বিএনএ,ঢাকা: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ তম জন্মবার্ষিকী আজ। আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের এই দিনে অবিভক্ত ভারতের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তার কলমের আঁচড় থেকে অবিরাম বিচ্ছুরিত হয়েছে অমর গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, এমনকি গণমুখী সংবাদ। অধিকারের প্রশ্নে যুদ্ধে যাওয়ার সৈনিকও ছিলেন তিনি। বলা যায়, তার জীবন ও কর্মের সমন্বয়ের আরেক নাম ঔপনিবেশিকতার শিকল ভাঙার লড়াই-বিদ্রোহ। তার বিদ্রোহের বিপরীতে ছিল প্রেম, প্রেমের পরিণতি ছিল সাম্য।
এক হাতে ‘বাঁকা বাশের বাঁশরি, আরেক হাতে রণতূর্য’ রেখে তাই তো বলতে পেরেছেন, ‘হিন্দু-মুসলমানে দিনরাত হানাহানি, জাতিতে জাতিতে বিদ্বেষ, যুদ্ধবিগ্রহ, মানুষের জীবনে একদিকে কঠোর দারিদ্র্য-ঋণ-অভাব; অন্যদিকে লোভী অসুরের যক্ষের ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা পাষাণ স্তূপের মতো জমা হয়ে আছে। এ অসাম্য ভেদজ্ঞান দূর করতেই আমি এসেছিলাম। আমার কাব্যে, সংগীতে, কর্মজীবনে অভেদ ও সুন্দর সাম্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমি যশ চাই না, খ্যাতি চাই না, প্রতিষ্ঠা চাই না, নেতৃত্ব চাই না। জীবন আমার যত দুঃখময়ই হোক, আনন্দের গান-বেদনার গান গেয়ে যাব আমি। দিয়ে যাব নিজেকে নিঃশেষ করে সকলের মাঝে বিলিয়ে। সকলের বাঁচার মাঝে থাকবো আমি বেঁচে। এই আমার ব্রত, এই আমার সাধনা, এই আমার তপস্যা।’
মহান কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জন্মবার্ষিকীর দিনে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, কাজী নজরুলের অমর সৃষ্টি শুধু নিজ ধর্ম, সমাজ-সম্প্রদায়, দেশ ও কালের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকেনি, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বদা গেয়েছেন মানবতার জয়গান। হয়ে উঠেছেন সকল সমাজের, সকল কালের।
পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্তু, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো। মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে দিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতন করার জন্য, স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার তখন দরকার হয়ে পড়েছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই প্রার্থিত ও বহু কাংখিত প্রতিভা।
প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ‘নজরুলবর্ষ’ ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত নজরুল সাহিত্য ও জীবন দর্শনের নানাদিক নিয়ে থাকবে নানা আয়োজন।
বিএনএ/ওজি
![]()

