্য ফোনে চীফ সিকিউরিটি অফিসার মহিউদ্দীনের ফোন ধরিল ঐ জানালা দিয়া অনর্গল গুলি আসে এবং ভাঙ্গা কাঁচে তাহার ডান হাতের কনুই কাটিয়া রক্ত ঝরিতে থাকে। কিছুক্ষণ পর গুলি বন্ধ হইলে কাজের ছেলে আবদুল ওরফে সেলিম উপর হইতে পাঞ্জাবী/চশমা আনিয়া দিলে বঙ্গবন্ধু ঐ পাঞ্জাবী/চশমা পরিয়া বারান্দায় আসিয়া “আর্মি সেন্ট্রি, পুলিশ সেন্ট্রি, এত গুলি হইতেছে তোমরা কি কর?” এই বলিয়া উপরে চলিয়া যান। তারপর শেখ কামাল উপর হইতে আসিয়া বলেন “আর্মি ও পুলিশ ভাই, আপনারা আমার সাথে আসেন” তখন ৩/৪ জন কালো ও খাকী পোষাকধারী সশস্ত্র আর্মি আসিয়া খাকী পোষাকধারী মেজর হুদা শেখ কামালের পায়ে গুলি করে। শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল বলিয়া পরিচয় দিলে সাথে সাথে শেখ কামালকে ব্রাশ ফায়ার করিয়া হত্যা করে। (১ম কিস্তি)

তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী।(চলবে)

আরও পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৫
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১০

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৯

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৮

গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা, সম্পাদনায়: এইচ চৌধুরী