Bnanews24.com
Home » বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৫
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় সব খবর

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৫

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় উগ্রবাদী সেনা সদস্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে।হত্যাকারিরা ক্ষমতাসীন হয়ে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ ইনডেমনিটি ‘ অডিন্যান্স জারি করে। যা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সেটিকে আইনে পরিণত করেন। হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে  ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ।

বাতিল করে ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’। এরপর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালত ১৮ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আসামিরা আপিল করেন। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় প্রকাশ হয়। পরে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা মামলার বিচার হয়েছিল তা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা! বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি(বিএনএ) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে।

আজ প্রকাশিত হল পর্ব-২৫

প্রসিকিউশনের ৫নং সাক্ষী সুবেদার গণি বলেন, কুমিল্লা ১ ফিল্ড আর্টিলারিতে মেজর ডালিম ও ক্যাপ্টেন হুদা তাহাদের অফিসার ছিলেন। কিছুদিন পরে মেজর ডালিমের চাকুরী চলে যায়। ক্যাপ্টেন হুদা ঢাকায় বদলী হইয়া আসে।
১৯৭৫ সনের জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ক্যাপ্টেন বাশারের নেতৃত্বে ঢাকায় গণভবনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে নিরাপত্তা ডিউটির জন্য তাহাদের রেজিমেন্টের ১০৫/১০৬ জনের এক কোম্পানী ফোর্স ঢাকায় বদলী করা হয়। আগস্টের ১/২ তারিখ হইতে তাহারা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ডিউটি করিতে থাকে, ডিউটি শেষে ধানমন্ডির ৩১নং রোডস্থ একটি বাড়ীতে অবস্থান করিত।

একদলে হাবিলদার কুদ্দুস এবং অপর দলে তিনি গার্ড কমান্ডার ছিলেন। ১৪ই আগস্ট সকাল ৬টা হইতে ডিউটি করিতে থাকাবস্থায় বিকাল অনুমান ৪টার সময় তাহাদের পূর্বের কমান্ডিং অফিসার ডালিমকে মোটর সাইকেল যোগে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে ঘুরা-ফিরা করিতে দেখে। ঐদিন বিকাল অনুমান ৫.৩০টার সময় তাদের পূর্বের এ্যাডজুডেন্ট ক্যাপ্টেন হুদাকে মোটর সাইকেল যোগে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে দিয়া যাইতে দেখে। ১৫ই আগস্ট ভোর অনুমান সোয়া ৪টার দিকে তাহাদের রেজিমেন্টের সুবেদার মেজর আব্দুল ওহাব জোয়ারদার আসিয়া তাহাদের গার্ড চেক করেন। তারপরে তিনি বলেন,“তোমাদের পুরাতন গুলি দিয়া দাও, আমি নূতন গুলি দিতেছি”-এই বলিয়া পুরাতন গুলি নিয়া গাড়ীতে উঠাইয়া চলিয়া যায়। কিন্তু পরিবর্তে নূতন গুলি দিলেন না। তিনি যাবার পর অনুমান পৌনে ৫টার সময় হাবিলদার কুদ্দুস তাহার গার্ড দল নিয়া ডিউটির জন্য আসিলে সুবেদার মেজর আবদুল ওহাব জোয়ারদার গুলি লইয়া যাইবার কথা বলিয়া তাহাকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য বলে।

পতাকা উত্তোলনের শেষ পর্যায়ে দক্ষিণ দিক হইতে প্রচণ্ড গুলি আসিতে থাকে। ৫/৭ মিনিট পর গুলি বন্ধ হইলে রুম হইতে বাহিরে দেখে ক্যাপ্টেন হুদা, ও মেজর নূর হাতে স্টেনগান এবং ৭/৮ জন খাকী ও কালো পোষাকধারী ফোর্স হাতে রাইফেলসহ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে গাড়ী হইতে নামে। তাহাকে দেখিয়া ক্যাপ্টেন হুদা বলেন, “কি গণি, কি খবর।” তারপর তিনি ওয়ারলেসে কথা বলিতে থাকেন। কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ল্যান্সারের মেজর মহিউদ্দীন কিছু ফোর্সসহ পূর্বদিক হইতে দ্রুত পায়ে হাটিয়া বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে আসিয়া হ্যান্ডস আপ, হ্যান্ডস আপ বলিয়া গুলি করিতে করিতে বাসভবনের ভিতরে ঢোকে। তখন সেন্ট্রিসহ তিনি দক্ষিণ দিকে গার্ড রুমে চলিয়া যান। ল্যান্সারের কিছু ফোর্স সকাল ৭টা পর্যন্ত তাহাদের ৭ জনকে গার্ড রুমে ঘেরাও করিয়া রাখে।

সোহরাব নামে একজন গার্ড ভিতরে ছিল। গার্ড রুম হইতে কিছুক্ষণ পর পর বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গুলির শব্দ ও মহিলাদের আর্তচিৎকার শোনে। সকাল ৭টার পর ল্যান্সারের ফোর্স চলিয়া গেলে তিনি গার্ড রুম হইতে বাহির হইয়া পেট্রোল ডিউটির সিপাহী সামশুর গুলিবিদ্ধ লাশ ও অপর একজনকে আহত দেখে। বাসভবনের ভিতরে গিয়া দেখে বঙ্গবন্ধুসহ সকলকে গুলি করিয়া হত্যা করা হইয়াছে। তারপর তাহার গার্ড দল লইয়া ৩১নং রোডের বাড়ীতে চলিয়া যায়। এদিকে হাবিলদার কুদ্দুস তাহার গার্ড দল লইয়া বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ডিউটি করিতে থাকে।

তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী পৃষ্ঠা নং-৪৫ (চলবে)

আরও পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২০

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৯

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৮

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৭

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৬

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৫
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-১৪

গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা, সম্পাদনায়: এইচ চৌধুরী