বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৬

৫৩নং সাক্ষী সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বর্তমানে বঙ্গবন্ধু যাদুঘরে কিউরেটর হিসাবে কর্মরত আছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের আলামত হিসাবে রক্তমাখা ও গুলির ছিদ্রযুক্ত জামা-কাপড়, তোয়ালে, টুপী, জামা, বই, পুস্তক, বুলেট, পিলেট, গুলির খোসা, ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, ভাঙ্গা গ্লাসের টুকরা, ভাঙ্গা কাঁচের চুড়ি, বাঁধানো ছবি ইত্যাদি আলামত সনাক্ত করে যাহার মেটারিয়াল একজিবিট-1-XXX11 হিসাবে চিহ্নিত হয়। তিনি এই সমস্ত মেটারিয়াল জব্দ করা সংক্রান্ত তালিকা একজিবিট-৬, ইহাতে তাহার এবং সাক্ষীদের স্বাক্ষর যথাক্রমে একজিবিট-৬/১, ৬/২, ৬/৩ প্রমাণ করেন।

আরো পড়ুন

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৯

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৮

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৭

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নিজ বাসভবনে গুলি করিয়া হত্যা করার ঘটনাটি তখন দেশী-বিদেশী পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ এবং রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার করা হয় তাহা দেশে-বিদেশের কোটি কোটি মানুষ এই ঘটনার খবর পত্রিকায় পড়ে এবং রেডিও-টেলিভিশনে শোনে। পরবর্তীতে সকল সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই হত্যার ঘটনা স্বীকার করা হয়। আসামীপক্ষ এই হত্যার ঘটনাটি অস্বীকার করে না। সুতরাং বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য মৃতদেহগুলির সুরতহাল ময়নাতদন্ত না হইলেও কিংবা আসামী মেজর ফারুকের পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী জনাব খান সাইফুর রহমানের মতে হত্যাকারীরা গাড়ীতে আসিয়া পায়ে হাঁটিয়া হিপ পাওয়া পজিশনে বা অন্য কোনভাবে আসিয়া গুলি করিয়া হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর প্রমাণ অস্পষ্ট দাবী করিলেও তাহা এই ক্ষেত্রে অবান্তর এবং উহা বিবেচনায় না আনিয়া ও নি:সন্দেহে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় যে ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগস্ট অনুমান ভোর ৫টার সময় বঙ্গবন্ধু, তাহার পরিবার ও অন্যান্যদেরকে ধানমন্ডির ৩২নং রোডস্থ নিজ বাসভবনে গুলি করিয়া হত্যা করা হয়। উক্ত মর্মে এই বিচার্য বিষয়টি নিষ্পত্তি হইল।
তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী। পৃষ্ঠা নং-৫৪ (চলবে)

আরও পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৫

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩০

সম্পাদনায়: এইচ এইচ চৌধুরী, গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা