বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৭

২নং বিচার্য বিষয়:
প্রসিকিউশনের ৭নং সাক্ষী লে.কর্ণেল বাশার বলেন, ঘটনার আগে কুমিল্লা ১ ফিল্ড আর্টিলারিতে ছিল। ১৯৭৫ সনের জুলাই মাসের শেষের দিকে ঢাকা গণভবনে এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে নিরাপত্তা ডিউটি করার জন্য তাহার নেতৃত্বে ১০৫ জন সৈনিকের একটি কোম্পানী পাঠায় ১/২ আগস্ট তাহারা ১ম বেঙ্গল ল্যান্সার হইতে দ্বায়িত্ব বুঝিয়া নেয়। তার সৈনিকদের মধ্যে ২৫ জনের একটি পল্টুন বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ডিউটি করার জন্য আসিয়া ৩১নং রোডস্থ একটি বাড়ীতে থাকে। হাবিলদার গণি ও হাবিলদার কুদ্দুস গার্ড কমান্ডার ছিল। গণভবনে তাহার থাকার জায়গা না থাকায় তিনি রাষ্ট্রপতির মিলিটারি সেক্রেটারী ব্রিগেডিয়ার মাশরারুল হকের অনুমতি নিয়া আজিমপুর চায়না বিল্ডিংয়ে থাকিতেন।

আরো পড়ুন

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৯

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৮

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৬

১৯৭৫ সনের ১৪ই আগস্ট দুপুর বেলা তাহার রেজিমেন্টের সুবেদার মেজর আব্দুল ওহাব জোয়ারদার ঢাকায় কর্মরত তাহাদের রেজিমেন্টের সৈনিকদের বেতন নিয়া আসে। সুবেদার মেজর কবির বেতন বিতরণ করেন। ১৫ই আগস্ট সকালে তাহার বাসায় কাজের ছেলে আবদুল দোকান হইতে ফেরত আসিয়া জানায় রুটি পাওয়া যাইবে না। দেশে ‘মার্শাল ল’ হইয়াছে। তখন রেডিও অন করিয়া শোনে, “আমি মেজর ডালিম বলছি, শেখ মুজিবকে হত্যা করা হইয়াছে এবং সরকার উৎখাত করা হইয়াছে। দেশে ‘মার্শাল ল’ জারি করা হইয়াছে।” তিনি সাথে সাথে গাড়ী পাঠানোর জন্য গণভবনে টেলিফোন করেন। গাড়ী আসে নাই, এন.এস.পি. ব্রি. মাশরারুল হককে যোগাযোগ করার চেষ্টা করিয়াও পায় নাই। পরে শুনিয়াছেন তিনি বন্দী ছিলেন।

সকাল ১০/১০.৩০টার দিকে সুবেদার মেজর আব্দুল ওহাব জোয়ারদার জীপে তাহার বাসায় আসিয়া জানায় যে, ল্যান্সারের সৈনিকরা সকাল বেলা বঙ্গবন্ধুর বাড়ী ঘেরাও করে। সাথে ক্যাপ্টেন হুদা ছিল। তাহারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। আরো জানায়, এই ঘটনায় তাহাদের ল্যান্স নায়েক সামসু নিহত হয়। অপর একজন সৈনিক আহত হয়, যার নাম স্মরণ নাই। জোয়ারদার বলেন স্যার, যা হবার হয়ে গেছে। বাতাসের উল্টা দিকে যাওয়া ঠিক হইবে না। তিনি বঙ্গবন্ধুর বাড়ীর দিকে যাইতে চাহিলে জোয়ারদার বলেন স্যার, “আপনার এখন যাবার দরকার নেই গাড়ী পাঠাচ্ছি তখন আপনি আসবেন”।

বেলা ১২/১২.৩০টার দিকে গাড়ী আসিলে তিনি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যাবার পথে রাস্তায় ল্যান্সারের আর্টিলারির সৈনিকদের দেখে। বঙ্গবন্ধুর বাড়ীর লেকের পাশে ক্যাপ্টেন হুদার সহিত দেখা হইলে হুদা বলেন- Sorry Bashar, I could not informed you earliar for obvious reason, it wast possible. তখন ক্যাপ্টেন হুদা মেজরের ব্যাজ পরা ছিল। ওহাব জোয়ারদারকেও লে.– এর র্যা ঙ্কের ব্যাজ পরা দেখে। মেজর হুদা বলিলেন, “সুবেদার মেজর আব্দুল ওহাব জোয়ারদারকে তাহার কাজের জন্য পদোন্নতি দেওয়া হইয়াছে”।

তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী। পৃষ্ঠা নং-৫৫ (চলবে)

পড়ুন আগের পর্ব :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৬

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৫

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩০

সম্পাদনায়: এইচ এইচ চৌধুরী, গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা