Bnanews24.com
Home » বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৮
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৮

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় উগ্রবাদী সেনা সদস্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে।হত্যাকারিরা ক্ষমতাসীন হয়ে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ ইনডেমনিটি ‘ অডিন্যান্স জারি করে। যা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সেটিকে আইনে পরিণত করেন। হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে  ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ।

বাতিল করে ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’। এরপর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালত ১৮ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আসামিরা আপিল করেন। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় প্রকাশ হয়। পরে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা মামলার বিচার হয়েছিল তা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা! বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি(বিএনএ) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে।

আজ প্রকাশিত হল পর্ব-১৮

৩য় কিস্তি
ঐ সময় বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে দিয়া কালো পোষাকধারী আর্মির লোক ট্যাংকে যাতায়াত করে। সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে কর্ণেল জামিলের মৃতদেহ তাহারাই গাড়িতে করিয়া আর্মির লোকেরা বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ভিতরে নিয়া আসে। তখন মেজর ডালিমকে খাকী পোষাকে গেটে অবস্থানরত আর্মিদের সহিত কথা বলিতে দেখে। ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগস্ট ধানমন্ডি ৩২নং রোডস্থ ৬৭৭নং বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বেগম মুজিব, বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের, ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের একজন অফিসারকে গুলি করিয়া নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেজর ফারুক, মেজর ডালিম, মেজর নুর, মেজর হুদাকে ঘটনার সময় ও ঘটনার পরে ধানমন্ডি ৩২নং রোডস্থ ৬৭৭নং বাসভবনে দেখিয়াছি। তাছাড়া তিনি ১৯৭৩ সনে একদিন যশোর হইতে আসিতেছিলেন।

ঐদিন মেজর হুদাও কুষ্টিয়া হইতে আসিতেছিলেন। আরিচা ঘাটে তাহার সাথে পরিচয় হয়। ফেনীতে এক টেবিলে বসিয়া খাবার খায়। পরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে নিরাপত্তার ডিউটি ফোর্সকে দেখাশুনার জন্য আসিতেন, তখনও কথাবার্তা হইত। এইভাবে তাহাকে চিনতেন।

মেজর নুর জেনারেল ওসমানী সাহেবের এ.ডি.সি. ছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি কলিকাতায় ১২নং থিয়েটার রোডে ওসমানী সাহেবের অফিসে যাইতেন। সেখানে মেজর নুরের সহিত পরিচয় হয়। শেখ কামালের বন্ধু হিসেবেও মেজর নুর বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আসিতেন।

ঘটনার আগে মেজর ডালিম অনেকবার বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আসিয়াছিলেন। সেই সুবাদে সবাই তাহাকে দেখিয়াছে ও চিনিয়াছে। মেজর ফারুক ঘটনার সহিত জড়িত থাকার কথা বহু লোকের নিকট শুনিয়াছে। বিভিন্ন আলোচনাকালে দেশী-বিদেশী পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, বই পুস্তক পড়িয়া জানিতে পারে যে, খন্দকার মোস্তাক, তাহের উদ্দীন ঠাকুর, মেজর রশিদ, মেজর পাশা, মেজর শরিফুল হোসেন, মেজর শাহরিয়ার, মেজর রাশেদ চৌধুরী, মেজর মহিউদ্দীন, ক্যাপ্টেন কিসমত, রিসালদার মোসলেহউদ্দীনসহ সাজোয়া, গোলন্দাজ অন্যান্য বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সৈনিক উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইয়া রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তাহার পরিবারবর্গকে ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করে। প্রেসিডেন্ট ও তাহার পরিবারবর্গকে ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করে।
তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী।(চলবে)

আরও পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৫
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১০

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৯

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৮

গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা, সম্পাদনায়: এইচ চৌধুরী