28 C
আবহাওয়া
৬:০২ পূর্বাহ্ণ - অক্টোবর ২, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ফিফা ও শাকিরার না বলা অবিশ্বাস্য ইতিহাস!

ফিফা ও শাকিরার না বলা অবিশ্বাস্য ইতিহাস!


বিএনএ, ডেস্ক : ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু মেসি, নেইমার আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো? একদমই না! কিন্তু মাঠের সেই উত্তেজনাকে ছাপিয়ে প্রতিবার যে কণ্ঠটি কোটি কোটি হৃদয়কে এক সুতোয় বেঁধেছে—তিনি আর কেউ নন, কলম্বিয়ান পপ কুইন শাকিরা। অনেকে বলেন, শাকিরা ছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপ যেন লবণ ছাড়া তরকারি। কিন্তু আপনি কি জানেন? ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে মাত্র ৫ মিনিট পারফর্ম করার জন্য এই শাকিরা যেখানে সাড়ে ২৩ কোটি টাকা নিয়েছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে গাওয়ার জন্য কোন পারিশ্রমিক নেননি তিনি। কেন টাকার মোহ ছেড়ে ফুটবলের এই সবুজ গালিচাকে এতটা ভালোবাসেন শাকিরা? কেন ফুটবল বিশ্বকাপের সাথে তাঁর এই আত্মিক টান? আজ আমরা জানবো সুর আর ফুটবলের সেই রোমান্টিক ও আবেগঘন মহাকাব্য।

ফুটবল আর শাকিরার প্রেম কিন্তু একদিনের নয়। আমাদের একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে—২০১০ সালের আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বকাপে। পুরো বিশ্ব তখন এক উন্মাদনায় কাঁপছে। ঠিক তখনই শাকিরার কণ্ঠে বেজে উঠলো—”সামিনা মিনা জাগোয়ালেওয়া, ওয়াকা ওয়াকা!” ব্যস! মুহূর্তেই যেন পুরো পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গেল।

এই একটি গান ফুটবলকে এনে দিয়েছিল এক নতুন ভাষা। শাকিরা শুধু গাননি, তিনি যেন তাঁর পুরো হৃদয় ঢেলে দিয়েছিলেন সেই সুরের মাঝে। জানলে অবাক হবেন, ২০১০ সালের সাউথ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ” ওয়াকা ওয়াকা ” গানের সেটেই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের সাথে প্রথম চোখাচোখি শাকিরার। সেদিনই ঘটেছিল পিকের নীল চোখের জাদু আর শাকিরার মায়াবী হাসির মিলন ।

শাকিরা নিজেই একবার বলেছিলেন, “পিকে-কে প্রথম দেখেই আমার মনে হয়েছিল, এই ছেলেটির জন্যই আমি এতদিন অপেক্ষা করছিলাম।” ফুটবল মাঠ আর সুরের মঞ্চ—দুটি আলাদা পৃথিবী এক হয়ে গিয়েছিল এক অদ্ভুত ভালোবাসার টানে। তাঁরা বিয়ে না করলেও দীর্ঘ ১২ বছর একসাথে ছিলেন, তাঁদের কোল আলো করে এসেছিল দুটি সন্তান—মিলান আর সাশা। পুরো বিশ্ব তাঁদের দেখতো ফুটবলের সবচেয়ে রোমান্টিক এবং আদর্শ জুটি হিসেবে।

কিন্তু ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই রূপকথার গল্পে যেন এক চরম অমাবস্যা নেমে আসে। হঠাৎ করেই পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে খবর আসে—ভেঙে গেছে শাকিরা ও পিকের ১২ বছরের সেই সাজানো সংসার!

সময় বদলেছে। শাকিরা এখন আরও পরিপক্ব, আরও দীপ্তিময়ী। ১১ জুন, ২০২৬। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে যখন নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয়ের সাথে শাকিরা পা রাখলেন, তখন স্টেডিয়ামের লাখো দর্শক আর টিভির সামনে বসা শত কোটি মানুষের বুকে কাঁপন ধরেছিল। অফিসিয়াল অ্যান্থেম “দাই দাই”  গেয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন—তিনিই বিশ্বকাপের আসল রানি।

কিন্তু পর্দার পেছনের গল্পটা আরও সুন্দর, আরও মানবিক। এই চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সের জন্য ফিফার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেননি তিনি। যেখানে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ৫ মিনিটে ২ মিলিয়ন ডলার নিয়েছেন, সেখানে বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ। কারণ, শাকিরা বিশ্বাস করেন, এই সুর কোনো ব্যবসার উপাদান নয়। শাকিরা তাঁর এই পারফরম্যান্স থেকে প্রাপ্ত সমস্ত রয়্যালটির শতভাগ অর্থ দান করে দিয়েছেন ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ। যে টাকা দিয়ে পৃথিবীর হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখে হাসি ফুটবে, তারা শিক্ষার আলো পাবে, খেলার সুযোগ পাবে। টাকার চেয়েও এই শিশুদের মুখের হাসি শাকিরার কাছে অনেক বেশি দামি।

 

তবে ভালোবাসার পাশাপাশি এখানে কাজ করে সুরের এক অদ্ভুত জাদু। ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করার মানে হলো, এক লহমায় পুরো পৃথিবীর হৃদস্পন্দন হয়ে যাওয়া। শাকিরা যখন স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে গান গায়, তখন পৃথিবীর কোনো সীমানা থাকে না, ধর্মের বিভেদ থাকে না, ভাষার দূরত্ব থাকে না। এই কয়েক মিনিটের জাদু শাকিরাকে বিশ্বমঞ্চে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যায়, যা কোটি কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব নয়। শো শেষ হওয়ার পরেই বিশ্বজুড়ে তাঁর গানের স্ট্রিম আর অ্যালবাম বিক্রি রকেটের গতিতে বাড়তে থাকে। ভালোবাসার বিনিময়ে পৃথিবী তাঁকে উজার করে ফিরিয়ে দেয় সম্মান আর ভালোবাসা।

 

গল্পের কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ফুটবল আর শাকিরার এই রোমান্স ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও এক নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ শে জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মহাকাব্যিক ফাইনাল ম্যাচের হাফ-টাইম শো-তেও ম্যাডোনা এবং বিটিএস-এর সাথে মঞ্চ কাঁপাতে আসছেন আমাদের পপ কুইন। সেখানেও কিন্তু তিনি গাইবেন কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই, কেবল ফুটবলের প্রতি তাঁর গভীর টান থেকে।

খেলোয়াড়রা মাঠে আসেন, ট্রফি জেতেন, একসময় অবসর নেন। কিন্তু শাকিরার গাওয়া এই সুরগুলো চিরকাল অমর হয়ে থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। পিকে হয়তো তাঁর জীবন থেকে হারিয়ে গেছেন, কিন্তু ফুটবল আর সুরের যে প্রেম ২০১০ সালে শুরু হয়েছিল, তা ২০২৬ সালেও মায়াবী আলোর মতো জ্বলছে। শাকিরা প্রমাণ করেছেন, কিছু পারফরম্যান্স টাকার জন্য হয় না, কিছু পারফরম্যান্স হয় কেবলই ভালোবাসার জন্য।

বিএনএ/শামীমা চৌধুরী শাম্মী

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ