বিএনএ, ঢাকা : বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বিতর্ক গত ৫৫ বছরেও শেষ হয়নি। আওয়ামী লীগের মতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের একমাত্র এবং অবিসংবাদিত স্বাধীনতার ঘোষক । ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত ১২টার পর পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করার ঠিক আগে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণাটি তৎকালীন ইপিআর(বর্তমান বিজিবি) এর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অনেকে বলেন, চট্টগ্রামের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এম. হান্নান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ২০১০ সালের উচ্চ আদালতের একটি রায়কে ভিত্তি হিসেবে ধরে, যেখানে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক ঘোষক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাদের দৃষ্টিতে, মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন পাঠক মাত্র, যিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে ঘোষণাটি পাঠ করেছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মতে তৎকালীন অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক । তাদের মতে, ২৫শে মার্চ রাতে জিয়াউর রহমানই প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন এবং পরে ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার দেওয়া ঘোষণাটিই ছিল প্রথম কার্যকর ঘোষণা, যা দিশেহারা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল ।
২০২৫ সাল থেকে পরিবর্তিত শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানকে ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করা এবং বঙ্গবন্ধুর ‘জাতির পিতা’ উপাধি বাদ দেওয়া তাদের এই অবস্থানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
কিন্তু ৫৫ বছর পর ২০২৬ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি এক জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন যে, চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে কর্নেল অলি আহমদই প্রথম স্বাধীনতার কথা বলে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঠিক তখনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায় বহুল পরিচিত ও বিতর্কিত ইসলামী বক্তা মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম দাবি করেছে তিনিই স্বাধীনতার ঘোষক!
শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার দাবি করে ক্ষান্ত হয়নি নোয়াখালীর মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম। বলেছেন, কোনদিন প্রেসিডেন্ট হলে ঘরে ঘরে রাইফেল দিবেন তিনি।
বৈজ্ঞানিক ইস্যুতে নানা অবৈজ্ঞানিক বক্তব্য দেওয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে ট্রল হয়েছে তাকে নিয়ে। বিশেষ করে তার “স্বপ্নে করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের সূত্র “1.q7+6=13″। তার এমন বক্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বহু হাস্যরস হয়েছে। “ভ্যাকসিন দিয়ে মানুষের শরীরের সব প্রাইভেসি নিয়ে নিচ্ছে”, “টিকা নিয়ে মেয়েরা ছেলে হয়ে যাবে” ইত্যাদি বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিস্তর ট্রল হয়েছে।
কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামে এই ব্যক্তিকে ওয়াজ মাহফিলে নানারকম বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার কারণে বহু মানুষ চেনেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার যেমন বিপুল অনুসারী শ্রেণি রয়েছ, তেমনি তাকে নিয়ে সমালোচনা ও ট্রলও কম নেই।
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানকে আল্লাহর প্রেরিত দুত তথা নবী হিসাবে আখ্যায়িত করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ফতোয়া দেন।
বিএনএনিউজ/শামীমা চৌধুরী শাম্মী/ এইচ.এম।
![]()

