Bnanews24.com
Home » বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৩
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় উগ্রবাদী সেনা সদস্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে।হত্যাকারিরা ক্ষমতাসীন হয়ে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ ইনডেমনিটি ‘ অডিন্যান্স জারি করে। যা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সেটিকে আইনে পরিণত করেন। হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে  ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ।

বাতিল করে ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’। এরপর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালত ১৮ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আসামিরা আপিল করেন। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় প্রকাশ হয়। পরে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা মামলার বিচার হয়েছিল তা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা! বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি(বিএনএ) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে।

আজ প্রকাশিত হল পর্ব-২

এমন সময় দক্ষিণে লেকের দিক হইতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে লাগাতার গুলি আসিতে থাকে। তখন তাহার গার্ড দলসহ দেওয়ালে লাইন পজিশনে যায়। গুলি বন্ধ হওয়ার পর পাল্টা গুলি করার জন্য পূর্ববর্তী গার্ড কমান্ডারের নিকট গুলি খোঁজাখুঁজি করিতে থাকে। তখন কালো ও খাকী পোষাকধারী সৈনিকরা ‘হ্যান্ডস আপ’ বলিতে বলিতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ঢুকিয়া পড়ে। ক্যাপ্টেন হুদা, মেজর নূর ও মেজর মহিউদ্দীন(ল্যান্সার)কে গেইটে দেখে।

বাসভবনের বারান্দায় শেখ কামালকে দেখিয়াই ক্যাপ্টেন হুদা হাতের স্টেনগান দ্বারা শেখ কামালের পরিচয় দিলে ক্যাপ্টেন হুদা তাহাকে গুলি করিয়া হত্যা করে। ইহার পর ক্যাপ্টেন হুদা ও মেজর নুর, পুলিশ ও কাজের লোকদেরকে গেইটের সামনে লাইনে দাঁড় করায়। মেজর মহিউদ্দীন তার ল্যান্সারের ফোর্স লইয়া গুলি করিতে করিতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের দোতলার দিকে যায়। পরে ক্যাপ্টেন হুদা ও মেজর নূর কয়েকজন ফোর্স লইয়া দোতলার দিকে যায়। যাইবার সময় তাহাদেরকেও পিছনে পিছনে যাইতে হুকুম দেয়। ক্যাপ্টেন হুদা ও মেজর নূর সিঁড়ির চৌকির উপরে গেলে মেজর মহিউদ্দীন ও তাহার ফোর্স বঙ্গবন্ধুকে নীচের দিকে নামাইয়া আনিতে দেখে। তখন মেজর নূর ইংরেজীতে কিছু বলিলে মেজর মহিউদ্দীন তার ফোর্সসহ একপাশে চলিয়া যায়। এই সময় বঙ্গবন্ধু বলেন, “তোরা কি চাস”? এরপর ক্যাপ্টেন হুদা এবং মেজর নূর হাতের স্টেনগান দ্বারা বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে।

সাথে সাথে তিনি সিঁড়ির মধ্যে পড়িয়া মৃত্যুবরণ করেন। কিছুক্ষণ পর মেজর আজিজ পাশা, রিসালদার মোসলেমউদ্দীন এবং ল্যান্সার ও আর্টিলারির ফোর্স গেইটের সামনে আসে। মেজর আজিজ পাশা তাহার ফোর্স লইয়া বাড়ীর দোতলার দিকে যায়। তিনিও পিছনে পিছনে গিয়া দোতলায় সুবেদার মেজর আব্দুল ওহাব জোয়ারদারকে দেখে মেজর আজিজ পাশা তাহার ফোর্স লইয়া দোতলায় গেলে বেগম মুজিব রুমের ভিতরে থাকা লোকদের না মারার জন্য আকুতি মিনতি করেন। কিন্তু তাহার কথা না শুনিয়া একদল ফোর্স বেগম মুজিব, শেখ রাসেল, শেখ নাসের ও বাড়ীর একজন চাকরকে রুম হইতে বাহির করিয়া আনে। বেগম মুজিব সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখিয়া কান্নায় ভাঙ্গিয়া পড়েন। তখন বেগম মুজিবকে পুনরায় বঙ্গবন্ধুর বেডরুমে নিয়া যায় এবং শেখ রাসেল, শেখ নাসের ও চাকরটাকে নীচে নিয়া যায়।

তারপর মেজর আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেমউদ্দীন হাতে থাকা স্টেনগান দ্বারা বঙ্গবন্ধুর বেডরুমে থাকা বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ জামালের স্ত্রী ও শেখ কামালের স্ত্রীকে গুলি করিয়া হত্যা করিয়া নীচে চলিয়া যায়। তিনিও তাহাদের পিছনে পিছনে আসিয়া রিসিপশনের বাথরুমের মধ্যে গুলিবিদ্ধ শেখ নাসেরের লাশ দেখেন।
তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী(চলবে)

তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী।(চলবে)

আরও পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২০

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৯

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৮

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৭

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৬

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৫
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৪

গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা, সম্পাদনায়: এইচ চৌধুরী