31 C
আবহাওয়া
৩:৪৩ অপরাহ্ণ - মে ৬, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » নবান্নে ফুটল পদ্ম: হাসিনার ফেরা নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু

নবান্নে ফুটল পদ্ম: হাসিনার ফেরা নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু


বিএনএ, ঢাকা:গল্পটা শুরু হয়েছিল লড়াই দিয়ে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাম দুর্গ ভাঙতে মমতার পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তখন তারা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। ২০১১ সালে মমতার নবান্ন দখলের অন্যতম কারিগর ছিলেন এই অধিকারী পরিবার। মেদিনীপুর থেকে মুর্শিদাবাদ— মমতার হয়ে মাঠ চষে বেড়াতেন শুভেন্দু।

YouTube player

 

কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই সুর কাটতে শুরু করে। নেপথ্যে ছিল দুটি বড় কারণ। প্রথমত— মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে দ্রুত উত্থান। শুভেন্দু মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের ডিঙিয়ে অভিষেককে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর দ্বিতীয় কারণ ছিল— প্রশান্ত কিশোর বা পিকের এন্ট্রি। দলের সাংগঠনিক বিষয়ে পিকের খবরদারি মেনে নিতে পারেননি মেদিনীপুরের এই ভূমিপুত্র।”

২৭ নভেম্বর ২০২০ মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন তিনি। ১৬ ডিসেম্বর বিধানসভা থেকে ইস্তফা। আর ১৯ ডিসেম্বর মেদিনীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে অমিত শাহের হাত ধরে মেটালেন রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বাজি— যোগ দিলেন বিজেপিতে। ঘোষণা করলেন, ‘এবার দিদিকে হারাবই!’

“রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে যে ক্ষতের সূচনা করেছিলেন শুভেন্দু, ২০২৬-এর নির্বাচনে তার পূর্ণতা পেল। এবার মমতার শেষ ঘাঁটি ভবানীপুর থেকেও তাকে উপড়ে ফেললেন শুভেন্দু। যে নবান্ন মমতা সাজিয়েছিলেন, সেখানেই আজ ফুটল পদ্ম।

কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, ওপার বাংলার এই পটপরিবর্তনে এপার বাংলায় অর্থাৎ বাংলাদেশেও বইছে আনন্দের জোয়ার। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উল্লাস দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কেন? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা বদলের সাথে বাংলাদেশের রাজনীতির সম্পর্কটা কোথায়? জানতে হলে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।”

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অনেক চড়াই-উতরাই আমরা দেখেছি। বিশেষ করে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তিতে মমতার দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও এক ধরনের অতৃপ্তি তৈরি করেছিল। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন, দিল্লিতে মোদি সরকারের সাথে নবান্নে বিজেপির এই নতুন সমীকরণ হয়তো তিস্তার অচলাবস্থা কাটাতে সহায়ক হবে। আওয়ামী লীগ শিবিরের অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই জয়কে স্বাগত জানাচ্ছেন। কিন্তু কেন?

১০ ডিসেম্বর, ২০২৪। শুভেন্দু অধিকারী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের “বৈধ প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার ফেরার বিষয়ে অত্যন্ত জোরালো মন্তব্য করেছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতন এবং ‘বঙ্গীয় হিন্দু রক্ষা সমিতি’র ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

পশ্চিমবঙ্গের এই অবিশ্বাস্য রাজনৈতিক পালাবদল এখন গোটা উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় চমক। একদিকে মমতার অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি, অন্যদিকে বিজেপির নতুন দিগন্ত। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ‘ওপার বাংলা’র এই পরিবর্তন কি সত্যিই ‘এপার বাংলা’ তথা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কুটনৈতিক অচলায়ন ভাঙ্গবে? এবার কী তিস্তার জল বাংলাদেশে গড়াবে ? নাকি এটি কেবলই রাজনীতির গাণিতিক সমীকরণ?

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ