Bnanews24.com
এক নজরে সব খবর

সোমবার থেকে বাড়বে এলপি গ্যাসের মূল্য!

সোমবার থেকে বাড়বে এলপি গ্যাসের মূল্য

বিএনএ ডেস্ক: আগামী সোমবার আবারো এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ছে। এ বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিইআরসির (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন)। আজ বুধবার একধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

চলতি বছরের সিলিন্ডার প্রতি ১৫০ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। এ নিয়ে কত কয়েক মাসে সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে পাচঁ বার। গ্যাসের দাম এভাবে দফায় দফায় বাড়লে চরম দুর্ভোগে পড়বে গ্রহকরা।

জানা গেছে, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ সৌদি আরামকো নির্ধারিত প্রতিমাসের দর স্ব স্ব দেশের এলপিজির দর নির্ধারণের সুচক বিবেচনা করা হয়। আমদানি পর্যায়ের মূল্যকে ভিত্তি মূল্য ধরে পরিবহন ও অন্যান্য কমিশন যুক্ত করে বাজার মূল্য চূড়ান্ত করা হয়। বাংলাদেশেও এমন পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। একটি হচ্ছে আমদানিকৃত এলপিজির মূল্য। আরেকটি থাকবে পরিবহন খরচ, কোম্পানির ও পরিবেশকের মুনাফা এবং অন্যান্য। আরামকোর দরের সঙ্গে শুধু এনার্জি দর উঠানামা করবে, অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকবে।বহুমুখী বাজার, অর্ধশতাধিক কোম্পানি, হাজার হাজার পরিবেশক, লক্ষাধিক খুচরা বিক্রেতা, সর্বপরি আমদানি নির্ভর এই জ্বালানির অস্থিতিশীল বাজার বিষয়টিকে বেশ জটিল করে তুলেছে। দেশে ব্যবহৃত এলপিজির সাড়ে ৯৮ ভাগ আমদানি নির্ভর। সরকার এখন পর্যন্ত ৫৬টি কোম্পানি অনুমোদন দিয়েছে। এরমধ্যে ২৮টি মার্কেটে রয়েছে ২০টি প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারি কোম্পানির মার্কেট শেয়ার মাত্র দেড় শতাংশ।
এতদিন এলপিজির দর কোম্পানিগুলোর ইচ্ছাধীন ছিল। দর নির্ধারণের বিষয়ে অনেকদিন ধরেই কথা হলেও জ্বালানি বিভাগ, বিইআরসি নাকি বিপিসি করবে সে নিয়ে ছিল রশি টানাটানি। সর্বশেষ ক্যাবের এক রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এলপিজির দর নির্ধারণ করার জন্য বিইআরসিকে শোকজ করে। সে মোতাবেক দর চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৪ জানুয়ারি গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। শুনানিতে প্রমিতা এলপিজি ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডার প্রতি ৮৫৩ টাকা, সরকারি কোম্পানি বিএলপিজি ৭০০ টাকা, এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন ১২৫৯ টাকা করার প্রস্তাব জমা দেয়।

এ ব্যাপারে বিইআরসি’র চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন ১৪ জানুয়ারি গণশুনানি হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী সোমবার চূড়ান্ত দাম ঘোষনা করা হবে। কাল বৃহস্পতিবার সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, আইপিপি (ইমপোর্ট পার্টি প্রাইস) সারা পৃথিবীতে এই ফর্মুলা ফলো করা হয়। বাংলাদেশেও একই ফর্মুলা ফলো করা হবে।তবে কত টাবা বাড়বে সে বিষয় এখনই বলা যাবে না।তবে গ্রাহকের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে যাবে না।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রত্যেক মাসে গণশুনানি তারপর দর নির্ধারণ করার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ও জটিল। সে কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হলেই ভালো। এতে কারো বেশি লাভ কিংবা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ কম থাকবে।
ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, দর পরিবর্তন হলে সেই পণ্য দেশে আসতে ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন হয়। তখন আবার গণশুনানি করবে।

অন্যদিকে দরের মতো প্রপেন ও বিউটেন একেক কোম্পানি একেক মিশ্রণে বাজারজাত করছে। বাংলাদেশের একশ বছরের তাপমাত্রা রেকর্ড অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৪৫ ডিগ্রি, সর্বনিম্ন ২.৬ তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে। তাপমাত্রা অনুযায়ী প্রপেন ৩০ হতে ৪০ শতাংশ এবং বিউটেন ৭০ থেকে ৬০ শতাংশ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী এক সেমিনারে বলেছেন, খুব ঘন ঘন দর উঠা-নামা করলে ভোক্তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সে কারণে যতটা সম্ভব কম উঠা-নামা করা ভালো। পাশাপাশি ক্রস সাবসিডি দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অভিমত দেন।

ক্রস সাবসিডির বিষয়টি বিইআরসির এক রিপোর্টে সামনে এসেছে। অনেক দিন ধরেই একটি বিষয় আলোচিত ছিল কেউ পাইপ লাইনে কম দামে গ্যাস পাবে। অন্যরা বেশি দামে এলপিজি কিংবা লাকড়ি ব্যবহার করবেন এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই বিষয়টিতে সমতা আনার জোর দাবি ছিল। তারই প্রতিফলন করতে চেয়েছিল বিইআরসি। জ্বালানি বিভাগে পাঠানো একটি চিঠিতে সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সরবরাহের জন্য আমদানি পর্যায়ে ২৫ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয় পাইপলাইনের গ্যাসের গ্রাহকদের ওপর চার্জ বসিয়ে ভর্তুকির অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।

২০০৮-০৯ অর্থ বছরে দেশে এলপিজি ব্যবহৃত হয়েছে ৪৪ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন। কয়েক বছরে চাহিদা বেড়ে ১২ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। জাইকার এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৩০ লাখ টন ও ২০৪১ সালে চাহিদা হবে ৬০ লাখ টন।

বিএনএ/আজিজুল, ওজি