30 C
আবহাওয়া
১:৪৭ পূর্বাহ্ণ - সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’! সহিংসতার দায় কার?

‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’! সহিংসতার দায় কার?


বিএনএ, ঢাকা : ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। তাদের এই কর্মসূচিকে ঘিরে মঙ্গলবার রাত থেকেই জেলাটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশের গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলিতে রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক ও লঞ্চঘাট এলাকা।

দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জের পৌরপার্ক এলাকায় আয়োজিত এনসিপি’র সমাবেশস্থলে হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা অবশ্য তখনও সমাবেশস্থলে পৌঁছাননি।

ওই সময় হামলাকারীরা সভামঞ্চের সাউন্ড বক্স, মাইক, চেয়ার ভাঙচুরসহ উপস্থিত এনসিপি’র নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণ করে। পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা তাদের পাল্টা ধাওয়া দিয়ে সভাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলার জন্য দায়ী করে অচিরেই এর জবাব দেওয়া হবে বলে সমাবেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

“মুজিববাদীরা আজকে বাধা দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে আমরা বলেছিলাম, বাধা দিলে বাধবে লড়াই, সেই লড়াইয়ে জিততে হবে এবং সেই লড়াইয়ে আমরা জিতেছিলাম। আজকে আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। অচিরেই আমরা এর জবাব দেব ইনশাআল্লাহ,” বলেন নাহিদ।

এ সময় কড়া পুলিশ পহারায় এনসিপি’র নেতারা আওয়ামী লীগ বিরোধী শ্লোগান দেয়।

বিপত্তি ঘটে সমাবেশ শেষে। এনসিপি নেতারা কড়া পুলিশ পহারায় মাদারীপুর যাওয়ার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ, ছাত্রলীগের হাজার হাজার কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে এবং  এনসিপি নেতাদের গাড়ি বহরে ইটপাটকেলের বৃস্টি বর্ষণ করে।

এ সময় সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, ৯ জন গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদিও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেনি বলে দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম।

এখন প্রশ্ন ওঠেছে কার গুলিতে হতাহতেরঘটনা ঘটেছে?

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মুহুর্মুহু গুলি, টিয়ার শেল নিক্ষেপ— সর্বোপরি ১৪৪ ধারা জারি করে করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সর্বশেষ বুধবার রাত আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন।

এনসিপির দাবি, নেতাদের “হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায় হামলা” চালানো হয়েছে এবং “আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা” এই হামলা চালিয়েছে।

এর আগে পুলিশ ও র‍্যাবের পাহারায় এনসিপির নেতাদের শহর থেকে বাইরে বের করার চেষ্টা করা হলেও ব্যাপক হামলার মুখে তাদের আবারও শহরে ফিরিয়ে আনা হয়।

কিছুক্ষণ পরে সেনাবাহিনীর একটি টহল টিম ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয়। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোঁড়েন। একপর্যায়ে এনসিপি নেতাদের গাড়ি বহর ঘুরিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

গাড়িবহরে হামলার ঘটনার পর, প্রাথমিকভাবে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের শীর্ষ নেতারা।

সেখানে এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ”আমরা যখন রওনা দিয়েছি, তখন গ্রাম থেকে যত আওয়ামী লীগ-যুবলীগ, সারা বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে।

হামলা প্রতিহতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন দলটির নেতারা।

দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বুধবার দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘গোপালগঞ্জে খুনি হাসিনার দালালেরা আমাদের ওপরে আক্রমণ করেছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে নাটক দেখছে, পিছু হটছে। আমরা যদি এখান থেকে বেঁচে ফিরি, তাহলে মুজিববাদের কবর রচনা করেই ফিরবো, না হয় ফিরবো না।’

পরে ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর এপিসি যোগে সেনা ও পুলিশের কড়া পাহারায় গোপালগঞ্জ ছাড়েন তারা। রাত সাড়ে ৭টার দিকে তারা নিরাপদে খুলনায় পৌঁছান।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও হামলাকারিদের গ্রেপ্তার করতে গোপালগঞ্জে রাত আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে ।

বুধবার সন্ধ্যার পরই অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে গোপালগঞ্জ শহর। ঘরে ফেরা কয়েকজন মানুষকে বিচ্ছিন্নভাবে রাস্তায় দেখা গেলেও তাদের চোখেমুখেও ছিল আতঙ্ক। শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে র্যাাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি উপস্থিতি দেখা গেছে।

গোপালগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিক্ষোভ পালনের ঘোষণা দিয়েছে এনসিপি। “আওয়ামী লীগ অনেকদিন ধরে পরিকল্পনা করে এটা ঘটিয়েছে” বলেও তারা দাবি করেছে। “যতই হামলা, হত্যাচেষ্টা হোক- জুলাই পদযাত্রা থামবে না” বলেন নাহিদ ইসলাম। রাত পৌনে ১০টার দিকে খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিক্ষোভ পালনের ঘোষণা দেন।

এদিকে এনসিপি’র কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার বিকেলে সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে।

এদিকে গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের হামলার ঘটনায় আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুক্রবার লংমার্চ টু গোপালগঞ্জ পালিত হবে। বুধবার  বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এক প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে শাহবাগ থানা ঘেরাওকালে এ ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী।

এই অবস্থায় শুক্রবার গোপালগঞ্জ কি আবারও রণক্ষেত্রে রূপ নেবে? কী অপেক্ষা করছে, গোপালগঞ্জবাসী তথা আওয়ামী লীগও নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ভাগ্যে?

এনসিপি ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির মাঝপথে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে কেন রাজনৈতিক মাঠ গরম করলো? নেপথ্যে অন্যকোনো পরিকল্পনা ছিল কী না—তার উওর জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন রাজনৈনিক বিশ্লেষকরা।

বিএনএনিউজ/ সৈয়দ সাকিব/এইচ.এম।

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ