Bnanews24.com
এক নজরে খুলনা বিভাগ বাংলাদেশ রাজনীতি সব খবর

বর্ষীয়ান রাজনীতিক খালেদুর রহমান টিটো আর নেই

বর্ষীয়ান রাজনীতিক খালেদুর রহমান টিটো আর নেই

বিএনএ,যশোর: বর্ষীয়ান রাজনীতিক, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী খালেদুর রহমান টিটো ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রোববার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

খালেদুর রহমান টিটোর ছেলে অ্যাডভোকেট খালিদ হাসান জিউস জানান, ফুসফুসে ইনফেকশনজনিত কারণে তিনদিন আগে তার পিতাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রোববার সকাল দশটার দিকে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় দুপুরে তার পিতা মারা যান।

১৯৪৫ সালের পহেল মার্চ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন খালেদুর রহমান টিটো। তার বাবা-মা ছিলেন উচ্চশিক্ষিত।বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট হবিবুর রহমান ছিলেন একজন এমএ, বিএল পাস।আর মা মরহুম করিমা খাতুন ছিলেন এমএ, এম-এড ডিগ্রিধারী।সাত ভাই-বোনের মধ্যে খালেদুর রহমান টিটো ছিলেন দ্বিতীয়।

যশোর জিলা স্কুলে খালেদুর রহমান টিটোর শিক্ষাজীবন শুরু হয়।যশোর এমএম কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেন তিনি।পরবর্তীতে মাস্টার্স করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হয়েও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আর তা শেষ করা সম্ভব হয়নি।১৯৬৩ সালে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র ইউনিয়নে সম্পৃক্ততার মধ্যদিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি।

১৯৬৭ সালে শ্রমিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন খালেদুর রহমান টিটো। ১৯৬৯ সালের শেষের দিকে কৃষক আন্দোলন জোরদার করতে কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও কালীগঞ্জ এলাকায় ভ্রমণ করেন।১৯৭০ সালের শেষের দিকে তার সঙ্গে দলের রাজনৈতিক মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।শ্রেণিশত্রু উৎপাটনের পদ্ধতিকে  মেনে নিতে পারেননি তিনি।ফলে এক সময়ে দল থেকে বের হয়ে আসেন।সে সময় তিনি পুলিশি অভিযানের কারণে কুষ্টিয়াতে চলে যান।ওই বছরের মার্চ মাসে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আবার ভারতে চলে যান এই রাজনীতিবিদ।বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে সেখানে শান্তিতে থাকতে পারেননি তিনি।আবার পূর্ব পাকিস্তানেও আসতে পারতেন না। এর কারণ হিসেবে ঐ সময় পাকিস্তান আর্মি তার মাথার দাম ১০ হাজার টাকা ধার্য করেছিল।

স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে আসেন তিনি।ইতোমধ্যে বড়ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হলে সংসারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে।সাংসারিক ব্যয়ভার বহন করার জন্য ব্যবসার পাশাপাশি আব্দুস সামাদ মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি গ্রহণ করেন তিনি।১৯৭৪ সালের প্রথমদিকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী-ন্যাপ) এ যোগদান করেন। ১৯৭৪ সালেই ন্যাপের জেলা সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়  ন্যাপের পক্ষ থেকে তাকে সমর্থন করেন তিনি।নির্বাচনের পর বিএনপি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হলে ন্যাপের সঙ্গেই থেকে যান খালেদুর রহমান টিটো।১৯৮১ সালে ‘গণতান্ত্রিক পার্টি’ গঠিত হলে এই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগ দেন। গণতান্ত্রিক পার্টির ১১জন স্টান্ডিং কমিটির মেম্বারদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন।

১৯৮৪ সালে যশোর পৌরসভার নির্বাচনে জয়লাভ করেন খালেদুর রহমান টিটো।১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হন তিনি। ১৯৯০ সালের মে মাসে শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এই রাজনীতিবিদ।সরকার পতনের ফলে ১৯৯১ সালে তাকে জেলে যেতে হয়। ১৯৯১ এর শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব হন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়।  সে সময় বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যদিয়ে তার দলকে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে নির্বাচন বয়কট করেন তিনি।

২০০৫ সালে খালেদুর রহমান টিটোকে তার দলে যোগদানের জন্য আহবান জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।২০০৬ সালে ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের করে প্রায় ২ বছর শাসনকার্য চালায়। অবশেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের ২৯ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করলে যশোর থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নমিনেশন পান আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আলী রেজা রাজু।কিন্তু কিছু দিন পর রাজুর নমিনেশন প্রত্যাহার করে খালেদুর রহমান টিটোকে যশোর সদর আসনে নমিনেশন দেয়া হয়।খালেদুর রহমান টিটো তার প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতা, সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামকে নির্বাচনে পরাজিত করে যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিএনএনিউজ/আরকেসি