30 C
আবহাওয়া
৫:০৭ অপরাহ্ণ - মে ৪, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » শেখ হাসিনার অন্দরমহলে জামায়াতের ‘গুপ্তচর’?

শেখ হাসিনার অন্দরমহলে জামায়াতের ‘গুপ্তচর’?


বিএনএ , ঢাকা: ৫ই আগস্ট, ২০২৪। একটি সাম্রাজ্যের পতন। কিন্তু এই পতনের বীজ কি কেবল রাজপথেই বপন করা হয়েছিল? নাকি খোদ গণভবনের অন্দরমহলে ঘাপটি মেরে ছিল এমন কিছু মানুষ, যারা দৃশ্যত অনুগত থাকলেও তলে তলে খুঁড়ছিলেন পতনের সুড়ঙ্গ? শেখ হাসিনা কি জানতেন তার ছায়ার মতোই পাশে থাকা মানুষগুলোই তাকে রাজনৈতিকভাবে নিঃস্ব করছিলেন? আজকের এই প্রতিবেদনে জানাব কারা ছিল গণভবনের সেই ‘গুপ্ত বিশ্বাসঘাতক’?

YouTube player

শেখ হাসিনার অত্যন্ত বিশ্বস্ত বলয় হিসেবে পরিচিত ছিলেন দুই ব্যক্তি। একজন দীর্ঘদিনের স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম, অন্যজন তুখোড় সংবাদকর্মী ও প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি নীতি নির্ধারণী আলোচনার সাক্ষী ছিলেন তারা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই বিশ্বস্ততার আড়ালেই চলছিল ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকতা।

প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর তার ফেসবুক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে ওলটপালট করে দিয়েছে সব সমীকরণ। তার দাবি, স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত স্পর্শকাতর নথিপত্র পাচার করতেন। অন্যদিকে, প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে উঠেছে জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ডদের সাথে গোপন আঁতাতের অভিযোগ। আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর পেছনের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি এই দাবি করেন।

সৈয়দ বোরহান কবীর তাঁর পোস্টে দাবি করেন, শেখ হাসিনার প্রেস উইং ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সবচেয়ে বড় ‘গুপ্ত বাহিনী’। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সব গোপন তথ্য পাচার করতেন।

সাবেক প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানের নিয়োগ ও ভূমিকা নিয়ে পোস্টে কড়া সমালোচনা করা হয়। বোরহান কবীর উল্লেখ করেন, শেখ রেহানার সিদ্ধান্তে নাঈমুল ইসলাম খানকে প্রেস

সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব তথ্য জামায়াতের কাছে চলে যেতে থাকে। সরকারের প্রতিটি মুভমেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি চিন্তা পাচার হয়ে যাচ্ছিল বিপক্ষ শিবিরের কাছে। গণভবনের ড্রয়িংরুমে বসে তিনি কি তবে আন্দোলনের ‘গাইডলাইন’ দিচ্ছিলেন?

পোস্টে আরও দাবি করা হয়, জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে নাঈমুল ইসলাম খানই ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে সরকারের ভেতরের যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেছেন। ওই সময়

সাংবাদিক জিল্লুর রহমান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং আলী রীয়াজের সঙ্গে নাঈমুল ইসলাম খানের নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান হতো। সরকারের ভেতরের এসব তথ্য পাচারের কারণেই আওয়ামী লীগ দ্রুত বিপদের দিকে এগিয়ে যায় বলে সাংবাদিক বোরহান কবীর তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

অভিযোগের আঙুল আরও গভীরে। বলা হচ্ছে, নাঈমুল ইসলাম খান কেবল আন্দোলনের সাথে নন, বরং জামায়াতে ইসলামীর সাথেও তথ্য আদান-প্রদান করতেন। একজন তুখোড় সেক্যুলার সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির এই ‘ডাবল গেম’ কি কেবলই ক্ষমতার পালাবদলের আভাস পেয়ে, নাকি এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদী কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ?

সৈয়দ বোরহান কবিরের  তথ্যে সত্যতা পাওয়া যায়  প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের এক ভিডিওতে । তিনি দাবি করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব ও সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের মাধ্যমে বা সহযোগিতায় দেশ থেকে পালিয়েছেন।

কট্টর আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের এই বক্তব্য অসত্য বলে দাবি করেছেন ডা. তাহের।

প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব  সাংবাদিক নাঈমুল ইসলামের বাবা নুরুল ইসলাম ছিলেন রাজকার তথা ৭১ সালে শান্তি কমিটি সদস্য।  জামায়াতের কাছে তথ্য পাচারে তথ্য ফাঁস হওয়ার পর তার পারিবারিক পরিচয়ও সামনে এসেছে।

ইতিহাস বিজয়ীর কথা বলে, কিন্তু অন্দরমহলের এই বিশ্বাসঘাতকতার গল্পগুলো থেকে যায় মহাফেজখানায়। গণভবনের দেয়াল হয়তো অনেক কিছুই জানে, যা এখনো অপ্রকাশিত। হয়ত এক সময় এই অপ্রকাশিত সত্য গুলো বেরিয়ে আসবে।

রাজনৈতিক অঙ্গণে এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— নাকি ‘স্পিচ রাইটার’ আর ‘প্রেস সচিব’ নামের এই মুখোশগুলোই ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মূল কারিগর?

বিএনএ/ সৈয়দ সাকিব

 

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ