20 C
আবহাওয়া
৮:৩৫ অপরাহ্ণ - জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » মিরসরাইয়ে ১২ ফুট গভীরে বিপিসি’র পাইপ ফুটো করে তেল চুরি!

মিরসরাইয়ে ১২ ফুট গভীরে বিপিসি’র পাইপ ফুটো করে তেল চুরি!


বিএনএ, চট্টগ্রাম: কথায় বলে ‘লাভের গুড় পিঁপড়ায় খায়’। বাংলাদেশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পাইপলাইন থেকে তেল চুরির ঘটনা এই জনপ্রিয় প্রবাদকে সামনে এনেছে।

মিরসরাই প্রতিনিধি জানায়, মীরসরাইয়ের হাদি ফকির হাট এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জাতীয় তেল সরবরাহ পাইপলাইন ফুটো করে ভয়াবহ তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে।

পাইপলাইনের ওপর টিনের ভাড়াঘর তৈরি করে গোপনে তেল চুরির কর্মকাণ্ড চলছিল দীর্ঘদিন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তেল ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। খবর পেয়ে বিপিসির কর্মকর্তা, মীরসরাই থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিপিসি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত ড্রিল মেশিন, তেলের ড্রাম ও কনটেইনার পাওয়া গেছে ওই ঘরে।

টিনশেড ঘরটির মালিক নুর জাহান প্রায় এক মাস আগে প্রকৌশলী পরিচয়ে খুলনার আমিরুল ইসলাম নামের একজনকে ঘরটি ভাড়া দেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুর জাহানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

অভিনব পদ্ধতিতে ১২ ফুট গভীর পাইপ লাইন ডিল মেশিন দিয়ে ফুটো করে জ্বালানি ( ডিজেল) চুরির ঘটনাটি সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গত বছর ১৬ আগস্ট জ্বালানী পরিবহনের এই পাইপলাইন উদ্বোধনকালে বলা হয়েছিল, কম্পিউটারাইজড ‘SCADA’ সিস্টেম ও আইপি ক্যামেরা বসিয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু মাত্র ৫ মাসের মাথায় এই পাইপ ফুটো করে তেল চুরির ঘটনা ধরা পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মিরসরাই এলাকায় পাইপ লাইন পাহারা দেয়ার জন্য ২৬ জন নিরাপত্তা প্রহরি রয়েছে। তারপরই কীভাবে এই চুরি ঘটনা ঘটছে তা রহস্যজনক। আরও অভিযোগ রয়েছে, বিপিসির কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের টিন সেড ঘরে প্রবেশ করে ছবি সংগ্রহে বাধা দেন।

বিপিসির পরিচালক (অপা. ও পরি.) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান জানিয়েছেন, পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতি ও চুরি হওয়া তেলের পরিমাণ নিরূপণে বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মিজানুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ড. এ কে এম আজাদুর রহমান বলেন, পাইপলাইনের নিরাপত্তার জন্য কিছু স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম কার্যকর থাকার কথা। এরপরও কীভাবে তেল চুরির ঘটনা ঘটলো তা তদন্তে জানা যাবে।

সূত্র জানায়, নদী পথে জ্বালানী পরিবহনে খরচ ও সময় বাঁচাতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অর্থায়নে শুরু হওয়া ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের মার্চে শেষ হয়।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের ২৪২ কিলোমিটার এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের আরও ৮ কিলোমিটার পাইপ বসানো হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লায় পেট্রোলিয়াম ডিপো স্থাপনসহ সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এবং ফতুল্লায় যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের রিজার্ভার বসানো হয়েছে। কয়েক দফা পরীক্ষামূলক প্রস্তুতি শেষ করে গত বছরের ১৬ আগস্ট প্রধান উদ্বোধন করেন জ্বালানি উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মু. হাসান-উজ-জামান।

প্রসঙ্গত, এই পাইপ লাইনে ঘণ্টায় ৩২০ মেট্রিকটন জ্বালানি পাঠানোর সক্ষমতা থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ঘণ্টায় ২৬০-২৮০ টন পাঠানো হচ্ছিল। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গুপ্তখাল থেকে পরিবেশবান্ধব, ঝুঁকিমুক্ত, পরিবহন ব্যয় সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো ও কুমিল্লায় জ্বালানি তেল পাঠানো হয় ওই পাইপলাইন দিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। অয়েল ট্যাংকার যোগে যুগ যুগ ধরে নদী পথে তেল পরিবহণ করা হচ্ছিল। এই জন্য শতাধিক অত্যাধুনিক ডবল হাল অয়েল ট্যাংকার রয়েছে। পরিবহণ করা জ্বালানি সঠিক মাপে বুঝিয়ে দিতে না পারলে জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জাহাজকে কালো তালিকাভূক্ত করে জ্বালানি তেল পরিবহণ পুল থেকে বাদ দেয়ার বিধান রয়েছে। এই অবস্থায় শুধুমাত্র প্রজেক্ট তৈরি করে হাজার কোটি টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করতে এই প্রকল্প হাতে নেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

বিএনএনিউজ/এইচ.এম।

Loading


শিরোনাম বিএনএ