Bnanews24.com
Home » ৪৭ এর দেশভাগ নিয়ে পূর্ববঙ্গ নিরব : তানভীর মোকাম্মেল
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষা সব খবর

৪৭ এর দেশভাগ নিয়ে পূর্ববঙ্গ নিরব : তানভীর মোকাম্মেল

৪৭ এর দেশভাগ নিয়ে পূর্ববঙ্গ নিরব : তানভীর মোকাম্মেল

বিএনএ,জাবিঃ দেশ ভাগ আমার হৃদয় স্পর্শ করে। বিশেষ করে ‘৬৪’র দাঙ্গার আমার আশেপাশে সবাই চলে যেতে শুরু করেছে।  দেশ ভাগের সময় মুলত ভারত ভাগ নয়নি হয়েছ পাঞ্জাব ভাগ। পাঞ্জাবের দুঃখ কষ্ট নিয়ে বহু সাহিত্যকের ভাষায় বহু আলোচনা উঠে এসেছে। বাংলা ভাগ নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে যা কিছু আলোচনা হয়েছে সব পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যকের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। কোনো এক অদৃশ্য কারণে পূর্ববঙ্গে দেশ ভাগ নিয়ে এক প্রকার নিরবতা কাজ করে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক মোহাম্মদ উল্লাহর ‘State, Identity Diaspora in Tanvir Mokammel’s Films’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিতে তানভীর মোকাম্মেল এসব কথা বলেন।
৪৭ এর দেশভাগ নিয়ে পূর্ববঙ্গ নিরব : তানভীর মোকাম্মেল

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাবির কলা ও মানবিক অনুষদের ১০৩ নাম্বার কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, আমি বুঝতে চেষ্টা করেছি এ নিরবতা। একটা কারণ হতে পারে এখানকার মানুষ খুব বেশি পড়াশোনা জানতো না, তাই এ বিষয়ে খুব বেশি লিখালিখি হয়নি। আরেকটা কারণ হতে পারে এখানকার মানুষ দেশ ভাগের ফলে সুবিধা পেয়েছে। এছাড়াও একটা অবচেতন মনে অপরাধ বোধও কাজ করতে পারে তাদেন মনে। সংখ্যালুগুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া লুটপাটের কারণে এ অপরাধ বোধ কাজ করতো। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্মৃতিতে বৃহৎ স্থান দখল করে রাখলেও দেশ ভাগ আমাদের স্মৃতিতে তেমন জায়গা করে নিতে পারেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘চেক উপন্যাসিক মিলেন কন্ডাল একটা কথা বলেছেন, ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রাম হচ্ছে স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির যুদ্ধ।  শাসকরা অতিতকে ভুলিয়ে দিতে চায়, কর্পোরেট মিডিয়াও সামনে আনে না। ১৯৭১ সালের বিহারিদের অত্যাচার আমি নিজের চোখেই দেখেছি। আমি বাঙালি পরিচয় কিংবা বাহ্যিক পরিচয় ভুলে গিয়ে মানবতাবাদী শিল্পী হিসেবে বিহারিদের কষ্টের কথা, বাঙালিদের কথা, পাহাড়িদের কথা সামনে আনার চেষ্টা করেছি।’

এ সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘জিওকালচারাল আইডেন্টিটি থিওরি ব্যাক্তিসত্তার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। বিতর্ক এড়িয়ে প্রত্যেক মানুষের ভূমি ও সাংস্কৃতিক পরিচিতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার প্রতি জোরালো দাবি জানায়। তানভীর মোকাম্মেলের চলচ্চিত্র ‘সীমান্তরেখা ও স্বপ্নভূমি’ তে উত্থাপিত সমস্যার সমাধান এ তত্ত্বে আলোচনা করা যেতে পারে।’

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ আহসানুজ্জাম বলেন, ‘সীমান্তরেখা ও স্বপ্নভূমি’ এ দুটি প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে তানভীর মোকাম্মেল মানবতাকে মেলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তানভীর মোকাম্মেল সবার আগে মানুষকে দেখেছেন মানুষ হিসেবে। তিনি এখানে মানবতাবাদেন প্রকাশ ঘটিয়েছে। কাজ করতে গিয়ে তার কখনও মনে হয়নি কে হিন্দু, কে মুসলমান বা কে বিহারি, কে বাঙালি। যার কারণে বাঙালি পরিচয় সহ অন্য সকল সীমাবদ্ধতা নিয়েও মানবিক সমস্যাকে মানবিক ভাবে মুল্যায়ন করার চেষ্টা করছেন। তার এ দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা আর প্রসারতা আমাদের ভাবতে শেখায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের ভাবতে হবে কেন বর্তমান জনশুমারিতে ১.৫৭ শতাংশ হিন্দু কমে গেলো। ৪৭ এর  দেশভাগের প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। আমাদের ভাইয়েরা আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে নিরবে নিবৃত্তে।’

মোহাম্মদ উল্লাহর লেখা বই সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের লেখা খুব কম হয় আমাদের দেশে। বাংলাদেশ ফিন্ম আর্কাইভ খুব ভালো একটা কাজ করেছে। যার জন্য আমি তাদের সাধুবাদ জানাই।’

এছাড়াও তিনি তার বক্তব্যে তানভীর মোকাম্মেলের বইয়ের গঠনমূলক সমালোচনাও করেছেন।

জনাব মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেলের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক, জাবির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ, জাবির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুনির হোসেন তালুকদার অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম রাসেল সহ প্রমুখ।

বিএনএ/সানভীর, এমএফ