বিএনএ, ঢাকা: সম্প্রতি দেশের প্রধান দুটি সংবাদপত্র প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক ও ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’-এর সম্পাদক নুরুল কবির। তিনি দাবি করেছেন, এই হামলা কেবল বিশৃঙ্খলা নয়, বরং নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এর সাথে সরকারের কোনো না কোনো অংশের যোগসূত্র রয়েছে।

প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল কবির জানান, হামলার সময় তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং সাংবাদিকদের প্রাণ বাঁচাতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারের মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘বিহ্বলতা’ লক্ষ্য করা গেছে, যা কোনো দায়িত্বশীল নেতৃত্বের লক্ষণ নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল দালান পোড়ানো নয়, বরং সাংবাদিকদের ভেতরে আটকে রেখে পুড়িয়ে মারার একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনা ছিল। ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নেভাতে বাধা দেওয়াও এই সন্দেহের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
সাক্ষাৎকারে নুরুল কবির অভিযোগ করেন, জামাতের শীর্ষ নেতারা একদিকে হামলার নিন্দা জানাচ্ছেন, অন্যদিকে তাদেরই ছাত্র সংগঠনের নেতারা প্রকাশ্যে প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যম ধ্বংসের ঘোষণা দিচ্ছেন। নুরুল কবির এই দ্বিচারিতাকেই ‘মুনাফেকী’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
নুরুল কবিরের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সমীকরণ। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী—উভয়ই ভিন্ন ভিন্ন কারণে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়। সরকার এবং এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এক ধরনের লিয়াজোঁ বা আঁতাত গড়ে উঠেছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
নুরুল কবির উল্লেখ করেন, ওসমান হাদির মৃত্যু এবং তার আদর্শকে পুঁজি করে একটি গোষ্ঠী দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, যা খোদ হাদির চাওয়ার সম্পূর্ণ বিপরীত। হাদি ভিন্নমতের হলেও তিনি নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলতেন। কিন্তু তার নাম ব্যবহার করে এখন নির্বাচন বানচাল এবং সংবাদমাধ্যম ধ্বংসের পায়তারা চলছে।
সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল কবির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এসব হামলার ঘটনায় যদি কোনো ‘নাটক’ সাজানো হয়, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন:
“ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে হোক কিংবা এই পরবর্তী পত্রপত্রিকা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আক্রমণের ব্যাপারে হোক, তারা যদি সত্যিকার আসামীদের না ধরে যদি এই ধরনের জজ মিয়া কান্ডের নতুন করে কোনো নাটক করবার চেষ্টা করে… তবে তারা এই দেশে কোনো অবস্থাতেই মাফ পাবে না।”
নুরুল কবিরের এই বিশ্লেষণ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার মতে, একটি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক প্রবণতাকে সরকার পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের পথকেই রুদ্ধ করবে। এমন পরিস্থিতিতে বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোকে একত্রিত হয়ে কথিত উগ্র ডানপন্থী জঙ্গি অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সৈয়দ সাকিব
![]()

