বিএনএ, ডেস্ক : দেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হাওয়া বইছে। আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে মাঠে নেমেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগকে রাজপথে প্রতিহত করতে এবং শেখ হাসিনার ফেরার আগেই শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দলটি। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমক এসেছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ৭টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে নিয়ে হেফাজত ইসলামের নতুন জোট গঠনের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে মাঠে প্রতিহত করতেই বিএনপি নেপথ্যে থেকে কওমি ঘরানার এই দলগুলোকে রাজপথে নামাতে চায়! কিন্তু এর আসল সত্য কী? এটি কি শুধুই আওয়ামী লীগকে ঠেকানো, নাকি এর পেছনে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীকে কাউন্টার দেওয়ার কৌশল?
সম্প্রতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে আসার ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিএনপি এটিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। তারা চায় শেখ হাসিনা দেশে পা রাখার আগেই ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচার কাজ শুরু হোক। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এই বিচারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ চরম আকার ধারণ করবে। কিন্তু শুধু আইনি লড়াই নয়, রাজপথের দখল ধরে রাখাও এখন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আওয়ামী লীগ যদি ডিসেম্বরে মাঠ দখলের চেষ্টা করে, তবে তাদের রাজপথেই রুখে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি বিশাল ক্যাডার ভিত্তিক কর্মী বাহিনী। আর এখানেই বিএনপি ব্যবহার করতে চাইছে কওমি মাদ্রাসাগুলোর রাজপথের শক্তিকে।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজত আমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা। যেখানে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসসহ ৭টি কওমি দল এক ছাতার নিচে আসার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন—আওয়ামী লীগ যদি ডিসেম্বরে মাঠ দখলের চেষ্টা করে, তবে তাদের রাজপথেই প্রতিহত করতে কওমি ঘরানার এই বিশাল ভোটব্যাংক ও কর্মী বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বিএনপি। কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের রাজপথের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের যেকোনো তৎপরতা রুখে দেওয়াই বিএনপির এই পৃষ্ঠপোষকতার মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে এই কওমি কার্ডের লক্ষ্য কিন্তু শুধু আওয়ামী লীগ নয়, এর বড় একটি টার্গেট হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের দেশব্যাপী বিশাল সাংগঠনিক তৎপরতা এবং প্রভাব বিএনপির জন্য এক ধরণের প্রচ্ছন্ন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিএনপি ভালো করেই জানে, জামায়াত যদি এককভাবে খুব বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তবে আগামী নির্বাচনে তারা বিএনপির জন্য বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াবে। ঠিক এই জায়গায় কাজ করছে আদর্শিক সমীকরণ। কওমি ধারার আলেম ও দলগুলো জন্মগতভাবেই জামায়াতের মওদুদিবাদী দর্শনের ঘোর বিরোধী। তাই জামায়াতকে কাউন্টার দিতে এবং ইসলামপন্থী ভোট ব্যাংক যেন জামায়াতের পকেটে না গিয়ে বিএনপির বলয়ে থাকে, সেজন্যই বিএনপি নেপথ্যে থেকে এই কওমি জোটকে হাওয়া দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের আগামী দিনের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা ৭ দলীয় এই কওমি জোটের গতিপ্রকৃতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। এই একটি কওমি কার্ড দিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের রাজপথের তৎপরতা প্রতিহত করার পাশাপাশি জামায়াতের একক রাজনৈতিক উত্থানকেও রুখে দিতে চায় । কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—কওমি দলগুলো কি শেষ পর্যন্ত বিএনপির এই রাজনৈতিক হিসাবের অংশীদার হবে, নাকি নিজেদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখবে?
আপনার কি মনে হয়? বিএনপির এই ‘কওমি কার্ড’ কি আওয়ামী লীগ ও জামায়াতকে প্রতিহত করতে সফল হবে? কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয়ে নিখুঁত বিশ্লেষণ পেতে আমাদের চ্যানেলটি এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

