28.5 C
আবহাওয়া
২:৫৫ পূর্বাহ্ণ - জুন ১০, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ‘হাশরের ময়দানে শুধু দাঁড়িপাল্লা থাকবে’! কী বলছে ইসি?

‘হাশরের ময়দানে শুধু দাঁড়িপাল্লা থাকবে’! কী বলছে ইসি?


বিএনএ, ঢাকা: সম্প্রতি কুমিল্লা-৩, মুরাদনগর সংসদীয় আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলের একটি ভিডিও (১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ওমরাহ করানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাইতে দেখা যায়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় জনৈক ভোটারের সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই, আপনাকে নিয়ে ওমরাহ করাতে যাব” এটি নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

YouTube player

শুধু ইউসুফ হাকিম সোহেল নয়-২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর অনেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ভোট চাইতে গিয়ে ধর্মকে ব্যাপক হারে ব্যবহার করে যাচ্ছে গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে।

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দলের মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমীন ভূঁইয়া বলেছেন, হাশরের ময়দানে কোনো মার্কা থাকবে না, থাকবে শুধু দাঁড়িপাল্লা। মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতীক এই দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে দেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। গত ৯ই ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরের কেরোয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির বলেছেন, পৃথিবী কেন- আসমান জমিনে কারও শক্তি নেই আমাদের এই মিজান (দাঁড়িপাল্লা) আটকে রাখে। হাশরের ময়দানে এই মিজান থাকবে। ধানের শীষ থাকবে না, নৌকা থাকবে না, লাঙ্গলও থাকবে না। গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানী (আংশিক) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমল হেসেন সরদার ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয় সংসদে যেতে চাই। একই সাথে এই কাজের মাধ্যমে আমরা জান্নাতেও এক সাথে যেতে চাই।

ঢাকা- ২০ ( ধামরাই) আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মওলানা সাহাদাত হোসাইন ভোটকে এবাদত হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার নিয়ত করলেই একটা সওয়াব পাবেন, ভোট দিলে আরেকটা সওয়াব পাবেন।

রংপুর- ৬ (পীরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন বলেছেন, কবরে নামাজ, রোজা, হজ্ব জাকাত সর্ম্পকে কোন প্রশ্ন করা হবে না। যে তিনটি প্রশ্ন করা হবে তিনটি প্রশ্নই রাজনৈতিক।
জামায়াতে ইসলামীর ভৈরব জেলার এক নেতা নির্বাচনী প্রচারাভিযানে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর মিটিং মিছিলে অংশ নিলে সওয়াব রয়েছে। ভোট দিলে জান্নাত নিশ্চিত।

সিলেটের এক নেতাও তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে বলেছেন, জামায়াতকে ভোট দিলে আল্লাহ খুশি হবেন এবং সরাসরি জান্নাতে যাবেন

কুষ্টিয়া- ৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আমির হামজা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে ১ টা ভোট দিলে ১৮ কোটি মানুষের নামাজের সওয়াব পাবেন।

টঙ্গী তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জামায়াতে ইসলামী নেতা ড. হিফজুর রহমান বলেছেন, ইসলামী দলকে ভোট না দিলে ইমান থাকবে না।

চট্টগ্রাম-১৫ ( সাতকানিয়া-লোহাগড়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহাজাহান চৌধুরী কিছুদিন আগে বলেছেন, ভোট কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মাওলানা দেলওয়ার হোসেন সাঈদী উপস্থিত থাকবেন। এবার তিনি বলেছেন মদিনা থেকে হযরত মোহাম্মদ (স:) সাতকানিয়া- গারাংগিয়া মাদ্রাসায় এসে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
২০২৫ সালের সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোটারকে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক যদি নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় প্রলোভন, ‘আল্লাহর গজব’ বা ‘ধর্মীয় অভিশাপের’ ভয় দেখানো বা ধর্মীয় পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি যেমন- ওমরাহ করানোর প্রতিশ্রুতি, হাশরের ময়দানে দাড়িপাল্লা ছাড়া অন্য কিছু না থাকা, ইসলামের পক্ষের প্রতীক বা বক্তিকে ভোট না দিলে ইমান না থাকা, বা বেহেশতের টিকেট দেওয়াকে ‘অনুচিত প্রভাব’ হিসেবে গণ্য করা অর্থাৎ ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়া কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দণ্ডবিধির ১৭১এফ ধারা অনুযায়ী এর জন্য ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন ।

প্রসঙ্গত, মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো বা রাজনৈতিক সভা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি লঙ্ঘন করলে একইভাবে কারাদণ্ড বা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

অপরাধ গুরুতর হলে আরপিও-এর ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করতে পারে। এছাড়া পরবর্তী কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য হতে পারেন। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন এই ব্যবস্থা নিতে পারে।

এই ধরণের অনিয়ম তদন্তের জন্য নির্বাচন কমিশন সারাদেশে ৩০০টি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে নির্বাচন কমিশন দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

বিএনএ/ শামীমা চৌধুরী শাম্মী

Loading


শিরোনাম বিএনএ