বিএনএ, ডেস্ক : চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর শাহাজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোটের মন্ত্রী সভায় অলি আহমেদের জায়গা হয়নি। ফলে তার সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার মতবিরোধ দেখা দেয়। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে অলি আহমেদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় সংসদীয় ক্যু’র মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে সরিয়ে অলি আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। গোপন বৈঠকের পর তিনি রাজীও হয়েছিলেন।

অলি আহমেদের দাবি, শেখ হাসিনার এই গোপন প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর তিনি একদিন জায়নামাজে বসে আল্লাহ’র কাছে জানতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কীনা? আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাব এসেছিল, যেন বেগম জিয়ার সঙ্গে বেইমানী না হয়। ২০২২ সালে ২৪শে নভেম্বর এলডিপির এক সভায় নিজেই এই তথ্য প্রকাশ করেন অলি আহমেদ।
তার এই বক্তব্য কতটা সত্য তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা, ২০০৬ সালের ২৬শে অক্টোবর ড. অলি আহমেদ বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করে এলডিপি গঠন করেন।একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের কর্মসূচীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং বেগম জিয়া ও তারেক জিয়াকে দূর্নীতিবাজ উল্লেখ করে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। বিএনপির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মহাজোটের শরিক দল হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিধি বাম, ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে সংসদ ভবন এলাকায় সাব জেলে আটক রাখার পর এই উদ্যাগ ভেস্তে যায়।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে মহাজোট এলডিপিকে সঙ্গে নেয়নি। ফলে অলি আহমেদ ‘একলা চল নীতি’ অবলম্বন করেন। সেই নির্বাচনে এলডিপির ১৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও একমাত্র অলি আহমেদ ছাড়া অন্য কেউ বিজয়ী হতে পারেনি। রাজনীতিতে কোনঠাসা হয়ে পড়েন এলডিপি চেয়ারম্যান । ২০১২ সালের দিকে কর্নেল অলি হঠাৎ করেই ভোল পাল্টালেন। তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে জোট করতে উদগ্রীব হয়ে উঠেন। আওয়ামী লীগের নানা সমালোচনা করেন। যুক্ত হন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে। নিয়মিত অংশ নেন জোটের সভা-সমাবেশে। ২০১৯ সালের ১৬ই মে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এলডিপির এক সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমেদ বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন এবং বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
অলি আহমেদের এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি বিএনপি। এতে ক্ষুদ্ধ হন তিনি। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেন। নিজেই গঠন করেন ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন। ২০১৯ সালের ২৮শে জুন এক সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের রণাঙ্গণে অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমেদ বীর বিক্রম জামায়াতে ইসলামীকে দেশপ্রেমিক শক্তি বলে উল্লেখ করেন।
অনেকে মনে করছেন, ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে শরিক হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে ২০১৯ সালের জুন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সুসর্ম্পক ছিল অলি আহমেদের। ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ নির্বাহী আদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করে। এই সময় জামায়াতের পাশে দাঁড়ান অলি আহমেদ। তিনি বলেন জামায়াতে ইসলামীর জন্য তার দল এলডিপির দরজা খোলা!
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

