Bnanews24.com
Home » বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৯
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৯

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় উগ্রবাদী সেনা সদস্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে।হত্যাকারিরা ক্ষমতাসীন হয়ে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ ইনডেমনিটি ‘ অডিন্যান্স জারি করে। যা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সেটিকে আইনে পরিণত করেন। হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে  ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ।

বাতিল করে ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’। এরপর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালত ১৮ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আসামিরা আপিল করেন। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় প্রকাশ হয়। পরে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা মামলার বিচার হয়েছিল তা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা! বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি(বিএনএ) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে।

আজ প্রকাশিত হল পর্ব-১৯

প্রসিকিউশনের ২নং সাক্ষী রহমান (রমা) বলেন, ১৯৬৯ সনে কাজের লোক হিসাবে বঙ্গবন্ধুর বাড়ীতে আসে। ঘটনার রাতে তিনি ও সেলিম(আবদুল) দোতলায় বঙ্গবন্ধুর বেড রুমের সামনে বারান্দায় ঘুমাইয়াছিলেন। আনুমানিক ভোর পাঁচটার দিকে হঠাৎ বেগম মুজিব দরজা খুলিয়া বাহিরে আসিয়া বলেন, দুষ্কৃতিকারীরা সেরনিয়াবতের বাসা আক্রমণ করিয়াছে।

বেগম মুজিবের কথা শুনিয়া তিনি তাড়াতাড়ি লেকের পাড়ে যাইয়া দেখেন কিছু আর্মি গুলি করিতে করিতে তাহাদের বাড়ীর দিকে আসিতেছে। তখন আবার বাসায় আসিয়া বঙ্গবন্ধুকে পি.এ. রিসিপশনিস্টের রুমে কথা বলিতে দেখে। দোতলায় আসিয়া বেগম মুজিবকে ছুটাছুটি করিতে দেখে। তিন তলায় গিয়া আর্মিরা বাসা আক্রমণ করিয়াছে বলিয়া শেখ কামালকে উঠায়। কামাল তাড়াতাড়ি একটা প্যান্ট ও শার্ট পড়িয়া নীচের দিকে যান। তাহার স্ত্রী সুলতানা দোতলায় আসে। দোতলায় গিয়া একইভাবে আর্মিরা বাসা আক্রমণ করিয়াছে বলিয়া শেখ জামালকে উঠায়। শেখ জামালও তাড়াতাড়ি প্যান্ট ও শার্ট পড়িয়া তাহার মার রুমে যায়। সাথে তাহার স্ত্রীও যায়। তখন খুব গোলাগুলি হইতেছিল। এই পর্যায়ে শেখ কামালের আর্তচিৎকার শুনিতে পান। তৎপূর্বে বঙ্গবন্ধু দোতলায় আসিয়া রুমে ঢুকিয়া দরজা বন্ধ করে দেন। প্রচণ্ড গোলাগুলি এক সময় বন্ধ হইলে বঙ্গবন্ধু দরজা খুলিয়া বাহিরে আসিলে আর্মিরা তাহার বেডরুমের সামনে চারপাশে তাহাকে ঘিরিয়া ফেলে।

আর্মিদের লক্ষ্য করিয়া বঙ্গবন্ধু বলেন “তোরা কি চাস, কোথায় নিয়া যাবি আমাকে” – তাহারা বঙ্গবন্ধুকে তখন সিড়ির দিকে নিয়া যাইতেছিল। সিড়ির দুই/তিন ধাপ নামার পর নীচের দিক হইতে আর্মিরা বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে। গুলি খাইয়া সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু সিড়িতে লুটাইয়া পড়ে। আর্মিরা তাহাকে জিজ্ঞাসা করে “তুমি কি কর, আমি বলি আমি কাজ করি”। আর্মিরা তখন তাহাকে ভিতরে যাইতে বলে। তিনি বেগম মুজিবের রুমের বাথরুমে গিয়া আশ্রয় লয়। সেখানে বেগম মুজিবকে বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে গুলি করিয়াছে”। ঐ বাথরুমে শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা, শেখ জামাল ও তাহার স্ত্রী রোজী, শেখ রাসেল, বেগম মুজিব, ও বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরও ছিল।

তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী।(চলবে)

আরও পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৮

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৭

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৬

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৫
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১০

গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা, সম্পাদনায়: এইচ চৌধুরী