23 C
আবহাওয়া
৩:৩৬ অপরাহ্ণ - মে ১১, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ১৭ জুলাইয়ে সেই ‘বিষাক্ত ভাষণ’ ছিল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র!

১৭ জুলাইয়ে সেই ‘বিষাক্ত ভাষণ’ ছিল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র!


বিএনএ, ঢাকা:১৭ জুলাই, ২০২৪। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সেদিনের সেই ভাষণ শোকের বদলে এনেছিল ক্ষোভ। যে ভাষণ ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের টার্নিং পয়েন্ট! অনেকেই জানেন না, এই ‘সর্বনাশা’ ভাষণটি লিখেছিলেন শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন, পিএমও-র স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম। আস্থার আড়ালে কি ছিল কোনো ভয়ংকর ষড়যন্ত্র? কালো শাড়ি পরা থেকে শুরু করে আক্রমণাত্মক শব্দচয়ন—সবই কি ছিল সাজানো ফাঁদ?

YouTube player

দীর্ঘ ১৬ বছর শেখ হাসিনার ছায়াসঙ্গী ছিলেন নজরুল ইসলাম। পিএমও-র স্পিচ রাইটার হিসেবে তাঁর প্রতিটি শব্দ ছিল হাসিনার কণ্ঠস্বর। কিন্তু ১৭ জুলাইয়ের ভাষণে তিনি ব্যবহার করেন চরম বিষাক্ত শব্দ, যা ছাত্র-জনতাকে শান্ত করার বদলে আরো উসকে দেয়।

অভিযোগ আছে, শোকাবহ পরিস্থিতি তৈরি করে সহমর্মিতা পাওয়ার বদলে, নজরুল ইসলাম কু-পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনাকে ‘কালো শাড়ি’ পরিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য? জনমনে ঘৃণার জন্ম দেওয়া। এটি কেবল একটি ভাষণ ছিল না, এটি ছিল একজন ‘ইনসাইডারের’ চূড়ান্ত রাজনৈতিক ফাঁদ!

দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক স্পিস রাইটার নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সামনে আসছে তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার, সহকর্মীদের সঙ্গে বিবাদ এবং সবশেষে আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল পথে চালিত করার গুরুতর সব অভিযোগ।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে, পিএমও-তে থাকাকালীন সময়েই নজরুলের কক্ষে নিয়মিত যাতায়াত ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের অনেকের সঙ্গে তার সখ্যতা ছিল! যিনি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তির বক্তব্য লিখতেন, তাঁর সাথে বিরোধী শিবিরের এই নিয়মিত যোগাযোগ কীসের ইঙ্গিত দেয়?

নজরুল ইসলাম জানতেন, কখন কোন শব্দ পরিস্থিতি ঘোলাটে করবে। সেই বিষই তিনি ঢেলেছিলেন ১৭ জুলাইয়ের ভাষণে, যা হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্ষমতাকে এক নিমেষে ধূলিসাৎ করে দেয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্যমতে, নজরুল ইসলাম কেবল একজন ভাষণ লেখক ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন গণভবনের ক্ষমতার অঘোষিত একনিয়ন্ত্রক।

কোটা বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন নজরুলের ছেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর ছেলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে কোটা বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

ডিসি-এসপিদের বাধ্য করে প্রধানমন্ত্রীর ওপর লেখা বই বিক্রি এবং চলচ্চিত্র জগতের ক্রেডিট চুরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ১৬ বছর শেখ হাসিনার ছায়াসঙ্গী হয়েও পতনের পর নজরুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না হওয়া এবং তাঁর ছেলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চরম বিস্ময় ও সন্দেহের দানা বেঁধেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির প্রায় সব শীর্ষ নেতা ও প্রভাবশালী কর্মকর্তারা আত্মগোপনে বা মামলার মুখে পড়লেও নজরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ১৬ বছর দাপটের সঙ্গে কাজ করার পর তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনএ/ সৈয়দ সাকিব

Loading


শিরোনাম বিএনএ