Bnanews24.com
Home » পদ্মা সেতু ও শেখ হাসিনা বিশ্বের বিস্ময়
কভার সব খবর সম্পাদকীয়

পদ্মা সেতু ও শেখ হাসিনা বিশ্বের বিস্ময়

।।মিজানুর রহমান মজুমদার।।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বলেছেন, ‘নেতারা যদি নেতৃত্ব দিতে ভুল করে, জনগণকে তার খেসারত দিতে হয়’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভবত পিতার এ উক্তিটি মনে প্রাণে গ্রহণ করেছেন। সেকারণে জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বাস্তবতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন।

বিশ্বব্যাংক এবং তার সঙ্গে আরও কয়েকটি দাতা গোষ্ঠী যখন পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন থেকে সরে গেল, তাতেও মনোবল হরাননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেমনটা হারাননি বঙ্গবন্ধু। ১৯৭১ সালে পাকিস্থান করাগারে ২৯০ দিন মৃত্যুযন্ত্রনার পরও আপোষ করেননি। বাঙ্গালী জাতির ভাগ্য উন্নয়নের জন্য আমৃত্যু লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন।

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য বলেছিলেন ‘দাবায়া রাখতে পারবা না’। তাঁকে এবং বাঙ্গালী জাতিকে দাবিয়ে রাখা যায়নি। অনুরূপভাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দাবিয়ে রাখা যায়নি।

বিশ্বব্যাংক এবং পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বিরোধীতার পরও এ দেশের সাহসী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সুচিন্তিতভাবে দেশে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেন। তিনি দেখিয়ে দেন, জানিয়ে দেন বাঙ্গালী বীরের জাতি। ষড়যন্ত্র করে, অর্থ , সমর্থন প্রত্যাহার করে দাবিয়ে রাখা যায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিজ্ঞজনোচিত ভাবনায় শুধু সড়ক নয়, একই সঙ্গে তিনি পদ্মা সেতুতে রেল ব্যবস্থাপনাও যুক্ত করেন।

দেশের ৪৯তম বিজয় দিবসের বার্ষিকীর ছয় দিন পূর্বে পদ্মা সেতুর সর্বশেষ ৪১তম স্প্যানটি যখন বসানো হলো তখন সমগ্র জাতির মধ্যে এক ধরনের উল্লাস বয়ে গেল। বিজয়ের মাসে আরেকটি বিজয় অর্জনের সমূহ সম্ভাবনা দেশবাসীকে আনন্দে উদ্বেলিত করেছে। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬.১৫ কিলোমিটার পানির অংশে, তবে ভূমি অংশকে বিবেচনায় আনলে এটি নয় কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে।

২০২২ সালের ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন এবং চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে জাতি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আরেকটি বিজয় অর্জন করেছে। জিডিপিতে প্রবৃদ্ধির হার ১.২৬% পর্যন্ত সামগ্রিক অর্থনীতিতে সংযুক্ত হবে। এরপর যখন রেল চলাচল শুরু হবে তখন জিডিপির হার হবে ২.০৩% ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই বঙ্গবন্ধু সমগ্র দেশে যে অঞ্চলগত বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন, পদ্মা সেতু শুধু অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। দেশে-বিদেশে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। মংলা ও পায়রা বন্দরের গতি আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে।

পদ্মা সেতু ব্যাস্টিক অর্থনীতিতে যেমন ইতিবাচক প্রভাব রাখবে, তেমনি সামষ্টিক অর্থনীতির গতিপ্রবাহতেও নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

মানুষের আত্মমর্যাদা, সামাজিক পুঁজি, মানবিক উন্নয়ন বিবেচনায় আনলে পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লোকদের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি তিন শতাংশ হারে বাড়তে পারে। সঙ্গে আবার ওই অঞ্চলগত দারিদ্র্য হ্রাস পেতে পারে ১.২৫%। যে কোনভাবেই হোক সুপরিকল্পিতভাবে শিল্পায়ন করা এবং কৃষি ও শিল্পের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানো, যাতে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে।

পদ্মা সেতু নিয়ে সামগ্রিকভাবে দেশের মানুষ উদ্বেলিত, পারদসম প্রত্যাশা এবং বাঙালির আত্মমর্যাদা বিশ্ব দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন আজ তার অদম্য সাহসী কন্যা শেখ হাসিনার দুর্দমনীয় নেতৃত্বগুণে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।

শত বাধা ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রস্তুত করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। যিনি বাঙ্গালী জাতির ধারাবাহিক উন্নয়নের গর্ব এবং প্রেরণার উৎস।