বিএনএ,ঢাকা: ‘গাঁজা সেবন না করলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হওয়া যায় না’!— গত ১৩ মে ফেসবুকে করা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা রাশেদ খানের এই একটি মন্তব্যই এখন জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
এই আগুন নেভার আগেই বিএনপির এই নেতা আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছেন। গত ১৬ মে তিনি মন্তব্য করেন আসিফ-নাহিদরা মার খেত, আর হাসনাত-সারজিসরা জুস খেত!

মাত্র ৪দিনের ব্যবধানে রাশেদ খানের দুই মন্তব্য নিয়ে সারাদেশে রাজনীতি সচেতন মানুষের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নানাজন নানা ভাবে নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ করছেন।
জাতীয় নির্বাচনের তিন মাস না পেরোতেই কেন সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে এতোটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন রাশেদ খান? এটি কি ব্যক্তিগত ক্ষোভ নাকি এর পেছনে আছে বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ? ।
এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মধ্য কামড়াকামড়ি ছিল। পরবর্তীতে তারা ক্ষমতার স্বার্থে এক হয়েছে।এখন কথায় কথায় এক সঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে, গণঅভ্যূত্থানের হুমকি দিচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, জামায়াত ইসলামী বলেছিল সংস্কার ছাড়া, পিআর ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। এনসিপি বলেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৫ বছর ক্ষমতায় থাকা উচিত! এনসিপির নেতা সারজিস আলম এই বিষয়ে পোস্ট করেছিলেন। নাছির উদ্দিন পাটোয়ারি বলেছিলেন. ১২ ই ফেব্রুয়ারি কোনো নির্বাচন হবে না। যারা জাতীয় নির্বাচন চায়নি, সেই তারাই এখন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে তড়িঘড়ি করছে। শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য হাসনাত ও সারজিস কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
সাবেক গণ অধিকার পরিষদ সম্পাদক আরও অভিযোগ করেন, নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ ডিবি অফিসে মার খেত, অন্যদিকে হাসনাত সারজিসরা জুস খেত। হাসনাত ও সারজিসকে মিরজাফরের সঙ্গে তুলনা করেন রাশেদ খান।
প্রসঙ্গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে যখন আন্দোলন তুঙ্গে, তখন ৬ সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। তৎকালীন ডিভি প্রধান হারুনুর রশীদের সাথে তাদের ডিনার করার ছবি ভাইরাল হয়। যদিও পরবর্তীতে সমন্বয়করা দাবি করেছিলেন, তাদের জোর করে খাইয়ে ভিডিও করা হয়েছিল এবং তারা অনশনে ছিলেন। কিন্তু রাশেদ খান এখন সেই পুরোনো ক্ষতকেই নতুন করে খুঁচিয়ে তুললেন।
শুধু তাই নয়, গাঁজা সেবন না করলে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী হওয়া যায় না বলে এক ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছে বিএনপি নেতা রাশেদ খান।। অতীতে সে জামায়াতে ইসলামীকে গালিগালাজ করেছে। এখন জামায়াতের সাথে মিতালি করে বিএনপিকে গালিগালাজ করছে ।
পোস্টে রাশেদ খান বলেছেন, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী জামায়াতে ইসলামীকে বলেছে, (১) জামায়াতে ইসলামী ভারতের এক্সটেনশন, (২) জামায়াতে ইসলামী সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে, (৩) জামায়াতে ইসলামী মুনাফেকের দল, (৪) জামায়াতে ইসলামী ধর্মের নামে চেতনার ব্যবসা করছে, (৫) জামায়াতের মুখে এক অন্তরে আরেক, (৬) জামায়াতের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও অতীত আচরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র ও জাতীয় চেতনার পরিপন্থী ইত্যাদি!
তিনি আরও বলেন, একটি দল সম্পর্কে এতোকিছু বলার পরে আবার সেই দল থেকে আসন নিয়ে নির্বাচন করা, — এটি একমাত্র গাঁজা সেবন করলেই সম্ভব! আমি এনসিপিকে বলবো, দ্রুত তার ডোপ টেস্ট ও চিকিৎসা করুন। অন্যথায় তার শরীরে প্রতিদিন যে পরিমাণ নিকোটিন ঢুকছে, আর এর প্রতিক্রিয়ায় আবোলতাবোল বকছে.. না জানি আবার জামায়াতে যোগদান করে এনসিপিকে নিয়ে বলা শুরু করে দেয় যে, এনসিপি জাতির সাথে গাদ্দারি করা শুরু করেছে…! জামায়াতে ইসলামী পারেও বটে! তাদের রাজনীতিকে নিয়ে একেরপর এক প্রশ্ন তোলা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীই আজকাল তাদের আইডল। কারণ সে এখন রুপ বদলে ফেলে জামায়াতপন্থী হয়েছে! পডকাস্টে বলেও বেড়াচ্ছে, সে নাকি শিবিরের সাথী ছিলো! অথচ ক্যাম্পাসে দেখেছি, সে বাম করে….! একজন লোক শিবির থেকে বাম হয় কিভাবে?
বিএনএ/ শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

