Bnanews24.com
Home » বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৪
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

প্রসিকিউশনের ৫৪ নং সাক্ষীও বঙ্গবন্ধুর দাফনের সাক্ষী। তাহাকে টেন্ডার করা হয়। প্রসিকিউশনের ৩১নং সাক্ষী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় তাহার পিতা মো: সিদ্দীকুর রহমান পুলিশ বিভাগের এস.আই. হিসাবে স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিল। ঘটনার রাত্রে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২নং রোডস্থ ৬৭৭নং বাড়ীতে ডিউটিতে থাকা অবস্থায় সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল লোক বঙ্গবন্ধু, তাহার পরিবারবর্গ ও আত্মীয়স্বজনের সাথে তাহার পিতাকেও গুলি করিয়া হত্যা করে। তখন তাহার বয়স ছিল সাত বৎসর। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে তাহার পিতার জানাজা হয়। তাদেরকে নিয়া তাহার পিতার লাশ দেখায়। পুলিশের তত্ত্বাবধানে মিরপুর ১নং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের গোরস্থানে তাহার পিতার লাশ দাফন করা হয়। সেনাবাহিনীর লোকেরা তাহার পিতার লাশ রাজারবাগ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

প্রসিকিউশনের ৫৩নং সাক্ষী সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরের কিউরেটর। পূর্বে ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন। ১৪-৮-৯৪ তারিখে কিউরেটর হিসেবে নিয়োগ পান।

জব্দ তালিকা একজিবিট-৬ এবং ইহাতে তাহার স্বাক্ষর একজিবিট-৬/১ এবং সাক্ষী আব্দুল আলীম খান চৌধুরী ও মোকাব্বেল, মো: মুকুল এর স্বাক্ষর একজিবিট-৬/২, ৬/৩ প্রমাণ করিয়া বলেন যে, এই জব্দ তালিকা মূলে বঙ্গবন্ধু যাদুঘর হইতে তদন্তকারী অফিসার রক্তমাখা ও গুলির ছিদ্রযুক্ত বিভিন্ন রকমের জামা-কাপড়, বেডসীট, তোয়ালে, টুপি, চশমা, বুলেট, পিলেট, গুলির খোসা, ভাঙ্গা গ্লাসের টুকরা, ভাঙ্গা কাঁচের চুরি, বই-পুস্তক, বাঁধানো ছবি ইত্যাদি যাহারা মেটেরিয়াল একজিবিট I-XXXII হিসাবে চিহ্নিত হয়। উপরে উল্লেখিত সাক্ষীগণের মধ্যে ২নং সাক্ষী রহমান(রমা) বঙ্গবন্ধুর বাড়ীর পুরাতন কাজের লোক এবং ৩৬নং সাক্ষী নেওয়াজ আহমেদ ওরফে গর্জন প্রতিবেশী। অন্যান্য সাক্ষী (১)মুহিতুল ইসলাম, (৩)সেলিম, (৪)হাবিলদার কুদ্দুস, (৫)সুবেদার গণি, (৬)হাবিলদার সোহরাব আলী, (৩৩)হাবিলদার সেলিমউদ্দীন, ও (৫০)নুরুল ইসলাম খান সহকারী কর্মচারী।

১৯৭৫ সনের ১৪ই আগস্ট দিবাগত রাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বাসভবনে তাহারা সরকারী দায়িত্ব পালনের জন্য উপস্থিত থাকিয়া ২ ও ৩৬নং সাক্ষীসহ নিজ নিজ অবস্থান, কেহ কেহ একত্রে একস্থানে থাকিয়া ঐ মামলার হত্যাকান্ডের ঘটনা প্রত্যক্ষ করিয়াছে এবং এই ঘটনার সময় ১,৩, ও ৫০নং সাক্ষী আহত হইয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীনও ছিল অর্থাৎ নি:সন্দেহে তাহারা ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী।

তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী পৃষ্ঠা নং-৫৩ (চলবে)

আরও পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩০

সম্পাদনায়: এইচ এইচ চৌধুরী, গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা