বিএনএ, চট্টগ্রাম: টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত পাঁচ দিনে শুধু বৃহত্তর চট্টগ্রামেই পাহাড়ধস, দেয়াল ধসে এবং পানিতে ডুবে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জনই রোহিঙ্গা।
নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২২ জন, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙামাটিতে ১ জন রয়েছেন। এছাড়া বোয়ালখালী ও সাতকানিয়ায় দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশে আরও দু-এক দিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে কেবল সাতকানিয়া উপজেলারই ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যেখানে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ জলমগ্ন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়াহ, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত। রেলপথে পানি ওঠায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল এবং সড়ক ডুবে যাওয়ায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
লামার আজিজনগরে বৃহস্পতিবার ভোরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই পরিবারের শিশুসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে লামা পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়ার বরইতলীতে পাহাড়ধসে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢলের পানিতে ডুবে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি।
দুর্যোগ মোকাবেলায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছেন। জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বিএনএ/ওজি
![]()

