বিএনএ, ঢাকা : ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। সোমবার সেই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোডসংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত ‘এম ই এস বিল্ডিং নম্বর-৫৪’কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারি করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ২৫ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, আসামিকে গ্রেপ্তার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আনতে হবে। এরপর আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে আসামিদের কোন কারাগারে রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানেই পুলিশ উল্লেখ করে ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, আর্মির হাতে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই।
প্রসঙ্গত, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলের গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা একটি মামলায় মোট ২৫ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮ই অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেদিনই এই তিন মামলায় ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। ২২ শে অক্টোবরের মধ্য তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুালে হাজির করতে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছে। ইতোমধ্য কর্মরত ১৫ সেনা অফিসরকে তাদের পরিবার থেকে আলাদা করে সেনা হেফাজতে নেয়া হয়েছে ।
প্রশ্ন ওঠেছে, মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুয়ায়ি ১৫ সেনা কর্মকর্তা কী এখন সেনা নিবাসের কারাগারে আটক আছেন? নাকি ২২শে অক্টোবর আদালতে উপস্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সাবজেলে রাখা হবে?
বিএনএ/ সৈয়দ সাকিব/এইচ.এম।
![]()


