এনসিপির মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম গত ১২ অক্টোবর তার নির্বাচনী এলাকা পঞ্চগড়ে দুই হাজার মোটর সাইকেল নিয়ে লং মার্চ কর্মসূচী পালন করেন। লংমার্চ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে সারজিস বক্তব্য প্রদানকালে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নেসকোর কর্মকর্তাদের কলিজা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলার হুমকি দেন। সারাদেশে এনসিপি নেতার এই বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয় এক ধরনের শঙ্কা।
সারজিস আলমের এই বক্তব্যকে অনেকে ছাত্রলীগ নেতার প্রতিধ্বনি বলে মন্তব্য করে। নেসকোর কর্মকর্তাদের সারজিসের কলিজা ছিঁড়ে ফেলার জের না কাটতেই মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ঘোষণা করেন, এনসিপি শাপলা প্রতীক বরাদ্দ পাচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশন সচিবের এ ঘোষণার পর অনেকে মন্তব্য করেছেন, এবার কি এনসিপি নেতা সারজিস আলম প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যদের কলিজা ছিড়ে ফেলার ঘোষণা দিবেন? না, তিনি এবার এ সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা দেননি। এবার নরম গলায় সারজিস আলম বলেছেন, শাপলা এনসিপির বৈধ অধিকার। শাপলা প্রতীক নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নিবে এনসিপি। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
শাপলা প্রতীক না পেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিবন্ধন নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, ইসি সচিবের আচরণ স্বৈরাচারী। শাপলা প্রতীক অবশ্যই দিতে হবে কমিশনকে। প্রতীক দেওয়া নিয়ে নির্বাচনে কোনো জটিলতা তৈরি হলে তার দায় কমিশনকেই নিতে হবে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন আরেক কাঠি সরেস। তিনি বলেন, শাপলা ছাড়া এনসিপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবে না।
শাপলা প্রতীক পেতে অনড় অবস্থানে রয়েছে এনসিপি। এ নিয়ে ইসির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক ও চিঠি দিয়েছে দলটি। বিভিন্ন সময় এনসিপি নেতারা তাদের বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে এই প্রতীক পেতে তারা লড়বেন রাজপথে। কিন্তু এইসব হুমকি আমলে নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, এনসিপি শাপলা প্রতীক চেয়ে আবেদন করার আগে নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ কংগ্রেস শাপলা প্রতীক চেয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তালিকায় শাপলা না থাকা এবং জাতীয় প্রতীক হওয়ায় এনসিপিকে শাপলা বরাদ্দ দিলে আইনগত ঘাপলা তৈরি হবে। সেকারণে শাপলা প্র্রতীকটি তালিকাভূক্ত করা থেকে বিরত রয়েছে ইসি।
টানটান উত্তেজনার মধ্যে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আশার আলো দেখাচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তিনি বলেছেন, ‘এনসিপি শাপলা পাবে’। হাসনাতের কাছে কোন্ জাদুর কাঠি আছে সেটি দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দেশের কোটি কোটি রাজনৈতিক সচেতন মানুষ।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে ১১৫টি প্রতীক রয়েছে। সেখান থেকে বাছাই করতে লাউ, বেগুন, কলা, থালা, খাটসহ ৫০টি প্রতীকের তালিকা এনসিপির কাছে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে শাপলা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প প্রতীক নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিলে নির্বাচন কমিশন লটারি করে এনসিপির জন্য প্রতীক বরাদ্দ করবে। সেই ক্ষেত্রে লাউ, বেগুন, কলা, থালা, খাট প্রতীক লটারিতে উঠে এলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। ইসি সে পথেই হাটছে।
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

