বিএনএ, ঢাকা : চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী।চট্টগ্রামে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল কর্মী সমাবেশে নেতাকর্মীদের তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন ভোটারদের বিশেষ করে মহিলাদের যেন বুঝানো হয় ভোট কেন্দ্রে আল্লামা হয়রত সাঈদী স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন। এটি যদি ভোটারদের বুঝানো হয় তাহলে অন্য মার্কায় কেউ দিবে না সাঈদী সাহেবের দাড়ি পাল্লার বাইরে একটি ভোটও যাবে না।
প্রসঙ্গত, গত চৌঠা নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় একটি পালাগানের আসরে সংগীত পরিবেশন করেন আবুল সরকার।
সেই পরিবেশনার কিছু অংশের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যেখানে তিনি “মহান আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে অশালীন কটূক্তি” করেন বলে অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে এলাকার আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতা।
অভিযোগ রয়েছে, পালাগানের পুরোটা প্রচার না করে এর নির্দিষ্ট একটি অংশ কেটে বিভ্রান্তিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নেতিবাচকভাবে তা প্রচার করেছে একটি মহল।
গত ১৯ শে নভেম্বর রাত একটার দিকে মাদারীপুরের একটি গানের আসর থেকে “নিরাপত্তার কথা বলে” রাজৈর থানার পুলিশ আবুল সরকারকে নিয়ে যায়।
পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে আবুল সরকারের বিরুদ্ধে “ধর্ম অবমাননা, কটূক্তি ও দাঙ্গা উসকে দেয়ার” অভিযোগে মামলা করে ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল্লাহ।
সন্ধ্যায় আবুল সরকারকে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আবুল সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে তিনি “ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের অবমাননা করে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কটূক্তি করে অবমাননামূলক অট্টহাসি দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে উসকানি দেয়ার অপরাধ” করেছেন।
প্রশ্ন ওঠেছে, জামায়াত ইসলামীর নেতারা হাজার হাজার তৌহিদী জনতার সামনে অহরহ ইসলাম ধর্ম, বিশ্ব নবী, নবীর স্ত্রী, সাহাবী, মদিনা শরীফসহ নানা বিষয়ে অবমাননা কর বক্তব্য দিয়েছে। এর বেশিরভাগই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইউটিউবে ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু জামায়াত ইসলামীর ওই সব নেতা ও আলেমদের বিরুদ্ধে কথিত তৌহিদী জনতা মামলা করা দুরে থাক, প্রতিবাদও করেনি।
আসুন, এবার দেখে নেই জামায়াত ইসলামী নেতারা ইসলাম ধর্ম, মহান আল্লাহ, বিশ্ব নবী মুহাম্মদ (স:) এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে কীধরনের মন্তব্য করেছেন।
জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান আজাহারি এক ওয়াজ মাহফিলে তাবলীগ জামায়াতের সমালোচনা করতে গিয়ে পুরাতন ঢাকার ভাষা ব্যবহার করে আল্লাহকে নিয়ে হাসি রসিকতা করেন। এক পর্যায়ে তিনি আল্লাহ ও নবীকে ‘হালা’ বলেন, যা বেশির ভাগ মানুষের কাছে গালি বিশেষ।
বিশ্ব নবীর স্ত্রী সর্ম্পকে অবমাননা কর মন্তব্য করেছেন আজাহারি। তাছল্যের সঙ্গে বলেছেন, বিশ্ব নবীর স্ত্রী হাদিজা (র:) ভার্জিন ছিল না।
আজাহারী হয়রত আলী (র:) সর্ম্পকে অবমাননা কর মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, তিনি মদ খেয়ে মাগরিবের নামাজে দাড়িয়েছিলেন এবং সুরা ভুল পড়েছেন!
জামায়াত ইসলামীর এই নেতা বিশ্ব নবীকে হয়রত মুহাম্মদ (স:) কে ‘কাউ বয়’ বলে সম্মোধন করেছেন।
জামায়াত ইসলামীর নেতা আল্লামা মওলানা তারেক মনোয়ার ভূমিকম্প সর্ম্পকে বলতে গিয়ে মদিনা শরীফ সর্ম্পকে অবমাননা কর মন্তব্য করেছেন।
এক ওয়াজ মাহফিলে আল্লামা তারেক মনোয়ার সুরা (এখলাস) নিয়ে তামশা করেন। (এখানে এখলাস শব্দটি বাদ যাবে)
জামায়াত ইসলামীর চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, আল্লাহ এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত ইসলামীকে ক্ষমতায় নিবেন।
জামায়াত ইসলামীর পাবনা জেলা আমির ও পাবনা-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রিন্সিপাল মওলানা ইকবাল হোসেন বলেছেন, নামাজ রোজা, হজ্ব যাকাত, কলেমার চেয়ে মুসলিম রাষ্ট্রের নেতা নির্বাচন করা সবচেয়ে বড় ফরজ।
জামায়াত ইসলামীর নেতা ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমান বলেছেন দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি হবে না।
জামায়াত ইসলামী নেতা ড.হিফজুর রহমান বলেছেন, এই নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে ভোট না দিলে ইমান থাকবে না।
জামায়াত ইসলামী নেতা সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, রোজা এবং পুজা একই মুদ্রার দুই পিঠ।
এবার আসি, জামায়াত ইসলামীর কুষ্টিয়া সদর আসনের প্রার্থী মুফতি আমির হামজার কথায়। তিনি এক ওয়াজ মাহফিলে বলেছেন, করোনা আসলে কোরআন শরীফ মিথ্যা হয়ে যাবে।
সম্প্রতি মুফতি আমির হামজা বলেছেন, জামায়াতকে ১টা ভোট দিলে ১৮ কোটি মানুষের নামাজের সওয়াব পাবেন।
জামায়াত নেতা হামজা ওয়াজ মাহফিলে নারীদের নিয়ে উত্তেজক বক্তব্য দিতে বেশ পটু। তিনি পরকীয়া, ধর্ষনকে উস্কে দেন বিভিন্ন সময়।
জামায়াত নেতা কাজী ইব্রাহিম বলেছেন, দাজ্জালের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে কাতারে। তার বাবা মায়ের সন্ধান পেয়েছেন। তারা আবর সাগরের কোন দ্বীপে বসবাস করে। তিনি এটাও বলেছেন তার ওয়াজমাহফিলেও হাজার হাজার জ্বিন আছে। যা যে কেই থার্মাল ইমেজিং যন্ত্র দেখতে পারেন।
এই জামায়াত ইসলামী নেতা আর বলেন, তিনি যখন কারাগারে ছিলেন তখন জিনদের তাবলীগ জামায়াতে এসে দেখা করেছেন। দাজ্জালের সঙ্গে তিনি যুদ্ধও করেছেন। দাজ্জালের কাছে কাজী ইব্রাহিমের বিষয়ে রিপোর্ট আছে।
জামায়াতের আরেক নেতা মওলানা মুসতাকুন্নবী কাসেমী নারী নেতৃত্বের বিরোধীতা করে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করেন।
জামায়াত ইসলামীর নির্বাচনী র্যাতলিতে অংশ নেয়া জনৈক নেতা বলেছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী ২০০ এর বেশি আসনে বিজয়ী হবে। দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে আল্লাহ ওঠে পড়ে লেগেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত ইসলামী নেতারা ইসলাম ধর্ম, আল্লাহ নবী, সাহাবিদের নিয়ে বিভিন্ন অবমাননা ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করলেও সামাজিক পেশার গ্রুপ কথিত তৌহিদী জনতা রহস্যজনকভাবে নিরব রয়েছে। রাজনৈতিক রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় তারা মাজার ভাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ করা, নারী ফুটবল বন্ধ করা, কথায় কথায় মব সৃস্টি করে নিরহ মানুষকে হত্যা করা, এমনকি কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। সর্বশেষ বাংলার আবহমান কাল থেকে চলে আসা পালা গানের খন্ডিত অংশ প্রকাশ করে বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা-মামলার ঘটনা দেশকে অন্ধকারে দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যা কবি সামশুর রহমানের ‘অদ্ভুত উটের পিঠে চলছে স্বদেশ’ কবিতাকে স্বরণ করিয়ে দেয়।
বিএনএনিউজ/সৈয়দ সাকিব।
![]()


