Bnanews24.com
Home » স্কুলের মাঠ দখল করে লাগিয়ে দেয়া হলো গাছ!
অপরাধ টপ নিউজ বাংলাদেশ সব খবর

স্কুলের মাঠ দখল করে লাগিয়ে দেয়া হলো গাছ!

স্কুলের মাঠ দখল করে লাগিয়ে দেয়া হলো গাছ!

বিএনএ গোপালগঞ্জ : দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় প্রায় দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। আবারও শিক্ষার্থীদের পদচারনায় ও খেলাধূলায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু স্কুলের খেলার মাঠে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে সারি সারি গাছ। আবার গাছ রক্ষায় মাঠটি ঘিরে বেড়া দেয়া হয়েছে ।

এমনই ঘটনা ঘঠেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। এ ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মাঠ দখলের প্রতিবাদে ও দখলমুক্ত করার দাবীতে স্কুলের সামনে মানববন্ধন করেছে তারা। সেইসঙ্গে মাঠ উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে ১৯৫৮ সালে পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে স্কুলটি লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলায় সুনাম ধরে রেখেছে। বর্তমানে স্কুল প্রায় সাড়ে ৮’শ শিক্ষার্থী রয়েছে।

স্কুলের মাঠ দখল করে লাগিয়ে দেয়া হলো গাছ!

স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বাড়ৈ বলেন, তৃতীয় দফা স্কুলের মাঠ বালু ভরাট করে উঁচু করার সময় স্থানীয় গোপালপুর গ্রামের উপেন্দ্র নাথ টিকাদার মাঠের জমি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে বাঁধা দেন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় বালু ভরাট কাজ শেষ করা হয়।

কিন্তু গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার দিন দেখা যায়, কে বা কারা স্কুলের মাঠে অস্থায়ীভাবে বেড়া দিয়ে মেহগনি ও কলাগাছসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়ে দিয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় উপেন্দ্র নাথ টিকাদার রাতের আধারে লোকজন নিয়ে স্কুলের মাঠে গাছ লাগিয়ে দিয়েছেন।

এ মাঠে বিভিন্ন সময় ফুটবলসহ গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। এই  মাঠ স্কুলের রেকর্ড করা সম্পত্তি। স্কুল থেকে নিয়মিত এই জমির খাজনা পরিশোধ করা হয়। মাঠ দখল করে গাছ লাগানোয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছেন না। তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও মাঠটি উদ্ধার করা হয়নি। তাই মাঠ উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন প্রধান শিক্ষক।

স্কুলের সহকারি শিক্ষক দেশবন্ধু বিশ্বাস বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে তিনি এই স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেই থেকে স্কুলের মাঠটি তারা ব্যবহার করে আসছেন। হঠাৎ করে জনৈক উপেন্দ্র নাথ টিকাদার মাঠ তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বলে দাবি করেছেন। তিনি রাতে আধাঁরে মাঠটি বেড়া দিয়ে ঘিরে গাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। এতে শিক্ষার্থীদের চিত্তবিনোদন ও খেলাধুলায় মারাত্নক ব্যাঘাত ঘটছে।

অভিযুক্ত উপেন্দ্র নাথ টিকাদার বলেছেন, মাঠটি তার পৈত্রিক সম্পত্তি। স্কুলের নামে কিভাবে রেকর্ড হলো তা বোধগম্য নয়। মামলা করা হলেও পক্ষে রায় আসেনি। আগে যখন বালু ভরাট করেছে তখন লোকজন না থাকায় বাঁধা দেয়া যায়নি। এখন লোকজন আছে বলেই বাঁধা দেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছিলো বিষয়টি সমাধান করে দিবে কিন্তু বালু ভরাট করা হলেও কোন সমাধান না দেয়ায় বেড়া দিয়ে গাছ লাগিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুষেন সেন বলেছেন, দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে এই মাঠটি স্কুল ব্যবহার করছে। এতো দিন কেউ বলেনি এটি তাদের। এখন বালু ভরাট করতে গিয়ে দেখা গেল উপেন্দ্রনাথ টিকাদার মাঠটি তার দাবি করে বালু ভরাটে বাঁধে দেয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি বসে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। দ্রুত বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম হেদায়েতুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক মোবাইল ফোনে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের জন্য  সহকারি কমিশনার ভূমি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও জমির দাবিদারের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

বিএনএনিউজ/আরকেসি