Bnanews24.com
ইসলাম ও ঐতিহ্য টপ নিউজ সব খবর

রোজা, ইফতার ও তারাবি নামাজের নিয়ত-দোয়া

রোজা, ইফতার ও তারাবিহ নামাজের নিয়ত-দোয়া

বিএনএ ডেস্ক:মঙ্গলবার রাত থেকে পবিত্র মাহে রমজানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এশার নামাজের পর তারাবি নামাজে অংশ নিয়েছেন মুসলমানরা।শেষ রাতে সেহেরি খেয়ে রোজা রাখবেন তারা।সবল এবং প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমান নারী-পুরুষের জন্য রোজা রাখা ফরজ। রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য ও তাকওয়া লাভে ধন্য হয়।

রোজা পালন উপলেক্ষ মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হয়েছে; যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া (আত্মশুদ্ধি) অর্জনে করতে পার। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

রমজানের রোজা পালনের জন্য সাহরি করা আবশ্যক।রোজা পালনে সেহেরি ও ইফতারের যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনি রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়ার  যথেষ্ট গুরুত্ব আছে।

সেহেরি খাওয়ার পর রোজার নিয়ত করা জরুরি:-

আরবি নিয়ত:- নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

বাংলায় নিয়ত:- হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের দোয়া:-উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্বের মাধ্যমে ইফতার করছি।

ইফতারের পর আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে দোয়া পড়া:-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-উচ্চারণ : ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’

অর্থ :- ‘ (ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো ‘ (আবু দাউদ, মিশকাত)

এদিকে,  রমজান মাসে এশার নামাজের পর দুই রাকাত করে মোট বিশ রাকাত তারাবি’র নামাজ আদায় করতে হয়।প্রত্যেক ৪ রাকাত নামাজ আদায়ের পর বিশ্রামের সময় অনেকেই আল্লাহর কাছে দোয়া করে থাকেন। অনেকে মুনাজাতও করেন। প্রতি ৪ রাকাতে মুনাজাত না করে একেবারে শেষে করলেও কোনো সমস্যা নেই।

তারাবি নামাজের নিয়ম:-দুই রাকাত করে আলাদা নিয়তে ৪ রাকাত নামাজ আদায় করা। কিছু বিশ্রাম করে আবার নামাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।চার রাকাত নামাজ আদায়ের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া। তারাবি শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিশ্রাম করা’।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমান ও আত্মবিশ্লেষণের সঙ্গে পুণ্য লাভের আশায় রোজা রাখেন, তারাবি নামাজ আদায় করেন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করেন, তার জীবনের পূর্বের সব গুনাহ মাফ করা হবে।(বুখারি ও মুসলিম)

তারাবি নামাজের নিয়ত:-নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবি সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তা’আলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

অর্থ:- আমি ক্বিবলামুখি হয়ে দু’রাকাআত তারাবিহ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাযের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।

তারাবি নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়া:-সুব্হানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি সুবহানাযিল ইযযাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারূত। সুব্হানাল মালিকিল হায়্যিল্লাযি লা-ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা। সুব্বুহুন কুদ্দুছুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

তারাবি নামাজের চার রাকাত পরপর মোনাজাত:-চার রাকাত পর পর মোনাজাত করা যায়, আবার একেবারে নামাজ শেষ করেও একবারেই মোনাজাত করা যায়। তারাবিহ নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দুআ নেই। সব সময় নামাজের ক্ষেত্রে যে সব দোয়া পড়া হয় এগুলো পড়লেই হবে।এরপরও বহু পূর্বে কোনো বুজর্গ বর্তমানে তারাবিহতে পঠিত দোয়ার প্রচলন করেছেন, যার অর্থ ভাল এবং উত্তম বিধায় তারাবিহ নামাজে এই দোয়াটি অনেকে পড়ে থাকেন।

তারাবি নামাজের মোনাজাত:-আল্লা-হুম্মা ইন্না নাস আলুকাল্ জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান্নারি ইয়া খালিকাল জান্নাতা ওয়ান্নারি বিরাহমাতিকা ইয়া আজীজু, ইয়া গাফ্ফারু, ইয়া কারীমু, ইয়া সাত্তারু, ইয়া রাহিমু ,ইয়া জাব্বারু ইয়া খালেকু, ইয়া রাররূ, আল্লাহুমা আজির না মিনান্নারি, ইয়া মূজিরু ইয়া মুজিরু, বিরাহ্মাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

করোনা মহামারি কারণে ওয়াক্তের নামাজসহ তারাবি’র জামাতে ২০ জনের বেশি মুসল্লি অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে গতবারের মতোই তারাবিতে অংশ নিতে পারছেন না সাধারণ মুসল্লিরা।

বিএনএনিউজ/আরকেসি