28.5 C
আবহাওয়া
৯:৩৭ অপরাহ্ণ - জুলাই ১০, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ইসলামে ‘মুতা বিয়ে’ কী? কীভাবে নিষিদ্ধ হলো?

ইসলামে ‘মুতা বিয়ে’ কী? কীভাবে নিষিদ্ধ হলো?


বিএনএ,ডেস্ক : মুতা বিয়ে আসলে কী? কীভাবে নিষিদ্ধ হলো ইসলামের এই প্রাচীন বিয়ের প্রথা? আর এই ‘মুতা বিয়ে’র বিতর্কিত ডালি নিয়ে এবার স্বয়ং জাতীয় সংসদ কাপাঁলেন এক এমপি! গত১৮ জুন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে হঠাৎ করেই আলোচনায় উঠে এল হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের ব্যক্তিগত জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়! বিএনপির এক এমপি সরাসরি স্পিকারের কাছে জানতে চাইলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, মুতা বিয়ে কী?’ এরপরই সংসদে শুরু হলো সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল হট্টগোল ও বাদানুবাদ। মামুনুল হকের পক্ষে সাফাই গাইলেন খোদ বিরোধী দলের উপনেতা!

YouTube player

ইসলামের পরিভাষায়, মুতা বিয়ে হলো একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সাময়িক চুক্তিভিত্তিক বিয়ে। অর্থাৎ, বিয়ের আগেই সময় নির্ধারণ করা থাকে—যেমন এক মাস, এক সপ্তাহ বা কয়েকদিনের জন্য একজন পার্টনার বা সঙ্গী খুঁজে নেওয়া। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই এই বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে, বিশেষ করে যুদ্ধের ময়দানে দীর্ঘ প্রবাস জীবনে মুসলিম পুরুষদের জন্য এটি সাময়িকভাবে জায়েজ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) খায়বারের যুদ্ধ এবং মক্কা বিজয়ের দিন এটিকে কঠোরভাবে এবং চিরতরে হারাম ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। বর্তমানে সুন্নি মুসলমানদের কাছে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও ব্যভিচারের সমতুল্য হলেও শিয়া সম্প্রদায়ের কিছু অংশের মধ্যে এর প্রচলন রয়েছে।

এবার আসা যাক মূল ঘটনায়।  ২০২১ সালের ৩রা এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে ৫০১ নং রুমে  জান্নাত আরা ঝর্ণা নামের এক নারীকে নিয়ে ফুর্তি করতে যান মাওলানা মামুনুল হক। কিন্তু স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে তাকে অবরুদ্ধ  কররে রাখে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মাদ্রাসা ছাত্র ও হেফাজত সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে  রিসোর্টে হামলা চালায়। তারা রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং পুলিশি বেষ্টনী ভেঙে ৫০১ নম্বর রুম থেকে মামুনুল হক ও ঝর্ণাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।  এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ট্রল সংস্কৃতিতে হেফাজত নেতা মামুনুল হক ‘৫০১ হুজুর’ নামে পরিচিতি পায়।

গত ১৮ই জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১০ম দিনে ঢাকা-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক বক্তব্য দিতে দাঁড়ান। বাজেট আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ প্রসঙ্গ পাল্টে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ওপর চড়াও হন।

এমপি আবু আশফাক সরাসরি স্পিকারের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন, মুতা বিয়ে আসলে কী? এই বক্তব্য আসার সাথে সাথেই পুরো সংসদ ভবনজুড়ে হইচই ও হাস্যরস শুরু হয়ে যায়। তখন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইশারায় বিএনপির ওই এমপি তাঁর বক্তব্যের মোড় ঘোরাতে বাধ্য হন।

বিএনপির এমপির এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর, পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।  মামুনুল হকের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, উনি কোনো মুতা বিয়ে করেননি! নারায়ণগঞ্জে তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছিল, তিনি শরীয়ত মোতাবেক বৈধ বিয়ে করেছিলেন এবং এটি এখন প্রতিষ্ঠিত।”

জামায়াতের আরেক এমপি মুজিবুর রহমানও বলেন, “মুতা বিয়ে এখন ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।” বিরোধী দলের পাশাপাশি সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও এই অসংসদীয় বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সব শুনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম কড়া রুলিং জারি করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মুতা বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন? আমাকে কি এসবের বিশেষজ্ঞ মনে হয়?” স্পিকার সাফ জানিয়ে দেন, “একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ সংসদে আলোচিত হোক, তা আমি চাই না।

 সৈয়দ সাকিব

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ