Bnanews24.com
Home » বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৭
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৭

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় উগ্রবাদী সেনা সদস্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে।হত্যাকারিরা ক্ষমতাসীন হয়ে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ ইনডেমনিটি ‘ অডিন্যান্স জারি করে। যা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সেটিকে আইনে পরিণত করেন। হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে  ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ।

বাতিল করে ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’। এরপর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালত ১৮ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আসামিরা আপিল করেন। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় প্রকাশ হয়। পরে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা মামলার বিচার হয়েছিল তা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা! বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি(বিএনএ) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে।

আজ প্রকাশিত হল পর্ব-২৭

প্রসিকিউশনের ৩৩নং সাক্ষী হাবিলদার সেলিমউদ্দীন বলেন, ১৯৭৫ সনের জুলাই মাসে ২৭/২৮ তারিখে কুমিল্লা ১ম ফিল্ড আর্টিলারীর ক্যাপ্টেন বাশারের নেতৃত্বে তাহারা ১০৫ জন ফোর্স গণভবন ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে নিরাপত্তা ডিউটিতে আসে। ১৪ই আগস্ট বিকাল ৫.৩০টায় ধানমন্ডির ৩২নং রোডস্থ বঙ্গবন্ধুর ৬৭৭নং বাড়ির চতুরপাশে পেট্রোল ডিউটি করার জন্য ৬ জন সিপাহীসহ তাহাকে পাঠায়। তাহাদের কাছে এস.এল.আর. ছিল। ১৪ই আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা হইতে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত তাহাদের ডিউটি ছিল। তখন গণির নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে নিরাপত্তা ডিউটি চলিতেছিল। তিনি পালাক্রমে রাত্র ১১টা পর্যন্ত ডিউটি করিয়া পরবর্তী সিপাহীদেরকে পালাক্রমে ডিউটি করার নির্দেশ দিয়া দক্ষিণ দিকের সেডে ঘুমাইয়া পড়েন। তারপর হাবিলদার গণি কোথায় ছিল বলিতে পারে না।

১৫ই আগস্ট সকাল অনুমান পৌনে ৫টার সময় হালকা হাতিয়ারের গুলির আওয়াজ শুনিয়া তড়িৎ গতিতে ৪ জন সিপাহীসহ বাহিরে আসে। তখন পেট্রোলরত ২জন সিপাহী দৌড়াইয়া আসিয়া তাহাকে বলে, “ট্যাংকের আওয়াজ হইতেছে ফায়ারিং- এর শব্দ শোনা যাইতেছে।” ঠিক সেই মুহূর্তে আর্টিলারির কামানের গোলা আসিয়া তাহাদের আস্তানায় ১৫/২০ গজ পূর্বদিকে বার্স্ট হয়। গোলার টুকরা তাহাদের ৪ জনকে আহত করে ফলে সিপাহী সামসু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। সিপাহী মোফাজ্জল গুরুতর এবং অন্য ২ জন সামান্য আহত হয়। তখন ফায়ারিং চলিতেছিল। তিনি জ্ঞান হারাইয়া ফেলেন। ৭.৩০/৮ টার সময় জ্ঞান ফিরিলে নিজেকে গণভবনের ব্যারাকে শোয়া অবস্থায় দেখে। তখন জানিতে পারে যে, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হইয়াছে।

তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী পৃষ্ঠা নং-৪৭ (চলবে)

আরও পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৫

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২০

গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা, সম্পাদনায়: এইচ চৌধুরী