বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৮

প্রসিকিউশনের ৮নং সাক্ষী মেজর শাহাদাত হোসেন খান বলেন, ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগস্ট ১ম বেঙ্গল রেজিমেন্ট এ্যাডজুডেন্ট/ক্যাপ্টেন ছিলেন। লে. কর্ণেল মতিয়ার রহমান তাদের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন। ১৫ই আগস্ট সকাল ৬/৬.৩০টার সময় মেসের বাহিরে হৈ-চৈ-তে ঘুম ভাঙ্গিয়া যায়। বাহিরে আসিয়া ২ ফিল্ড আর্টিলারির ফোর্সসহ অফিসার ও গাড়ী সশস্ত্র অবস্থায় দেখে। তাহারা বলে, “সর্বশেষ করিয়া দিয়া আসিয়াছে। তোমরা এখনও ঘুমাইয়া আছো। ইউনিফর্ম পড়ে তাড়াতাড়ি ইউনিটে রিপোর্ট কর।”

আরো পড়ুন

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৯

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৭

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৬

৭.৩০ টার দিকে ইউনিটে রিপোর্ট করে পরে সেনাপ্রধান শফিউল্লাহসহ ঊর্ধ্বতন অফিসারগণ আস্তে আস্তে তাদের কমান্ডিং অফিসারের রুমে সমবেত হন। সেখানে ইউনিফরম পড়া সশস্ত্র অবস্থায় মেজর রশিদকে দেখে। তাহার কমান্ডিং অফিসার ছিলেন। লে. কর্ণেল মতিয়ার রহমান রুম হইতে বাহির হইয়া ২ জন অফিসার নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের অবস্থা দেখিয়া রিপোর্ট করার জন্য তাহাকে নির্দেশ দেয়। সকাল অনুমান পৌনে ৯টায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ীতে যায়। পথে রোডের মাথায় ট্যাংক, জীপ গাড়ীসহ কালো খাকী পোষাকধারী ফোর্স দেখে। পরিচয় ও উদ্দেশ্যের কথা বলিলে তাহাদেরকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ীতে যাইতে দেয়। গেইটের সামনে রাস্তায় ও ভিতরে বেশ কিছু সশস্ত্র সৈনিক দেখে।

গেইটের পশ্চিম দিকে দাঁড়ানো অবস্থায় কয়েকজন সিভিলিয়ানকেও দেখে। গেইটে মেজর নূর ও মেজর হুদা তাহাদেরকে রিসিভ করে। তাহারা চীফ আর্মি স্টাফ জেনারেল শফিউল্লাহর নির্দেশে আসে বলিয়া জানাইলে, মেজর নূর তাহাদিগকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ভিতর দেখাবার জন্য ক্যাপ্টেন হুদাকে বলে। ক্যাপ্টেন হুদা ভিতরে নিয়া গেলে রিসিপশন রুমে শেখ কামালের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখে।

শেখ কামালকে কেন মেরেছে জিজ্ঞাসা করিলে বজলুল হুদা বলেন, “শেখ কামাল ফোনে বাইরে খবর দিতেছিল, সেজন্য তাকে মেরেছি।” ঐ রুমে লুঙ্গি পরা অবস্থায় আরেকজনের মৃতদেহ দেখিতে পায়। মেজর হুদা বলেন, সে পুলিশের লোক, তাহাকে চলে যাইতে বলিলে সে তর্ক শুরু করিয়া দেয়। সেজন্য তাহাকে মেরেছে। তৎপর সিড়ির দক্ষিণ দিকে বাথরুম দেখাইয়া বলে, “এখানে শেখ নাসেরের লাশ আছে। তাহারা বাথরুম খোলে গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত অবস্থায় শেখ নাসেরের লাশ দেখে।

তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী। পৃষ্ঠা নং-৫৬ (চলবে)

পড়ুন আগের পর্ব :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৭

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৬

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৫

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-৩০

সম্পাদনায়: এইচ এইচ চৌধুরী, গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা