Bnanews24.com
Home » রাজধানীতে স্কুলছাত্রকে চাপা দেয়া গাড়ির চালক গ্রেফতার
টপ নিউজ দুর্ঘটনা বাংলাদেশ রাজধানী সব খবর

রাজধানীতে স্কুলছাত্রকে চাপা দেয়া গাড়ির চালক গ্রেফতার

রাজধানীতে স্কুলছাত্রকে চাপা

বিএনএ ডেস্ক: রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় সরকারি বিজ্ঞান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র মো. আলী হোসেন মৃত্যুর ঘটনায় মাইক্রোবাস চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম জিয়াউল হক (৫০)।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি আজিমুল হক নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সকালে আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সাথে মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।

ডিসি আজিমুল হক জানান, ঘটনার পর থেকে আশপাশের ৩৭টি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। এরপর মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো গ ১৪-৫৮২৮) শনাক্ত করা হয়। পরে আশুলিয়া থেকে চালক জিয়াউল হককে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটির মালিক ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি সাভার থেকে প্রতি সপ্তাহের রোববার ওই মাইক্রোবাসে ঢাকায় আসেন। বৃহস্পতিবার বিকালে সাভারে ফিরেন। বাকি সময় গাড়িটি সাভারে তার পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।

পুলিশ জানায়, কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিল সরকারি বিজ্ঞান হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. আলী হোসেন (১৭)। সকাল সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় একটি মাইক্রোবাস।

দুর্ঘটনা ঘটেছে বুঝতে পেরে পুলিশের সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যান মাইক্রোবাসের চালক জিয়াউল হক। রুট পরিবর্তন করে মাইক্রোবাস নিয়ে তিনি আশুলিয়ায় চলে যান। সেখানেও তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন তিনি।

ডিসি আজিমুল হক বলেন, দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা আহত আলী হোসেনকে প্রথমে শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

ডিসি জানান, নিহত আলী হোসেনের বাবা মিরপুরে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে আলী হোসেন বড়। পরিবারের সঙ্গে আলী হোসেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কুনিপাড়া হ্যাপি হোমস এলাকায় বসবাস করত।

জব্দ করা মাইক্রোবাসটিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড লেখা স্টিকার ছিল। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আজিমুল বলেন, অনেকে সাংবাদিক বা পুলিশ না হয়েও সাংবাদিক বা পুলিশ লেখা স্টিকার গাড়িতে ব্যবহার করেন। আমরা তদন্ত করে দেখব মাইক্রোবাসের মালিক আসলে কে। কারণ গ্রেপ্তারকৃত চালক জিয়াউল একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। তাই এটি কোনো রাজস্ব কর্মকর্তার গাড়ি কি না তা এখনো নিশ্চিত নই। চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছি। সেটা সঠিক কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে অভিযুক্ত চালকের শাস্তির দাবিতে আলী হোসেনের সহপাঠীরা আজ ফার্মগেট ও বিজয় সরণিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন। এ সময় তারা বেশ কিছু দাবি দাওয়া তুলে ধরেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আজমীর হোসেন বাদি হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা করেছেন।

বিএনএ/এ আর