বিএনএ, ঢাকা: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের দল মুসলিম লীগ-এনের এর প্রভাবশালী নেতা কামরান সাঈদ উসমানি বলেছেন, যদি ভারত বাংলাদেশে খারাপ কোনো অভিপ্রায়ে নজর দেয় অর্থাৎ হামলা করে তাহলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও মিসাইল এর জবাব দেবে। মঙ্গলবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক ভিডিও বার্তায় এ হুমকি দেন। একই ভিডিও বার্তায় তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক জোট গঠনের আহ্বানও জানিয়েছেন।

ভারতের নাম সরাসরি না বললেও এরপর সাঈদ উসমানি ‘ব্রাক্ষ্মণ রাষ্ট্র’কে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘যদি কেউ বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে বা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ করে, তাহলে পাকিস্তানের সচেতন জনতা আপনাদের পাশে থাকবে। আমি এখন ব্রাক্ষণ রাষ্ট্রকে পরিষ্কার বলে দিতে চাই, যদি কেউ বাংলাদেশের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায়, তাহলে পাকিস্তানের মানুষ, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আর আমাদের মিসাইল কিন্তু আপনাদের থেকে খুব বেশি দূরে না।’
ভিডিওবার্তায় ওসমান হাদির বাংলাদেশকে কারও অধীনে দেখতে না চাওয়ার ইচ্ছার কথা বর্ণনা করেছেন সাঈদ উসমানি। এরপর বলেছেন, ‘কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হলো যখনই কোনো তরুণ মুসলিম সামনে এগিয়ে আসে, জনপ্রিয় আওয়াজ হয়ে ওঠে, তাকে চাপিয়ে রাখা হয়। এই ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধারা তাদেরকে দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে দেয় না, যাতে তাদের রক্ত শুষে নিতে পারে। সেটা বাংলাদেশে পানি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে হোক কিংবা কোনো গণ্ডগোল লাগিয়ে মুসলিমের সঙ্গে মুসলিমের লড়াই বাঁধিয়ে দিয়ে। কিন্তু এখন মুসলিম তরুণরা তাদের এই ষড়যন্ত্র খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছে। এখন বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের প্রতিটি বাচ্চাই ওসমান হাদি। ওসমান হাদিকে মেরে ফেলা হয়েছে, কিন্তু তার চিন্তাকে মেরে ফেলা যায়নি।’
এরপর বাংলাদেশকে নিয়ে সাঈদ উসমানি বলেছেন, ‘আজ বাংলাদেশের মানুষ ভারতের দাদাগিরি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আমি বাংলাদেশে আমার ভাই-বোনদের বলতে চাই, আমরা আপনাদের পাশে আছি। পাকিস্তান, পাকিস্তানের মানুষ আর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আপনাদের সঙ্গে আছে।’
এ দিকে পাকিস্তানের Times of Islamabad বাংলাদেশের গৃহযুদ্ধের শঙ্কার কথা জানিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। গত ২১ শে ডিসেম্বর Indian Raw conspiracy to Launch Terrorism and civil war in Bangladesh exposed শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নয়াদিল্লির প্রভাব হ্রাস পাওয়া এবং পাকিস্তান ও চীনের সাথে ঘনিষ্ঠতা ভারতকে বিচলিত করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW) বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচন ভণ্ডুল করতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অবশিষ্টাংশকে ব্যবহার করে গৃহযুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে। গঠন করছে ৭১’র আদলে মুক্তিবাহিনী।
প্রতিবেদনে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে উগ্রবাদ ছড়িয়ে দিয়ে যুবকদের বিভ্রান্ত করার একটি সমান্তরাল নীল-নকশা চলছে। তথ্যমতে, ‘তেহরিক-ই-তালিবান বাংলাদেশ’ এর মতো গ্রুপগুলো শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া যুবকদের নিয়োগের চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি কৌশল হতে পারে যাতে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ এবং ‘জঙ্গিবাদের চারণভূমি’ হিসেবে প্রমাণ করা যায়, যা প্রকারান্তরে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের নতুন সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
Times of Islamabad এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯শে ডিসেম্বর ঢাকায় উত্তেজিত জনতা শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এতে সাংবাদিকরা ভেতরে আটকা পড়লেও পরবর্তীতে তাদের উদ্ধার করা হয়। একই দিনে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক ছায়ানট ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ‘ভারত-ঘেঁষা’ নীতি অনুসরণ করে। ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনার ভারত পলায়নের পর থেকেই বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব তীব্রতর হচ্ছে।
পাকিস্তানের Times of Islamabad দাবি করেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে একদিকে শোকের ছায়া, অন্যদিকে বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই অবস্থায় গণতান্ত্রিক উত্তরণ বজায় রাখা এবং হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার অফিসে হামলা, দেশের শীর্ষ সারির পত্রিকা প্রথম আলো ও ডেইলী স্টার, সাংস্কৃতিক সংগঠন উদিচী, ছায়ানট, অগ্নি সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন পোশাক শ্রমিককে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে দলবদ্ধ হয়ে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা লক্ষীপুরে বিএনপি নেতারবাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে ঘুমন্ত শিশু হত্যাসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের সঙ্গে কুটনৈতিক অচলায়তন। এই অবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আদৌ শান্তিপূর্ণ হবে কীনা তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় রয়েছে।
সৈয়দ সাকিব
![]()

