Bnanews24.com
Home » বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৯
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৯

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় উগ্রবাদী সেনা সদস্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে।হত্যাকারিরা ক্ষমতাসীন হয়ে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ ইনডেমনিটি ‘ অডিন্যান্স জারি করে। যা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সেটিকে আইনে পরিণত করেন। হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে  ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ।

বাতিল করে ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’। এরপর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালত ১৮ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আসামিরা আপিল করেন। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় প্রকাশ হয়। পরে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা মামলার বিচার হয়েছিল তা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা! বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি(বিএনএ) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে।

আজ প্রকাশিত হল পর্ব-২৯

প্রসিকিউশনের ৫০নং সাক্ষী নুরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার। ১৯৭৫ সনের ১৪ই আগস্ট দিবাগত রাত্রে ডি.এস.বি-র প্রটেকশন ফোর্স হিসাবে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাসভবনে হাউস গার্ডের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া কুমিল্লা হইতে আগত ২০/২৫ জন আর্মি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে সর্বদা হাউস গার্ডের ডিউটি করিত। এস.বি-র একজন ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমানও বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন। ঐ দিবাগত রাত্র অনুমান ১ টার সময় তিনি এবং একজন পুলিশ সার্জেন্ট বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের নিচের তলায় বৈঠকখানায় বিশ্রাম নিতেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর পি.এ. কাম রিসেপশনিস্ট মহিতুল ইসলামও সেখানে ছিলেন।

ভোর অনুমান পৌনে ৫ টার সময় দোতলা হইতে বঙ্গবন্ধুর গলার আওয়াজ শুনে তিনি এবং পুলিশ সার্জেন্ট তাড়াতাড়ি বৈঠকখানার দরজার কাছে গিয়া দাঁড়ায়। বঙ্গবন্ধু দোতলা হইতে নিচে নামিয়া রিসেপশনিস্টের রুমে গিয়া টেলিফোনে আলাপ করার চেষ্টা করেন। এমন সময় হঠাৎ পূর্বদিক হইতে এক ঝাক গুলি রিসেপশনিস্টের রুমে আসিয়া জানালার কাঁচ ভাঙ্গিয়া ফেলে। তিনি সেন্ট্রিকে বলেন, “এত গুলি কিসের?” সেন্ট্রি বলে, “বাহির হইতে হামলা হইয়াছে।” তিনি বলেন, “তোমরা ফায়ারিং চালাও।” তখন বাহির হইতে হেভী ফায়ারিং হইতেছিল। একই সাথে ৪/৫ টা কামানের গোলার আওয়াজও শোনে। অনুমান ৫ মিনিট পর গুলি বন্ধ হয়। তখন বঙ্গবন্ধু রিসেপশনিস্টের রুম হইতে বাহির হইয়া সিঁড়ির বারান্দায় দাঁড়াইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এত ফায়ারিং কিসের?” তিনি বলিলেন, “বাহির হইতে হামলা হইয়াছে।” ইহার পর কালো ও খাকী পোষাকধারী কিছু আর্মি পূর্ব-দক্ষিণ এবং পশ্চিম-দক্ষিণ দিক হইতে ক্রলিং করিয়া বাড়ীর দিকে আসিতেছে দেখিয়া বঙ্গবন্ধু দোতলায় চলিয়া যান। পরপরই বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামাল নিচ তলায় বারান্দায় আসিয়া তাহাকে বলে, “আর্মি আসিয়াছে কি?” তিনি বলিলেন, “মনে হয় আসিয়াছে।”

তখন শেখ কামাল উৎফুল্ল হইয়া বলিল, “আর্মি ভাইয়েরা কাহারা আসিয়াছেন ভিতরে আসেন।” দ্বিতীয় বারও এই কথা উচ্চারণ করিলেন। কিছুক্ষণ কোন সাড়া শব্দ ছিল না। পরে হঠাৎ ৫/৬ জন কালো ও খাকী পোষাকধারী আর্মি গেইট ধাক্কা দিয়া বাড়ীর দিকে আগাইতে থাকে। আরো কিছুদূর আগাইয়া তাহাদেরকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, হ্যান্ডস্ আপ। তখন তিনি এবং পুলিশ সার্জেন্ট “হ্যান্ডস্ আপ” করেন। দরজার কাছে পি.এ. মহিতুল ইসলাম দাঁড়ানো ছিল। শেখ কামাল কিছুটা আশ্চর্য হইয়া হাত উঠাইয়া বলে, “আমি শেখের ছেলে কামাল।” তাহারা দ্বিতীয় বার “হ্যান্ডস্ আপ” বলিলে হ্যান্ডস্ আপ করার সাথে সাথে শেখ কামালকে গুলি করিয়া হত্যা করে। তাহাকে ২টি গুলি করে। একটি গুলি তার ডান পায়ের হাটু বিদ্ধ করে। অপর গুলিটি তাহার ডান পায়ের জুতাকে ভেদ করিতে করিতে দোতলায় যায়। এদিকে আরো ২০/২৫ জন বাড়ীর ভিতরে ঢুকিয়া পড়ে। তাহাদের মধ্যে কেহ কেহ সেন্ট্রি বক্সের রাইফেল গুলি নিয়া সেন্ট্রিদেরকে বাসার ভিতরে লাইনে দাঁড় করায়।

তথ্যসুত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী পৃষ্ঠা নং-৪৮ (চলবে)

আরও পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৮

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৭

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৬

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৫

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৪

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২১

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়-পর্ব-২০

সম্পাদনায়: এইচ এইচ চৌধুরী, গ্রন্থনা: ইয়াসীন হীরা