Bnanews24.com
Home » মডেল-নায়িকা-শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা কেন সেবন করে ইয়াবা? পর্ব-২
কভার বিশেষ সংবাদ

মডেল-নায়িকা-শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা কেন সেবন করে ইয়াবা? পর্ব-২

বাংলাদেশে ইয়াবা

।।ইয়াসীন হীরা।।

দেশে ইয়াবা গ্রহণকারির সংখ্যা কত? এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে! তবে মাদক দ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা এখন ৭৫-৮০ লাখ। কয়েক দুই বছর আগে যেটা ৭০ লাখের নিচে ছিলো। মাদকাসক্তদের ৯০ ভাগের বয়সই ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এদের বেশিরভাগ ইয়াবা আশক্ত। বিশেষ করে মডেল-নায়িকা ও এলিট ফ্যামেলির ছেলে- মেয়েদের প্রথম পছন্দ ইয়াবা! নারীর সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। তবে তাদের প্রকৃত সংখ্যা কতো সেটা বলা কঠিন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াবাকে বলা হয় ‘আপার ড্রাগ’ কারণ এটি গ্রহণ করলে শুরুতে সে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা হেরোইনকে পিছনে ফেলে বিনোদন জগতের মডেল-নায়িকা ও এলিট ফ্যামেলির ছেলে- মেয়েদের কাছে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।

অভিজাত পরিবারের উঠতি বয়সি ছেলে মেয়েদের নেশা শুরু হয় ঘুমের বড়ি থেকে। নানা ধরনের মানসিক যন্ত্রণার কারণে তারা যখন রাতে ঘুমাতে পারে না তখন তারা ঘুমের বড়ির আশ্রয় নেয়। তারপর ধীরে ধীরে ইয়াবার মতো অন্যান্য মাদকেও আসক্ত হয়ে যায়।
অনেকে ইয়াবা গ্রহণ করে যৌন উদ্দীপক হিসেবে। প্রথম দিকে সেটা কাজ করে যেহেতু এটা খেলে শারীরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ইয়াবা সেবনের শুরুতে যৌন উত্তোজনা থাকলেও পরে ধীরে ধীরে যৌন ক্ষমতা একেবারেই ধ্বংস হয়ে যায়। শুক্রাণু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাও কমে যায়। মেয়েদের মাসিকেও সমস্যা দেখা দেয়।

শিক্ষার্থীরা রাতে বেশিক্ষণ জেগে থাকলেও কোন লাভ হয় না। কারণ পড়ালেখায় তার মনোযোগ থাকে না। মোটা মানুষকে ইয়াবা চিকনও করে না। এটা খেলে তার খিদে কমে যায়। তখন সে কম খায়। তার পেশীকে ক্ষয় করে ফেলে। মাংসপেশি শুকিয়ে গেলে একটু শুকনা মনে হয়।

যেভাবে ইয়াবা গ্রহণ করা হয়
যেভাবে ইয়াবা গ্রহণ করা হয়

কীভাবে গ্রহণ করে ইয়াবা ?
যারা ইয়াবা সম্পর্কে জানেন না তাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে ইয়াবা কি সাধারণ ট্যাবলেটের মতো গিলে খায়? না, ইয়াবা সাধারণ ট্যাবলেটের মতো গিলে খায় না। ইয়াবা হচ্ছে এমফিটামিন জাতীয় ড্রাগ- মেথাএমফিটামিন। হেরোইনের মতো করেই খেতে হয় ইয়াবা। এলোমুনিয়ামের ফয়েলের উপর ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে নিচ থেকে তাপ দিলে গলে যায় ইয়াবা। এরপর যে ধোঁয়া বের হয় সেটা একটা নলের মাধ্যমে মুখ দিয়ে গ্রহণ করা হয়। তখন সেটা মুহূর্তের মধ্যেই সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রে গিয়ে শরীরে প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

নিমিষেই চাঙ্গা!

চিকিৎসকরা ইয়াবার জনপ্রিয়তার পেছনে বেশ কিছু কারণকে চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হচ্ছে শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক প্রভাব। রাতের পর রাত জেগে থাকা যায়। যৌন উদ্দীপনা বেড়ে যায়। পরিবহন সুবিধা, অন্যটি সহজলভ্যতা।
ইয়াবা সেবন করার পরপরই মানবদেহকে চাঙ্গা করে তোলে। আর সব মানুষই নিজেকে চাঙ্গা দেখতে ভালোবাসে! অত্যন্ত ছোট্ট হওয়ায় ওয়ালেটে এবং নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগেও এটি সহজে বহন করা যায়। মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার দিয়ে বিকাশ অথবা নগদে টাকা পাঠালেই সঙ্গে সঙ্গে ডেলিভারি ম্যান বাড়িতে পৌঁছে দেয়। ফেনসিডিলের মতো বহন করা, খাওয়ার পর ফেলার ঝামেলা নেই।

স্লিম ফিগার ও ফিট থাকতেই ইয়াবা!

ইয়াবা যারা বাজারজাত করে তারা, যাকে যেভাবে পারে মোটিভেশন করে থাকে। নায়িকা ও মডেলদের বলা হয় ইয়াবা সেবনে শরীর মন চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি শরীরে মেদভুরি জমবে না। ফিগার থাকবে স্লিম। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদেরকে বলা হয় যে, এটা খেলে তুমি রাত জেগে পড়তে পারবে। কেউ মোটা হলে তাকে বলা হচ্ছে শরীর শুকিয়ে যাবে। গানের শিল্পীকে বলা হয়, ইয়াবা গ্রহণ করলে রাত জেগে গান করা যায়, এ ছাড়া গলার কাজ ভালো হয়।

ইয়াবা। শব্দটি থাই। এর অর্থ ‘পাগলা ওষুধ’।
নারী-পুরুষের  এক সঙ্গে ইয়াবা সেবন!

 

বিনোদন জগতে একটি কথা বেশ প্রচলিত আছে, ইয়াবা সেবন করে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা যায়। নায়ক-নায়িকা,সহশিল্পী, পরিচালক, ক্যামেরা ক্রু থেকে ট্রলি বয় সবাই ইয়াবা সেবন করে। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। এরা বিনোদন জগতে সংখ্যালঘু!
নাটক সিনেমার শুটিংয়ের আড়ালে রমরমা ইয়াবা ব্যবসা ও সেবন ওপেন সিক্রেট। তথাকথিত নামী-দামি অনেক গ্লামার মডেল ও নায়িকা ইয়াবা ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত এক যুগ আগে থেকে।

২০০৭ সালে গুলশান থেকে আমিন হুদার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছিল মডেল নিকিতা। তখন থেকে মডেল নায়িকাদের ইয়াবা কনেকশন সংবাদমাধ্যেম ওঠে আসে। ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে পরিচালক, জিএম সরওয়ার, মিউজিক ডিরেক্টর জামাল, দেলওয়ার হোসেনসহ গ্রেপ্তার হয় চিত্রনায়িকা সিলভিয়া। তাদের কাছ থেকে বিপুল ইয়াবা, কনডম ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়।

মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা
মডেল মৌ এর বাড়িতে ডিবি পুলিশের অভিযান

মডেল মৌ,পিয়াসা তো কোমলপানীয় মাদক ও ইয়াবা সেবনের জন্য বাসায় রীতিমতো ‘ মিনি বার’ খুলে বসে! ইয়াবা সেবন করার পর সেখানে চলতো যৌন চর্চা! ২০২১ সালের ১ আগস্ট বারিধারার বাসা থেকে মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে, মোহাম্মদপুর বাসা থেকে মডেল মরিয়াম আক্তার মৌকে ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি পুলিশ। চলবে

পড়ুন আগের পর্ব : ‘ইয়াবা’ কেন জনপ্রিয় মাদক? পর্ব-১