বিএনএ, চট্টগ্রাম: ইয়াবা উদ্ধার নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হেলাল উদ্দিনকে ক্লোজড করে এস্টেট শাখায় বদলি করা হয়েছে। যোগদানের মাত্র এক মাসের মাথায় তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে তাকে সিএমপির পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআই হেলাল উদ্দিন নিজেই।
জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল রাতে কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হেলাল উদ্দিন।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ১৫ মিনিটে কর্ণফুলী থানার বিশেষ অভিযান চলাকালে মইজ্জ্যারটেক মোড়ের কর্ণফুলী সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুই ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন— এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে এক আসামির ব্যাগ থেকে ৬ হাজার এবং অপরজনের ব্যাগ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় । জব্দ তালিকায় সাক্ষী ও আসামিদের পাশাপাশি এসআই হেলাল উদ্দিনও স্বাক্ষর করেন।
তবে অভিযানের পরদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ ওঠে, অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত সংখ্যা মামলায় উল্লেখিত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। প্রায় ২৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু মামলায় মাত্র ৮ হাজার পিস ইয়াবা দেখিয়ে বাকি ২০ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাত করা হয়েছে। এ নিয়ে গত এক মাস ধরে কর্ণফুলী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছিল।
আত্মসাতের ঘটনায় এসআই হেলাল উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে আসে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছিলেন।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, “শিকলবাহা ফাঁড়ির আইসিকে বদলি করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে কী কারণে বদলি করা হয়েছে, তা জানা নেই। বদলির আদেশও এখনো দেখিনি।
বিএনএ/শাম্মী
![]()

