বিএনএ, ঢাকা: দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর একের পর এক বিষোদগার, কুরুচিপূর্ণ গালাগাল আর উস্কানি, ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে তার ওপর কয়েক দফা সরাসরি হামলা চালিয়েছে, গাড়ি ভাঙচুর করেছে, গণধোলাই দিয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যকর বিষয় হলো—মার খাওয়ার পরও তার মুখের বিষ কমেনি, বরং উস্কানির মাত্রা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে! তিনি আর কেউ নন, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একজন নব্য রাজনৈতিক নেতার এত বড় কলিজা কীভাবে কার ইশারা বা ইন্দনে হয়েছে? দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিংবা প্রবীণ জননেতাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার এই চরম দুঃসাহসের পেছনে আসল খুঁটির জোর কোথায়? কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মাঠ গরম রাখছেন এই সাবেক শিবির নেতা? আজ আমরা খুঁজে বের করবো, পাটওয়ারীর অদৃশ্য গডফাদারদের!
২০ জুন ২০২৬, খুলনায় ১১ দলীয় জোটের সভায় নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী যা করলেন, তা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। দেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে প্রকাশ্য জনসভায় সরাসরি ‘আবু জাহেল’-এর সাথে তুলনা করলেন তিনি! এখানেই শেষ নয়, তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে কড়া হুমকি দিয়ে বলেন, ‘মুজিববাদের পাহারা’ দিলে দেশের মানুষ রাজপথেই জবাব দেবে।
নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এভাবে চরম অবমাননা করার পেছনে কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারা কাজ করছে? এমন প্রশ্ন করেছেন অনেকে।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর এই লাগামহীন ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য কিন্তু বিনা বাধায় পার পায়নি। তার এই নোংরা রাজনৈতিক আক্রমণের জবাবে ক্ষিপ্ত ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ওপর চড়াও হয়েছে। বেশ কয়েক দফা তার রাজনৈতিক বহরে সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে, জুতা প্রদর্শন, ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে। এমনকি তাকে রীতিমতো ধাওয়া দিয়ে মাঠছাড়া করেছে ছাত্রদল।
নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এখন রীতিমত গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠেছে। সাধারণ কোনো নেতা হলে এই মার খাওয়ার পর সুর নরম করতেন, কিন্তু পাটোয়ারী উল্টো! যতবার তিনি আক্রান্ত হচ্ছেন, ততবার তার বক্তব্যের ঝাঁজ এবং উস্কানি দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, এই যে মার খাওয়ার পরও বিন্দুমাত্র পিছু না হটে একের পর এক উস্কানি দিয়ে যাওয়া—এটা কি কোনো স্বাভাবিক রাজনীতি, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করার সুপরিকল্পিত অ্যাসাইনমেন্ট?
ফিরে যাওয়া যাক ১৯ জুলাই ২০২৫। কক্সবাজারের এক সভায় দাঁড়িয়ে বিএনপির প্রভাবশালী স্থায়ী কমিটির সদস্য বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘শিলং থেকে আসা দখলদার গডফাদার’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফলশ্রুতিতে চকরিয়ায় এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সভা মঞ্চ ভেঙে চুরমার করে দেয় বিক্ষুব্ধ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত সেনা পাহারায় জীবন বাঁচিয়ে বান্দরবান পালাতে হয়েছিল এই পাটওয়ারীকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঢাকা-৮ আসনের বিজয়ী প্রার্থী প্রবীণ নেতা মির্জা আব্বাসকে নিয়ে ব্যক্তিগত ও কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ চালান তিনি। নির্বাচনের পরও পাটোয়ারীর এই প্রতিহিংসা থামেনি। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায়, এই নব্য তরুণের লাগাতার নোংরা মানসিক অত্যাচারের চাপ সহ্য করতে না পেরেই প্রবীণ জননেতা মির্জা আব্বাস একপর্যায়ে স্ট্রোক করেন এবং বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। একজন প্রবীণ নেতাকে হাসপাতালের বিছানায় পাঠিয়েও কি শান্ত হয়েছেন পাটওয়ারী?
এবার আসা যাক সবচেয়ে বড় ও বিস্ফোরক প্রশ্নে—কার জোরে এত রাজনৈতিক তেজ দেখাচ্ছেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এই সাথী বর্তমানে এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক মূলত ‘ডিপ স্টেট’ বা পর্দার অন্তরালে থাকা কোনো অদৃশ্য মাফিয়া গোষ্ঠী এবং জামায়াতুল ইসলামীর হয়ে কাজ করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য—দেশে একটি স্থায়ী অস্থিতিশীল এবং সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা। রাজনৈতিক ফায়দা লোটার এই খেলায় পাটওয়ারীকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না তো? যদি তাই না হয়, তবে বারবার মার খাওয়ার পরও কার ইশারায় তিনি বুক ফুলিয়ে এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন? তার আসল ফান্ডিং এবং ক্ষমতার উৎস কোথায়? তা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।
নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীর এই উস্কানীমূলক ও বিদ্বেষমূলক রাজনীতি কি দেশের সংস্কারের জন্য, নাকি বাংলাদেশকে এক অনন্ত গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান? কার হাত রয়েছে এই পাটওয়ারীর মাথায়? কমেন্ট বক্সে আপনার ক্ষুরধার মতামত দিন। নিউজটি শেয়ার করে দেশের মানুষকে এই অদৃশ্য চক্রান্তের বিরুদ্ধে সচেতন করুন। এই ধরনের সত্যনিষ্ঠ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখতে আমাদের চ্যানেলটি এখনই সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
সৈয়দ সাকিব
![]()

