27 C
আবহাওয়া
১১:১০ অপরাহ্ণ - সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ! শিল্প বন্ধ, দ্বিগুণ ভাড়া, সিলিন্ডারেও আগুন!

ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ! শিল্প বন্ধ, দ্বিগুণ ভাড়া, সিলিন্ডারেও আগুন!


বিএনএ, ঢাকা: দিনের পর দিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়, কিন্তু ঘরের চুলোয় হাঁড়ি চড়ে না। লাইনের গ্যাস না পেয়ে মানুষ যখন সিলিন্ডার কিনতে যাচ্ছে, সেখানেও বসানো হয়েছে সিন্ডিকেটের থাবা! কোথাও তিন বেলা ভাতের বদলে পরোটা-নান খেয়ে দিন পার করছে মানুষ, আবার কোথাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক শিল্প কারখানা। তীব্র গ্যাস সংকটে আজ পুরো দেশের জনজীবনে উঠেছে নাভিশ্বাস। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, খোদ কট্টর সরকার সমর্থকরাও এখন প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। চারদিকে শুধু একটাই প্রশ্ন—কবে শেষ হবে এই গ্যাস সংকট মহামারী? নাকি এক বড় ধরণের জনবিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছে পুরো দেশ?

YouTube player

কাগজে-কলমে হিসাবটা একটু মিলিয়ে নেওয়া যাক। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু জাতীয় গ্রিডে দেশীয় গ্যাস এবং এক্সিলারেট ও সামিটের দুটি এলএনজি টার্মিনাল মিলিয়েও সরবরাহ করা যাচ্ছে না চাহিদামতো গ্যাস। প্রতিদিন গড়ে ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ হাজার ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট! চাহিদার প্রায় অর্ধেকই হাওয়া! এই বিপুল ঘাটতি সরাসরি আঘাত হেনেছে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে যদি নতুন এলএনজি কার্গো সময়মতো দেশে না পৌঁছায়, তবে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত এবং ভয়ংকর রূপ নেবে।

লাইনের গ্যাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে মানুষ যখন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম বা সিলিন্ডার গ্যাসের  দিকে ঝুঁকছে, সেখানেও বাজার সিন্ডিকেটের নির্মম থাবা। সিলিন্ডার গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু মুনাফাখোর ব্যবসায়ী প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছে! ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর ব্যয়ের বোঝা এখন আকাশচুম্বী।

অন্যদিকে, রান্নার কোনো বিকল্প উপায় না পেয়ে শহরের বিরাট এক জনগোষ্ঠী প্রতিদিন তিন বেলা হোটেল ও রেস্তোরাঁর পরোটা, নান বা ভাজির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে, যা মানুষের পকেট কাটার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। রাস্তায় সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস না পেয়ে এখন দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

ভোগান্তি শুধু রান্নাঘরেই শেষ নয়; গ্যাসচালিত বড় বড় সার কারখানাসহ দেশের শত শত শিল্প কারখানা আজ বন্ধের মুখে। উৎপাদন থমকে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে বেকারত্ব। দেশের অর্থনীতি যে চাকার ওপর ভর করে সচল থাকে, সেই চাকাই আজ গ্যাসের অভাবে জং ধরে যাচ্ছে। আর এই জ্বালানি খাতের নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনা সরকারের রাজনৈতিক ভিতকেও নাড়িয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, যারা এতদিন কট্টরভাবে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের অন্ধ সমর্থন করে এসেছেন, সেই কট্টর দলীয় সমর্থকরাও এখন প্রকাশ্যে সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করছেন।

এই সংকটের সরাসরি মাশুল গুনছে দেশের সাধারণ মানুষ। সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস পাচ্ছে না। যারা পাচ্ছে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে এখন দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকছে। যার পকেট কাটছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের। অন্যদিকে, গ্যাসচালিত বড় বড় সার কারখানাসহ দেশের শত শত শিল্প কারখানা আজ বন্ধের মুখে। গ্যাস সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট বা নিশ্চিত আশ্বাস দিতে পারছে না প্রশাসন।

শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, এই তীব্র গ্যাস সংকট এখন বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। ঘরে গ্যাস নেই, কারখানায় কাজ নেই, রাস্তায় যাতায়াতের খরচ দ্বিগুণ—এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ফলে জনমনে বাড়ছে তীব্র ক্ষোভ, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সরকারের জনপ্রিয়তায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,একটি দেশ এভাবে দিনের পর দিন জ্বালানি সংকটে স্থবির হয়ে থাকতে পারে না। এলএনজি আমদানির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হোক কিংবা দেশীয় খনি থেকে গ্যাস উত্তোলনের জোরালো উদ্যোগ—সরকারকে এখনই নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। নয়তো এই গ্যাস সংকট পুরো দেশকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।

সৈয়দ সাকিব

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ
বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘আইনে বাধা না থাকলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে’ হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি দেয়নি হাইকোর্ট এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ ১০ সেপ্টেম্বর বেনজীরকে দেশে ফেরাতে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৭ দিনে আক্রান্ত ৫ শতাধিক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা উঠাল ৩২৭ কোটি টাকা