33 C
আবহাওয়া
৬:৩৭ অপরাহ্ণ - এপ্রিল ১৭, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতেই ড. ইউনূসের ‘সংস্কার প্যাকেজ’ নাটক!

২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতেই ড. ইউনূসের ‘সংস্কার প্যাকেজ’ নাটক!


বিএনএ ডেস্ক :  মার্কিন ডিপ স্টেট মেটিকুলাস ডিজাইন অনুযায়ী কয়েক বছর আগেই শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেছিল । ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ছাত্রদের কোটা বিরোধী আন্দোলন ছিল উপলক্ষমাত্র। তার প্রমাণ মিলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে।

YouTube player

২৬ শে মার্চ বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখার জন্য ‘ডিপ স্টেট’ পুরো স্ট্রাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল।

ডিপ স্টেটের সূত্রানুসারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে কথিত ‘সংস্কার তত্ত্ব’ হাজির করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, ড.মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীন মোবাইল ফোনের প্রতিষ্ঠাতা। তার হাত ধরে দেশে মোবাইল ফোনের বাজার সম্প্রসারিত হয়। মোবাইল অপারেটররা যেমন ছোট-বড় বিভিন্ন ডাটা বা টকটাইম প্যাকেজ দিয়ে গ্রাহককে প্রলুব্ধ করে, ড. ইউনূসও তেমনি রাষ্ট্র সংস্কারের ১০টি কমিশন গঠন করে জাতিকে একটি ‘অন্তহীন প্যাকেজে’র মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। ড. ইউনূস নির্বাচনের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না দিয়ে বারবার সংস্কারের ‘ছোট প্যাকেজ’ ও ‘বড় প্যাকেজ’-এর তত্ত্ব সামনে এনেছে। ‘রাষ্ট্র মেরামত’ বা ‘বৈষম্য দূরীকরণ’-এর মতো সুন্দর নাম দিয়ে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সংস্কারের পরিধি নিয়ে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।

মোবাইল প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হলে যেমন গ্রাহককে আবার নতুন রিচার্জ করতে হয়, ড. ইউনূসও ‘ছোট সংস্কার’ শেষ হলে ‘বড় সংস্কার’-এর কথা বলে সরকারের মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। তিনি বলেছিলেন ‘মৌলিক সংস্কার’ ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক বৈঠকে ছোট এবং বড় সংস্কার প্যাকেজের ধারণাটি তুলে ধরেন। তিনি বলেছিলেন, ছোট বা অল্প সংস্কার করা হলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, বড় বা মৌলিক সংস্কার করা হলে ২০২৬ সালের জুনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মোবাইল অপারেটরদের হিডেন চার্জ বা লুকানো খরচ-এর মতো সরকারের এই সংস্কার প্যাকেজগুলোর মধ্যেও অনেক অস্পষ্টতা ছিল। কোন সংস্কারটি ‘ছোট’ আর কোনটি ‘বড়’, তার কোনো সাংবিধানিক বা আইনি সংজ্ঞা ছিল না।
টেলিকম গ্রাহকরা যেমন সস্তা রেটের আশায় প্যাকেজ কেনেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোম্পানিরই লাভ হয়, তেমনি দেশের সাধারণ মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশায় সংস্কার মেনে নিলেও দিনশেষে এর সুফল ভোগ করেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তার উপদেষ্টা পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং তাদের নেপথ্যের সহযোগী জামায়াতে ইসলামী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখার যে ইঙ্গিত ড. ইউনূস দিয়েছেন, তা মূলত ‘সংস্কারের কিস্তি’ মিটিয়ে সময় পার করার একটি আধুনিক পদ্ধতি।

সরকারের পক্ষ থেকে যখন ‘ছোট প্যাকেজ’ ও ‘বড় প্যাকেজ’-এর আলাপ তোলা হয়, তখন থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে ‘রাজনৈতিক বিভ্রান্তি’ হিসেবে দেখছেন।

সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত নির্বাচন। কিন্তু সরকার সেদিকে নজর না দিয়ে ‘কাঠামোগত সংস্কার’-এর মতো তাত্ত্বিক প্যাকেজ বিক্রি করছে। ‘ছোট সংস্কার’ ও ‘বড় সংস্কার’-এর এই দ্বিমুখী আলাপ আসলে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ পাশ কাটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল বা ‘রাজনৈতিক নাটক’।
সমালোচকরা দাবি করেন, এই সংস্কার প্যাকেজের ডামাডোলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। কারাগার থেকে ৯৮ জন দুর্ধর্ষ জঙ্গির পলায়ন এবং ১৭০ জনের বেশি জঙ্গির জামিনে মুক্তি পাওয়াকে সরকারের ‘নিরাপত্তা প্যাকেজে’র বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের নামে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। ঠিক যেমন গ্রাহকরা অনেক সময় বড় প্যাকেজ কিনেও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে সেবা পান না।

সরকার যে ১০টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে খোদ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই অনাস্থা তৈরি হয়েছে। বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলো বারবার প্রশ্ন তুলেছে—একটি অনির্বাচিত সরকার কি সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের মতো ‘বড় সংস্কার’ করার আইনি বৈধতা রাখে?

সমালোচকদের মতে, এই ‘প্যাকেজ নাটক’ মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করে সরকারের আয়ু বাড়ানো এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার মাত্র।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর সাথে এই সরকারের গোপন বোঝাপড়া নিয়ে। আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী শিবিরের দাবি, জামায়াত ইসলামী চাচ্ছে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে দীর্ঘ সময়। আর ড. ইউনূস সেই সুযোগটি করে দিচ্ছেন সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ করে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে হিযবুত তাহরীর ও জামায়াতের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড এবং আদালত পাড়ায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সরকারের নীরবতা এই ‘আঁতাত’ তত্ত্বকে আরও জোরালো করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, ড. ইউনূসের এই ‘ছোট ও বড় সংস্কার’ মডেলকে ‘রাজনৈতিক বিপণন কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এটি জনগণের গণতান্ত্রিক এবং ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বদলে তার আদরের জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে ক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদী করার চেষ্টা ।কিন্তু বিএনপি এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ একই সঙ্গে আমলাদের বড় একটি অংশের অসহযোগীতার কারণে ড. ইউনূসের ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার অভিলাষ পূরণ হয়নি।

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

Loading


শিরোনাম বিএনএ