32 C
আবহাওয়া
৬:০১ অপরাহ্ণ - এপ্রিল ২২, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » সংসদে শাহজাহান চৌধুরীর ‘পা’ কাটার অভিযোগ!

সংসদে শাহজাহান চৌধুরীর ‘পা’ কাটার অভিযোগ!


বিএনএ, ডেস্ক : চট্টগ্রামের সিটি কলেজের একটি গ্রাফিতিতে আগে থেকে লেখা ছিল— ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। অভিযোগ উঠেছে, গত ২০ এপ্রিল রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতার নেতৃত্বে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়া হয়। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং অনলাইনে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে । ২১ এপ্রিল সকালে এই ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ক্যাম্পাসে বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজের আভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নিউ মার্কেট এলাকা থেকে শিবিরের একটি বিক্ষোভ মিছিল কলেজের দিকে গেলে আবারও সংঘর্ষ হয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপি এই সংঘর্ষে আইচ ফ্যাক্টরি রোড, নিউমার্কেট ও কালী বাড়ি এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উভয় পক্ষকে কিরিচ, লাঠি ও ইট পাটকেল ব্যবহার করতে দেখা যায়।

YouTube player

এই ঘটনার ঢেউ আছড়ে পড়েছে জাতীয় সংসদে। সিটি কলেজে একটি ছাত্রসংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে একজনের একটি পা কেটে নিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। পয়েন্ট অব অর্ডারে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, নিউমার্কেটে গত ২৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশে যারা আক্রমণ করেছিল, তারাই সিটি কলেজে আক্রমণ করেছে।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘এই অপরাধীদের নামে মামলাও আছে। চট্টগ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য, সিটি কলেজের ছাত্র নামধারী পার্শ্ববর্তী এলাকার অস্ত্রধারীরা, যাদের নামে মামলা আছে, তারা সাধারণ ছাত্রদের ওপর আক্রমণ করে একটি পা কেটে নিল।’ এ ব্যাপারটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষভাবে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

এ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাননীয় সদস্যেরও উচিত না- কোনো তদন্ত ছাড়া একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ হয়েছে ইত্যাদি বলা। উনি নোটিশ দিলেও আমাকে সময় দিতে হবে, আমি ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেব।’

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। মিছিলে ছাত্রদল ‘জামাত-শিবির, জামাত-শিবির, গুপ্ত-গুপ্ত’, ‘জামাত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করে ।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, “বাংলাদেশের কোনও ক্যাম্পাসে যদি আপনারা এই ধরনের কোনও হামলার পুনরাবৃত্তি করতে চান, কোনও ক্যাম্পাসে যদি আপনারা দুঃসাহস দেখান তাহলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে শিবিরকে স্বাভাবিকভাবে চলতে ফিরতে দেবেনা।”

নাসির অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামে একাধিকবার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে শিবির। তিনি বলেন, “তারা মুনাফেকি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করে, যার প্রমাণ আমরা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেখেছি।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভবিষ্যতে কোনও ক্যাম্পাসে এই ধরনের হামলার চেষ্টা করা হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তা প্রতিরোধ করবে।” সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসী রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

ছাত্রদলের এই নেতা শিবিরের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন এবং সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত নেতাদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ‘নেগেটিভ ন্যারেটিভ’ তৈরি করে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা করে বলে অভিযোগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাবি কমিটির সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, “এটা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভাইয়ের সরকার না, এটা বাংলাদেশে ৩১ দফা কর্মসূচি প্রণয়নকারী দেশনায়ক তারেক রহমানের সরকার।”

ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের অব্যাহত সন্ত্রাস, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন এবং চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ছাত্রশিবিরের জনশক্তির ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ দাওয়াতি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে আমাদের গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন এবং শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির স্মরণে দেয়ালচিত্র অঙ্কন করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের ব্যানার-ফেস্টুনগুলো ছিঁড়ে ফেলেছে এবং জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি সম্বলিত গ্রাফিতিগুলো মুছে দিয়ে সেখানে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করছে। তারা জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে না বলেই এই ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।’

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নতুন সমীকরণে শিবির এবং ছাত্রদলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব নিয়মিত বিরতিতে সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এর আগে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন স্থানেও উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে। চট্টগ্রামে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে ক্যাম্পাস দখলের যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তা খুব সহজে থামছে না, এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

Loading


শিরোনাম বিএনএ