31.7 C
আবহাওয়া
৬:১১ অপরাহ্ণ - জুলাই ১, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » সংসদে রুমিন ফারহানাকে আইনমন্ত্রীর ‘জুসি’ আক্রমণ!! তোলপাড় দেশ!

সংসদে রুমিন ফারহানাকে আইনমন্ত্রীর ‘জুসি’ আক্রমণ!! তোলপাড় দেশ!


বিএনএ, ঢাকা: জাতীয় সংসদ নাকি কোনো রাজনৈতিক নাটক বা কমেডি শো? সম্প্রতি সংসদের ভেতরে ঘটে গেল এমন এক নজিরবিহীন ঘটনা, যা নিয়ে পুরো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বইছে তীব্র ঝড়! সাবেক বিএনপি নেত্রী ও বর্তমান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার একটি যৌক্তিক দাবিকে খোদ আইনমন্ত্রী যখন প্রকাশ্য অধিবেশনে “খুব জুসি দাবি” বলে উপহাস করেন, তখন প্রশ্ন ওঠে—আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? কী ঘটেছিল সেই উত্তপ্ত অধিবেশনে? কেন আইনমন্ত্রী এমন শব্দ ব্যবহার করলেন? চলুন আজ খুলে দেওয়া যাক সেই বিতর্কের আসল মুখোশ!

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরিচিত এবং ধারালো নাম। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি তাঁকে আজীবন বহিষ্কার করে। দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও রাজপথে বা সংসদে তাঁর তেজ কমেনি। কোনো রাজনৈতিক দলের ছাতা মাথায় না রেখে, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবেই তিনি এখন সরকারের ভুলত্রুটি ও আইনি অসঙ্গতির বিরুদ্ধে একা লড়াই করে যাচ্ছেন। আর তাঁর এই আপোসহীন কণ্ঠই যেন মাঝেমধ্যে সরকারের নীতিপ্রণেতাদের গায়ের জ্বালা বাড়িয়ে দেয়!

ঘটনার দিন সংসদ অধিবেশনে আইন প্রণয়ন ও সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যুতে চরম উত্তাপ বিরাজ করছিল। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে মাইক হাতে দাঁড়ান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি সরকারের একটি বিতর্কিত নীতি বা আইনি সংস্কারের তীব্র সমালোচনা করেন।  দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনগণের সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে এক সুনির্দিষ্ট এবং জোরালো দাবি উত্থাপন করেন তিনি।

তাঁর যুক্তিপূর্ণ ও ধারালো বক্তব্য যখন সরকারি দলের বেঞ্চে অস্বস্তি তৈরি করছিল, ঠিক তখনই জবাব দিতে ওঠেন আইনমন্ত্রী।

রুমিন ফারহানার যুক্তি খণ্ডন করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান সরাসরি আইনি তর্কে না গিয়ে, এক অদ্ভুত ও অনানুষ্ঠানিক শব্দ বেছে নেন। তিনি রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন, রুমিন ফারহানার এই দাবিটি আসলে “খুব জুসি দাবি”!

একজন নারী সংসদ সদস্যের দেওয়া বক্তব্যকে এভাবে ‘জুসি’ বা মুখরোচক বলে আখ্যা দেওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই সংসদ কক্ষের পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র ধিক্কার। সমালোচকরা বলছেন, যুক্তি দিয়ে পরাস্ত করতে না পেরে একজন নারী জনপ্রতিনিধিকে এভাবে সস্তা ভাষায় কটাক্ষ করা চরম রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং দেউলিয়াত্বের লক্ষণ!

অবশ্য সরকারি দলের সমর্থকরা এই মন্তব্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাবি, আইনমন্ত্রী কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে এটি বলেননি, বরং সংসদীয় বিতর্কের গতি হালকা করতে রসিকতাচ্ছলে বিষয়টি বলেছেন। তিলকে তাল করার কোনো মানে হয় না। কিন্তু সচেতন নাগরিক ও বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন—সংসদ কি রসিকতার জায়গা? যেখানে দেশের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ হয়, সেখানে একজন আইনমন্ত্রীর মুখ থেকে এমন অপেশাদার শব্দ কি মানায়?

প্রসঙ্গত,  সংসদ অধিবেশন চলাকালীন প্রতি মিনিটে খরচ হয় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা। এক ঘণ্টায়  এই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার ৮৪০ টাকা। দিনে গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অধিবেশন চললে প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি ৫৩ লাখ থেকে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ব্যয় হয়।

দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও সংসদে স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রাখা রুমিন ফারহানার দাবিকে আইনমন্ত্রীর এই “জুসি” বলে কটাক্ষ করাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এটি কি কেবলই নির্দোষ রসিকতা, নাকি একজন নারী সংসদ সদস্যকে সংসদে কোণঠাসা করার সস্তা কৌশল? আপনার কি মনে হয়, আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের কথা বলার ভাষা আরও সংযত হওয়া উচিত? আপনার  মতামত নিচে কমেন্ট করে জানান। রাজনৈতিক সব বিশ্লেষণমূলক খবরের জন্য আমাদের চ্যানেলটি এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

বিএনএ/ওজি

Loading


শিরোনাম বিএনএ