25.4 C
আবহাওয়া
৫:৪০ অপরাহ্ণ - জুলাই ৫, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » জুলাই CDI কেন লিখলেন শাওন?২ লাখ টাকা পুরস্কার আম্মারের!

জুলাই CDI কেন লিখলেন শাওন?২ লাখ টাকা পুরস্কার আম্মারের!


বিএনএ, ডেস্ক : সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি শব্দ এখন রীতিমতো পারমাণবিক বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়েছে! শব্দটি হলো—’জুলাই সিডিআই’। জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের একটি ফেসবুক পোস্টের পর থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুলকালাম কাণ্ড। একদিকে শাওন, মাহিয়া মাহিদের মতো তারকারা বলছেন, এটি তথাকথিত সুশীলদের ভণ্ডামির জবাব। অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা সালাউদ্দিন আম্মারসহ জুলাই বিপ্লবের সৈনিকরা বলছেন—এটি শহীদদের রক্তের সাথে চরম বেইমানি! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা রেজিমের পতনের পর কী এমন ঘটলো যে আজ মানুষ আবার রাজপথে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এভাবে মুখোমুখি? ড. ইউনূস সরকারের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা আর অর্থপাচারের অভিযোগ কি আ্ওয়ামী লীগকে আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ করে দিল?

YouTube player

প্রেক্ষাপটটা বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছনে ফিরতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই মাস। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান। শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের লৌহমানব রেজিমের অবসান ঘটেছিল মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে। শত শত শিক্ষার্থীর রক্ত,  আত্মত্যাগ আর পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। দেশের দেয়ালে দেয়ালে লেখা হয়েছিল নতুন স্বাধীনতার স্লোগান, আঁকা হয়েছিল স্বৈরাচার বিরোধী গ্রাফিতি। মানুষের মনে আশা ছিল—এবার হয়তো এক নতুন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের জন্ম হবে।

কিন্তু শেখ হাসিনা রেজিমের পরিবর্তনের পর ক্ষমতার মসনদে বসেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দেশবাসী বুক বেঁধেছিল নতুন আশায়। কিন্তু মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানেই সেই আশায় গুড়েবালি! ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।  সমালোচকরা বলছেন, ড. ইউনূস সরকার যখন দেশবাসীকে অর্থ পাচার রোধের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ওপর চড়াও হচ্ছিল, ঠিক তখনই তাদের নাকের ডগা দিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা সুইজারল্যান্ড, কেম্যান আইল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের মতো ট্যাক্স হ্যাভেনে পাচার হয়ে গেছে।

এই অবস্থায় ক্ষমতাসীন হয়েছে বিএনপি। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, লোডশেডিং সাধারণ মানুষকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছে—আমরা কি তবে একটি স্বৈরাচার তাড়াতে গিয়ে আরেকটি অযোগ্য এবং দুর্নীতিবাজ চক্রের হাতে দেশ তুলে দিলাম?  জুলাই আন্দোলন গণমানুষের আন্দোলন ছিল না- এটি ছিল একটি প্রভাবশালী দেশের হাসিনা রেজিম পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র। যার কারণে আন্দোলনের সুফল জনগণ পায়নি এমনটাই মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীন সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশীদ।

ঠিক এই চরম জনঅসন্তোষের সুযোগটাই নিয়েছে শেখ হাসিনা রেজিমের সমর্থকরা, আর এতে ঘি ঢেলে দিয়েছেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন! শাওন তাঁর ফেসবুক পোস্টে সরাসরি #জুলাই সিডিআই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বসেন।

সিডিআই মূলত একটি অত্যন্ত কুৎসিত ও আপত্তিকর গালির শর্টফর্ম, যা জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষ করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শাওন ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে দেয়ালে যেসব নোংরা গ্রাফিতি লেখা হয়েছিল, প্রবীণ নেত্রীদের অন্তর্বাস উঁচিয়ে যারা উল্লাস করেছিল, তখন যাদের সুশীলতা বা শালীনতায় লাগেনি, আজ একটি ইংরেজি শব্দ ‘সিডিআই ‘ লেখাতে তাদের খুব লাগছে! পরবর্তীতে এর ব্যাখ্যা দেন  অভিনেত্রী শাওন। তিনি মনে করেন,মুক্তিযৃদ্ধ  ও মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস মুছে দিতে ষড়যন্ত্র করতেই জুলাই ২৪ আন্দোলন করা হয়েছে। যার অগ্রনায়ক ড. মুহাম্মদ ইউনূস!

কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিরা এই আক্রমণ মুখ বুজে সহ্য করেনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহ উদ্দীন আম্মার এই সুশীলীয় পোস্টের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শাওনকে শারীরিক লাঞ্ছনা বা ‘জুতা মারার’ জন্য আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক পোস্ট করেছেন।

পহেলা জুলাই রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মার ঘোষণা করেন, মেহের আফরোজ শাওনকে যে ব্যক্তি জুতার বাড়ি মারতে পারবে, তাকে তিনি ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেবেন। তিনি পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, জুতার আঘাতে যদি শাওনের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের করে দেওয়া যায়, তবে পুরস্কারের পরিমাণ হবে ২ লাখ টাকা।  একই পোস্টে আম্মার হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, কেউ যদি এটিকে মব জাস্টিস বা ‘মব উস্কানি’ বলতে আসে, তবে তাকেও ভরা বাজারে পেটানো হবে।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তীব্র সমালোচনা চলছে এবং অনেকেই একজন ছাত্রনেতার কাছ থেকে এমন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রকাশ্য উস্কানিকে ‘সন্ত্রাসী আচরণ’ বলে আখ্যায়িত করছেন

এই বিতর্ক কিন্তু শুধু শাওন আর আম্মারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশের বিনোদন ও গণমাধ্যম জগতও এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ভিডিও বার্তা দিয়ে মেহের আফরোজ শাওনের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন এবং একে সাহসের প্রতীক বলেছেন। অন্যদিকে জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী অত্যন্ত কড়া ভাষায় শাওনের এই পোস্টের সমালোচনা করে বলেছেন, শিল্পীরাও যে কতটা অমানবিক, রুচিহীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন হতে পারেন, এই পোস্ট তারই প্রমাণ!

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, এই ‘জুলাই সিডিআই’ বিতর্ক তারই একটি চরম বহিঃপ্রকাশ।

বিএনএ/ ওজি

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ