Bnanews24.com
Home » শূন্যপদ পূরণে হাটহাজারী মাদ্রাসার শুরা কমিটির বৈঠক চলছে
এক নজরে বৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃহত্তর চট্টগ্রাম সব খবর

শূন্যপদ পূরণে হাটহাজারী মাদ্রাসার শুরা কমিটির বৈঠক চলছে

শূন্যপদ পূরণে হাটহাজারী মাদ্রসার শুরা কমিটির বৈঠক চলছে

বিএনএ চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম  মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির (শুরা) বৈঠক চলছে। বুধবার ( ৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় মাদ্রাসায় এ বৈঠক শুরু হয়। এতে ১৩ জন উপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। মাদ্রাসা এলাকায় তাদের নিজেদের লোক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

শুরা কমিটির সদস্য ফতেপুর নাছেরুল ইসলাম মাদ্রাসার পরিচালক মওলানা মাহমুদুল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সকালে বৈঠক শুরু হয়েছে। সেখানে মহাপরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।

হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী মাদ্রাসাটির মহাপরিচালক ছিলেন। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যাওয়ায় পদটি শূন্য হয়। তার মৃত্যুর পর শুরা কমিটির পক্ষ থেকে মাদ্রাসা পরিচালনায় এককভাবে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়িনি।  তিন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়।

এদিকে গত ১৯ আগস্ট মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ইন্তেকাল করেন। মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে থাকা দুই শিক্ষকের মৃত্যু, মহাপরিচালক পদ শূন্যসহ সব পদে দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সপ্তাহখানেক আগে শুরা কমিটির বৈঠক ডাকা হয় ।

শুরা কমিটির সূত্র জানিয়েছে, মাদ্রাসার মহাপরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ আটটি পদে শিক্ষকদের মধ্য থেকে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।

দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সদর দফতর হিসেবে এ মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে কে আসছেন, সেটি দেখার অপেক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আহমদ শফীর শূন্যস্থানে কে আসীন হবেন, সেটি বৈঠক শেষে জানা যাবে।

মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মাদ্রাসার পাঁচ সিনিয়র শিক্ষক। তারা হলেন- মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির তিন সদস্য মওলানা আব্দুস ছালাম চাটগাঁমী, আল্লামা শেখ আহমদ এবং মওলানা ইয়াহিয়া। এর বাইরে আলোচনায় রয়েছেন মুফতি জসিম উদ্দিন এবং মওলানা শোয়েব।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সাল থেকে টানা ৩৪ বছর হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ছিলেন আল্লামা আহমদ শফী। দীর্ঘদিন শুধু মাদ্রাসাটি নয়, পুরো কওমি অঙনে তার একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। পাশাপাশি মাদ্রাসাটির নায়েবে মোহতামিম ছিলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। আহমদ শফীর পরবর্তী মহাপরিচালক পদের অন্যতম দাবিদার ছিলেন বাবুনগরী। ২০২০ সালের ১৭ জুন এক বৈঠকের মাধ্যমে বাবুনগরীকে মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তার স্থলে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল শেখ আহমদকে। এরপর থেকে ঘনীভূত হতে থাকে মাদ্রাসটির সঙ্কট ।

একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর শফীর অব্যাহতি এবং তার ছেলে মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আনাস মাদানির বহিষ্কার দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনের সময় মাদ্রাসায় ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একদিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর শফী নিজে মহাপরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি নেন এবং ছেলে আনাস মাদানিকেও সহকারী পরিচালক (শিক্ষা) থেকে বাদ দেন। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহমদ শফী মারা যান।

তার ইন্তেকালের পর থেকে আবারও পাল্টাতে শুরু করে হাটহাজারী মাদ্রাসার দৃশ্যপট। আহমদ শফির দাফনের দিন হাটহাজারী মাদ্রাসায় শূরা কমিটির বৈঠকে জুনায়েদ বাবুনগরীকে আবারও শিক্ষা পরিচালক ও প্রধান শায়খুল হাদিস হিসেবে নিয়োগ এবং মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

ওই তিন সদস্যের নেতৃত্বে এক বছর ধরে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়েছে। এ সময়ে মাদ্রাসা অনেকটা হেফাজতের প্রয়াত আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায় আহমদ শফীর শূন্যতা তেমন অনুভব করা যায়নি। তবে গত ১৯ আগস্ট তিনি মারা যাওয়ার পর মাদ্রাসা পরিচালনায় নতুন করে সংকট দেখা দেয়। এর মাত্র ২০ দিনের মাথায় নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে শুরা বৈঠক ডাকা হয়েছে।

বিএনএনিউজ/আরকেসি