28.7 C
আবহাওয়া
৫:২৮ অপরাহ্ণ - জুলাই ৯, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ইজিবি টেন্ডারে সিইউএফএলের সাশ্রয় ৫৭ লাখ টাকা!

ইজিবি টেন্ডারে সিইউএফএলের সাশ্রয় ৫৭ লাখ টাকা!


বিএনএ, ঢাকা: অবশেষে গণমাধ্যমের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান ও জেনারেল ম্যানেজার (কর্মাশয়িাল ) কামরুল ইসলাম গং। তছনছ হয়ে গেছে তাদের কথিত ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেট’। ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের ঠিকাদার নিয়োগে সনাতন ’ওয়ান বক্স’ ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ইজিবি) টেন্ডারের কারণে ৫৭ লাখ টাকা সরকারের সাশ্রয় হয়েছে। বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফা টেন্ডারে সর্ব নিম্ম দরদাতা হয় ইউএমএ (UMA) কনস্ট্রাকশন।প্রতিষ্ঠানটির দর ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ১৪ টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নেয়।

এর আগে সিইউএফএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান ও জেনারেল ম্যানেজার (কর্মাশয়িাল ) কামরুল ইসলাম এর মনোনীত মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ গ্রহণ করে। ৮টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নেয়া দুরে থাক সিইউএফএল প্রবেশ করতে দেয়নি মাস্তানরা। পুলিশের ব্যবস্থাও করেনি সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ।

প্রথম দফা ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা দর বেশি হয়েছে উল্লেখ করে দ্বিতীয় দফা মেসার্স আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট নামে যে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় ওর্য়াক অর্ডার দেয়ার জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান ও জেনারেল ম্যানেজার (কর্মাশয়িাল ) কামরুল ইসলাম তৎপর ছিলেন সেই প্রতিষ্ঠানটি ইজিবি টেন্ডারে অংশ নেয়নি।

দ্বিতীয় দরদাতা ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মের্সাস শাহ মোহসেন আওলিয়া এন্টারপ্রাইজ এবার ইজিবিতে অংশ নিয়ে একই কাজের দর উল্লেখ করেছে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এতে বুঝা যায়, সিএফএল এর কথিত ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেট’ তাদের পকেট সিন্ডিকেটকে বেশি দরে কাজ দেয়ার জন্য ইজিবি বাদ দিয়ে ম্যানুয়াল ওয়ান বক্স পদ্ধতির টেন্ডার আহ্বান করেছিলেন।

উল্লেখ, সিইউএফএল এর এই টেন্ডার দূর্নীতির বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওযার পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সব দোষ জেনারেল ম্যানেজার (কর্মাশয়িাল) কামরুল ইসলামের ওপর ছাপিয়ে নিজে আত্মরক্ষা করে। ফলে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) জেনারেল ম্যানেজার (কর্মাশয়িাল ) কামরুল ইসলামকে প্রথমে চন্দ্রঘোনাস্থ কর্ণফুলী পেপার মিল লিমিটেড (কেপিএমএল) এ বদলী করা হয়।

তার এক সপ্তাহ পর তাকে ফের তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা লিমিটেডে বদলি করা হয়। সিইউএফএল এমডি মিজানুর রহমানের জোর লবিংয়ের কাছে বিসিআইসি হার মানে। ১৫ দিনের মধ্য দুই বদলি আদেশ বাতিল করে কামরুল ইসলামকে সিইউএফএলএ রেখে দেয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রথম দফার দরপত্রে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকাকে ‘অতিরিক্ত দর’ হিসেবে চিহ্নিত করে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় কমার কথা থাকলেও দ্বিতীয় দফায় উল্টো দর ওঠে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রথম দফার চেয়েও ৪৩ লাখ টাকা বেশি। আর এই অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের দরদাতা প্রতিষ্ঠান ‘আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট’-এর প্রতিই এমডির বিশেষ পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে। ওই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ১০টি প্রতিষ্ঠান সিডিউল কিনলেও রহস্যজনকভাবে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান—শাহ মোহসেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ (২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) এবং আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট (২ কোটি ২০ লাখ টাকা)—দরপত্র জমা দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান ও জেনারেল ম্যানেজার (কর্মাশয়িাল ) কামরুল ইসলাম মনোনীত এই দুই প্রতিষ্ঠানের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা অন্য ৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কারখানায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার পথ প্রশস্ত করা হয়েছিল।

দরপত্র জমার ক্ষেত্রেও মানা হয়নি নিয়ম। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত চারটি ভিন্ন স্থানে টেন্ডার বক্স থাকার কথা থাকলেও বিশেষ উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র সিইউএফএল কার্যালয়ে টেন্ডার দাখিলের কথা শিডিউলে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে এমডির আশীর্বাদপুষ্ট কথিত ভাই ভাই সিন্ডিকেটের বাইরে অন্য কেউ সেখানে যাওয়ার সাহস পায়নি।

এমনকি সংবেদনশীল এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ পাহারার বিধান থাকলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ ডাকা হয়নি। ফলে এমডির মনোনীত মেসার্স ‘আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট’ ও ‘শাহ মোহসেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ ’-এর ক্যাডার বাহিনী পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অন্য ৮টি প্রতিষ্ঠানকে কারখানায় ঢুকতেই দেয়নি।

বিসিআইসি নিয়ন্ত্রাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ই-জিপি চালু থাকলেও সিইউএফএল-এ কেন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার নেওয়া হলো, তা নিয়ে কারখানার ভেতরে-বাইরে তোলপাড় শুরু হয়। প্রথম দফার টেন্ডারে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার দরকে ‘বেশি’ বলে বাতিল করে দ্বিতীয় দফায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার উচ্চদর গ্রহণ করার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিসিআই’র টনক নড়ে। পরবর্তীতে টেন্ডার বাতিল করে ইজিবিতে টেন্ডার ডাকা হয়। আর এতেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। ৫৭ লাখ টাকা লুটপাটের নীল নকশা বানচাল হয়ে যায়।

বিএনএনিউজ২৪ডটকম

Loading


শিরোনাম বিএনএ