বিএনএ, ঢাকা: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি। তিনি এখন কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। তবে এটা এক প্রকার নিশ্চিত তিনিই আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। সেই ক্ষেত্রে তিনি হবেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমানে আদালতের ঘোষিত মেয়র ডাক্তার শাহাদাত হোসেনের মুল প্রতিদ্বন্দ্বি। সেকারণে এখন থেকে বিএনপির মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে গত মঙ্গলবার নগরের কাট্টলী এলাকায় মনজুর আলমের বাসভবনে সাক্ষাতের পর বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে।

গত রমজানে চট্টগ্রামে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে ব্যবহৃত পানির বোতলে ‘মনজুর আলমের সৌজন্যে’ লেখা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবার এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়. মনজুর আলমের রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘদিনের। তাঁর বাবা আবদুল হাকিম কনট্রাকটর ছিলেন পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। নিজেও আওয়ামী লীগের সমর্থনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরে ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে নির্বাচন করে তিনি প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। তবে ২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ কর্মকাণ্ডেও তাঁকে দেখা যায়।
২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পায়নি। এর আগে ২০১৮ এবং ২০২০ সালের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মনোনয়ন পাননি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন মনজুর আলম। তবে আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্র দখল, ও প্রশাসনের নিরব ভূমিকার প্রতিবাদে ভোটের দিন তিনি নির্বাচন বর্জন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনজুর আলম এনসিপির প্রার্থী হলে বিএনপির জন্য তা ‘চ্যালেঞ্জ’ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাতব্য ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় তাঁর ব্যক্তিগত একটি ‘ভোটব্যাংক’ রয়েছে। পাশাপাশি অতীতে আওয়ামী লীগের সমর্থনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় দলটির সমর্থকদের একটি অংশের সহানুভূতিও পেতে পারেন তিনি। বিএনপির সমর্থনে মনজুর আলম মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় গ্রুপিং রাজনীতির একটি অংশের গোপন সমর্থন পাবেন তিনি।
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েও বিভিন্ন সময় রাজনীতির আশে পাশেই ছিল মনজুর আলমের অবস্থান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তার কাট্টলীস্থ বাসার সামনে আয়োজিত এক সভায় তিনি বিএনপির পক্ষে ভোট চান। তাঁর অর্থায়নে বেগম খালেদা জিয়া জামে মসজিদ নির্মাণ, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁকে বিএনপির রাজনীতির প্রভাবক হিসাবে দেখা যায়।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির কোন প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করতে পারবে না। কেননা সব পরিচিত নেতাদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। সেই ক্ষেত্রে সাবেক মেয়র মনজুর আলমকে সমর্থন দিতে পারে আওয়ামী লীগ । জাতীয় পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির প্রার্থী সমর্থন তো থাকবেই। ফলে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে সম্ভাব্য এনসিপি প্রার্থী মনজুর আলমের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হবে এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

