34 C
আবহাওয়া
১:৩৬ অপরাহ্ণ - জুলাই ৪, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা

শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা


বিএনএ,ক্রীড়া ডেস্ক: আটলান্টিক মহাসাগরের বুক থেকে উঠে আসা আফ্রিকার পুঁচকে এক দেশ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যেভাবে টানা ১২০ মিনিট নাকানি চুবানি খাইয়ে গেল, তাতে কে বলবে এটি তাদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আসা একটা পরাশক্তি দল মাত্র ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা শেষ বত্রিশের একটা ম্যাচ জিতেই যেন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ করল! হবেই নাও বা কেন? ম্যাচের ১১১তম মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডটি যদি ডিফেন্ডার বোর্জেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে না জড়াত, তবে হয়তো ম্যাচের শেষ দৃশ্যটাই বদলে যেতে পারত। ৩–২ গোলের এই স্বস্তির জয় না এলে হয়তো শেষ ষোলোতে ওঠাই হতো না লিওনেল মেসির দলের।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে আর্জেন্টিনা গোলমুখে প্রথম আক্রমণ করার পর পরবর্তী আধা ঘণ্টায় কেপ ভার্দেকে কোনো সুযোগই দেয়নি। উল্টো ২৯তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন লিওনেল মেসি। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের বাড়ানো লম্বা পাস চমৎকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, দ্বিতীয় স্পর্শেই কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়ার মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে জড়ান।

মূলত এই গোল হজম করার পর থেকেই শুরু হয় কেপ ভার্দের রূপকথার প্রতিরোধ পর্ব। প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজ ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেলেও ভোজিনিয়া দারুণ এক সেভে কেপ ভার্দেকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

বিরতির পর সম্পূর্ণ অন্য এক কেপ ভার্দেকে দেখা যায়, যারা আক্রমণে ছিল অবিশ্বাস্য রকমের সাহসী। ৫৪ মিনিটে দেরয় দুয়ার্তের এক জোরালো শট আর্জেন্টাইন বাজপাখি এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ঠেকিয়ে না দিলে তখনই সমতায় ফিরত তারা। তবে সেই রক্ষা বেশি দীর্ঘ হয়নি; ঠিক ৫ মিনিট পর ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের নিখুঁত কাটব্যাক থেকে অত্যন্ত দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া শটে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে দেন সেই দুয়ার্তে (১-১)।

গোল হজম করার পর মাঠের ভেতরে চরম অস্থির হয়ে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোচ লিওনেল স্কালোনি একে একে মাঠে নামান হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গনসালেস এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসদের। মেসিও একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকেন। কিন্তু ৬২ মিনিটে এবং ৭২ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করে আর্জেন্টিনার সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। শেষ দিকে মেসির আরও একটি ফ্রি-কিক এবং পারেদেসের দূরপাল্লার বুলেট শট ঠেকিয়ে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান এই গোলকিপার।

অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের ফ্লিকে বল পেয়ে চমৎকার এক বাঁ পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস।

কিন্তু কেপ ভার্দে যে সহজে হার মানার দল নয়। ১০৩ মিনিটে বাম দিক থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের এক চোখধাঁধানো বাঁকানো শটে বল আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে দেন সিডনি কাবরাল। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার এমি মার্তিনেজের স্রেফ চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার এই গোলের পর আবারও স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ যখন নিশ্চিতভাবেই পেনাল্টি টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ১১১ মিনিটে আসে কেপ ভার্দের জন্য সেই ‘নিষ্ঠুর মুহূর্ত’। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর করা হেডটি কেপ ভার্দের বোর্হেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। এই দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলেই শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় কেপ ভার্দের রূপকথার স্বপ্ন।

বিএনএ/ ওজি

Loading


শিরোনাম বিএনএ